পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

"অ" তে অটোরিক্সা, "আ" তে আতিক

সকাল সকাল অটোরিক্সা চালকের সাথে একটা ঝগড়া হয়ে গেল।

সাধারণত বাংলার টেসলা খ্যাত অটোওয়ালাদের সাথে আমি গ্যাঞ্জাম করি না। এরা রাস্তার ডাকু, যেকোন সময় মাইর দিয়া বসতে পারে। ভাল মানুষদের সমস্যা তারা এক জোট হতে পারে না। আর বদমাইশেরা সর্বদা পাপ কাজের জন্য দলবেঁধে চলে। ঢাকায় এরা এখন দলবেঁধে পুলিশ আর বাইকার পেটায়, রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করে। বিচিত্র দেশ আরো বিচিত্র হয়ে গেছে।... না বলা উচিত বিচি কান্ধে উঠেছে!

রাস্তা পারি হইতেসিলাম, একটা গাড়ি আইসা পড়ায় তারে সাইড দিয়া হাঁটতেসি, এই বাইঞ্চুত পিছন থেকে ট্যাঁ ট্যাঁ করা শুরু করসে। এমনেই ঘুম ভালো হয় নাই, তার উপর এই সাউন্ডের অত্যাচার। জিগাইলাম, এই শালা ট্যাঁ ট্যাঁ করো কেন?

- হর্ন না দিলে যদি লাইগ্যা যাই তাইলে তো আমারে চোদন দিবেন।
- একবার দিলে হয় না? তুই দেখস না আমি পার হইতেসি। আমি কি রাস্তার মাঝখানে আছি যে তুই হর্ন দিয়াই যাইতেছিস।
- তো হর্ন দিমু না? লাইগ্যা গেলে তো আপনি আমারে চোদন দিবেন।

ধুর বাল। এই শালাতো চোদন বাদে কথাই কয় না। "এই তুমি আসছ কোথা থেকে?"

- দিনাজপুর।
-ওহ...। আমি অনেক কষ্টে রাগ সংবরন করলাম। দিনাজপুরে কোন গার্লফ্রেন্ড আছিল কিনা মনে করতে পারতেসি না। এই হারামজাদার বডি দেইখা আর মারামারিতে গেলাম না। কোনভাবেই এই শালা রিক্সা চালাইত না আগে। গায়ে চর্বি আর মাসল দুইটাই আছে।

আমি সমঝোতার জন্য তার কাঁধে হাত রাখতেই সে বলল- "গায়ে হাত দেন ক্যান?"

সকাল সকাল বাইর হইসি, ঘুষি দিতে গিয়াও দিলাম না। এখন মারমারি করা যাবে না। এই শালাদের চোদনে রাস্তায় হাঁটাও মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। যেদিকে তাঁকাই টেসলা আর ট্যাঁ ট্যাঁ শব্দ।

আমারে রক্ত চক্ষু দেখাইয়া সে বিড়বিড় কইরা গালি দিতে দিতে প্যাসেঞ্জার নিয়া চলে গেল।

এর পরে গেলাম আতিকের সাথে দেখা করতে। সে মিরপুর ডিওএইচ এর ভিতরে থাকে। পুরাটা রাস্তা জুড়ে অটোরিকশার ট্যাঁ ট্যাঁ শুনার পরে ডিওএইচ আইসা কিছুটা কানের শান্তি পাইলাম। শব্দ দূষন এক লাফে ৬০ ভাগ কমে গেল। মনে পড়ে গেল সেই বিখ্যাত ডায়লগ, পরিবেশটা সুন্দর না? 

আতিক পোলাটা একটু রেসিস্ট। দুই-তিনবার ছ্যাকা খাওয়ার পর এখন পুরাই নারী বিদ্বেষী। দুনিয়ার কোন সুন্দরীকেই সে দেখতে পারে না। আমারে দেইখা সে খুশি হইল না বেজার হইল বুঝা গেলো না। সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে বলল, বুঝছিস, পুরুষের সবথেকে বড় শত্রু হইল তার চ্যাট।

- আর মেয়েদের কোনটা?
- ওদের প্রথমে পেট তারপর চ্যাট।
- মেয়েদেরও চ্যাট আছে?

আতিক খুব কুৎসিত একটা গালি দিলো। এইটা লেখার অযোগ্য।

- ওরা পেট ভরা থাকলে চ্যাটের চিন্তা করে না। আর পেট ভরা না থাকলে চ্যাট ব্যবহার করে।

আমি এহেন বিচার বিবেচনায় পুরাই চোদনা হয়ে গেলাম। আজকে চোদন দিবস মনে হচ্ছে।

- আবার ছ্যাকা খাইছিস?
- ছ্যাকা খাবো কেন? আমি এখন ফাকবয়।
- ফাকবয় কি করে?
- চ্যাট করে।

ধুর বাল। এই হালায়তো খালি জ্ঞান কপচাইতেসে। আতিকের কাছ থেকে কিছু টাকা পাবো। দেই দিচ্ছি করেও দিচ্ছে না। নাইলে এই বালের আলাপ দেয়ার জন্য আমি এতদূর আসতাম না। আমি সবজান্তার ভঙ্গিতে মাথা নাড়লাম।

আতিকের কিছু কুখ্যাত জ্ঞানগর্ভ বাণী আছে -

- যে মাইয়ারা লিপস্টিক দেয় আর গায়ে সাদা পাউডার মাখে তারা দেখতে কুৎসিত।

- যাদের পরিবারে বাপের-থেকে মা বেশি গরম, এইরকম পরিবারে বিবাহ করা যাবে না। জীবন ত্যাজপাতা করে ফেলবে।

- হাই-হিল পরা মাইয়ারা সাধারণত বেকুব হয়।

- যারা ডেটে গেলে বয়ফ্রেন্ডের বিল দেয় না, তারা ব্লোজবও দিতে চায় না। এদের থেকে দূরে থাকতে হবে।

- মেয়েরা ভদ্র ছেলেদের পাত্তা দেয় না। তারা খালি ফাকবয় খোঁজে।

- বিবাহিত আর সুখী এই দুইটা জিনিস এক সাথে হয় না। 

আতিক অবশ্য বিবাহ না করেই অনেক বিবাহিত লোককে জ্ঞান দিয়ে বেড়ায়। তার ভাষ্যমতে, বিবাহিতরা অন্যদেরকেও একই রকম মারা খেতে দেখতে চায় বলেই সত্য বলতে চায় না। 

এই ছেলের সাথে বেশিক্ষন আড্ডা দিলে আমি নিজেও ফেমিনিষ্ট হয়ে যাব।

 

ইদ সমাচার ২০২৫

শামরে দেখাইয়া দেখাইয়া দিলীপরে ২০০ টাকা দিলাম। ঈদ সেলামির জন্য সে আমার সাথে বেশ মধুর ব্যবহার করতেসে। একবার সালামও দিসে। জিগাইলাম, তুমি না মালাউন, সালাম দাও কেন?

শাম নির্বোধের মত হাসি দিলো। তার ফাঁকা দাঁতের মাঝখান দিয়া বাতাস বের হয়ে যায় দেখে বেশিরভাগ কথাই আমি বুঝতে পারি না। কিন্তু তারে এইবার আমি বখশিস দেবো না ঠিক করেছি। গত মাসে শাম আমার কাছ থেকে ২০০ টাকা ধার নিসে, আজও ফেরত দেয় নাই।

যখনই বখশিস চায় আমি বলি আগে ধারের টাকা ফেরত দাও তারপর বখশিস পাবা। শামের কালা মুখ দেখতে বড়ই আনন্দ লাগতেসে। সে মনে করসে আমি একটা গাভি আমারে যখন খুশি দোহন করা যাবে। যারা ধারের টাকা ফেরত দেয় না তারা চুদির ভাই। শাম একটা চুদির ভাই।

রাস্তায় বের হয়ে মনে হল ঢাকা একটা জাহান্নাম। ইদ হচ্ছে আত্মীয় স্বজনের বাসায় গিয়ে মোলাকাতের দিন, বাচ্চালোকদের সালামি সংগ্রহের দিন। কিন্তু তার বদলে বেবাক মানুষ রাস্তাঘাটে বের হয়ে কি সব অদ্ভুত মিছিল করতেসে। 

ঈদের নামাজ শেষে এরা আনন্দ মিছিল বাইর করসে। মিছিলে আবার ভ্যানের উপর কয়েক পিস মূর্তিও দেখা যাচ্ছে। একটা মূর্তিতে আবার গাধার পিঠে উল্টা বসা একজন মানুষ। এইটা কি হোজ্জার কাল্পনিক গল্পের অনুকরণে বনাইসে নাকি কে জানে! বড়ই উর্বর মস্তিস্কের লোকজন দেখা যাইতেসে ঢাকার রাস্তায়। এরা নাইচা গাইয়া বলতেসে স্বাধীন স্বাধীন...। কে স্বাধীন, কিসের স্বাধীন কিছু বুঝা যাচ্ছে না। এইটা নাকি সুলতানি আমলের ইদ আনন্দ উৎসব। এখন ইউনুস সুলতান হইলে অবশ্য কথা ঠিক আছে। এই গাধার পিঠে বসা মানুষটারে অবশ্য ইউনুসের মত লাগতেসে না। জামায়াতের জিন্দা অলির মত লাগতেসে অনেকটা। হোজ্জারে দেখি নাই কোনদিন, তার সাথে মিল আছে কিনা জানি না।

মাঝখান থেকে আমার স্যান্ডেল গায়েব হয়ে গেলো নামাজে এসে। কি বিচিত্র স্বাধীন দেশে আছি।


কবরস্থানে যাইতে হবে। এইটা একটা দেখার মত জায়গা। ইদের সময় সবাই তাদের অতি প্রিয়জনদের একবার হলেও শুভেচ্ছা জানাতে যায়। অপরপাশে শুভেচ্ছা না পৌছালেও মাটির খুব কাছাকাছি গিয়ে জানান দেয়, হে প্রিয়জন আমি এসেছি। আমার আনন্দের দিনেও তোমাকে ভুলি নাই, তুমি ভাল থাকো। এই মানুষগুলার চেহারা দেখতে আমার খুব ভাল লাগে।

মাসুদরে সকাল থেকে দেখতেসি না। তারও খোঁজ খবর নেয়া দরকার। রমজান মাস শেষে তারও স্বাধীনতা পাবার অধিকার আছে। হাজার হোক আমরা সবাই মানুষ! তারে সালামি দিতে হবে। 

এরপর বাসায় গিয়া একটা ঘুম দিতে হবে। সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে আবার শুরা পানের দাওয়াতে যেতে হবে। এজন্যই কবি ওমর খৈয়াম বলেছেন, 

এইখানে এই তরুর তলে
তোমার আমার কৌতুহলে,
যে ক’টি দিন কাটিয়ে যাবো প্রিয়ে-
সঙ্গে রবে সুরার পাত্র
অল্প কিছু আহার মাত্র
আরেকখানি ছন্দ মধুর কাব্য হাতে নিয়ে।
 
এই কবির নামের সাথে কেন যে 'খৈ' আর 'আম' দুইটা জিনিস লাগাইসে বুঝি না। তার পিতা-মাতা নিশ্চয়ই সুলতানি আমলে বাংলায় এসেছিলেন। সেইখান থেকেই এই নামকরন।