পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আড়ং নাকি ভড়ং

আড়ং কে আমি বলি ভড়ং। এইটা মনে হয় উন্মাদ পত্রিকা থেকে আমার মাথায় ঢুকসে। বউয়ের সাথে অনেকবার গেসি। সায়েন্সল্যাব, বসুন্ধরা সিটি এই দুই ব্রাঞ্চেই বেশি যাওয়া হয়েছে। আমার কাছে সবসময়ই এই ব্র্যান্ডকে ওভাররেটেড মনে হইসে।

আমি আসলে ছয়-সাত হাজার টাকা দিয়ে পাঞ্জাবি কিনার পাবলিক না। এরা যে সকল জামাকাপড় বেচে সেগুলা খুবই বেসিক ডিজাইনের হয়, কিন্তু দাম থাকে চড়া। নিউমার্কেটে একটু খুঁজলেই এর থেকে কমে ভাল জিনিস পাওয়া যায়।

তবে নারীকুলের কাছে আড়ং অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেহেতু লম্বা সময় ধরে এরা বৃহৎ একটা নারীসমাজকে মুগ্ধ করে রাখতে পেরেছে তার মানে এদের ডিজাইন এবং কাপড় নারীদের ভালো লাগে। নাইলে এতদিন ধরে উচ্চমধ্যবিত্তদের এরা মুগ্ধ করে রাখতে পারত না। তবে উচ্চ মূল্যে এসির বাতাস খাইতে খাইতে শপিং আমার সহ্য হয় না।

বর্তমানে অনলাইনে এদের একটা নেগেটিভ মার্কেটিং চলতেসে। এরা শপিং করার পর আর কমলা কালারের ব্যগটা ফ্রিতে দিচ্ছে না। বাংলাদেশের স্বপ্ন, মিনাবাজার, ইউনিমার্ট এরাও এখন আর ফ্রিতে ব্যাগ দিচ্ছে না। আমি বেশিরভাগ সময়ে নিজের ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাই অথবা বাজারের ব্যাগ। ব্যাগ না দিলেও আমার কিছু যায় আসে না।

কিন্তু আড়ংয়ের এই ব্যাগ না দেয়াতে নারীসমাজ অনলাইনে মহা শোরগোল তুলেছে। কিন্তু তাদের খুব অল্পজনকেই বলতে দেখলাম আড়ং এ আর শপিং করতে যাব না। চার-পাঁচ হাজার টাকার ধরা খেয়ে এরা বিশ-পঞ্চাশ টাকার অধিকার আদায় করতে চায়।

কি সেলুকাস। দেশে কি আর কেউ কাপড় বিক্রি করে না? 

এই দেশে বেগম রোকেয়ার মুর‍্যালে কালি লেপে দেয় আরেকজন নারী। এই দেশে নারীদের একটা অংশই বাকিদেরকে নিজের মত করে চলতে বাধা দেয়।

নারী তুমি চিন্তায় আর মননে স্বাধীন হও। অতীতের দাসত্ব থেকে মুক্ত হও। খালি ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে বইলা একটা জায়গা থেকে শপিং করতে হবে এই ধারনা থেকে বের হও। দামী জামাকাপড় পরলেই তুমি অসাধারণ হতে পারবা না। মানুষের দাম নির্ধারন হয় কর্মে আর ঘিলুতে।

 

- সারকাজম বিবর্জিত লেখা
- জনৈক মুরুব্বী 

 

একলা মানুষ

একা একা নাকি মাল খাইতে যাওয়া ঠিক না! - এই নিয়ম আমি অনেকদিন মেনে চলছি। যখনই মাল খেতে যেতাম কাউকে সঙ্গে নিয়া যেতাম।

তবে অন্য কাউকে সাথে নিয়ে গেলে একটা সমস্যা হয়, কেউ বিল দেয়ার সময় পকেটে হাত দিতে চায় না। বাঙ্গালী ফ্রি খাওয়ার অভ্যাসে সবাই ছোটবেলা থেকেই অভ্যস্ত। স্কুলে টিফিন টাইমে আইস্ক্রিম আর ঝালমুড়ি খেতে গিয়া সেটা শেখা হয়ে গেছে।

যখন দেশের বাইরে ছিলাম, বারে গিয়া বসলেই কারো না কারো সাথে আলাপ জমে যাইত। সে নিজের বিল দিত আমি আমারটা। মাঝে মধ্যে এক-দুইটা ফ্রেন্ডলি ড্রিংক অফার করতাম। 

কিন্তু দেশে এসে পড়ছি মহা বিপদে। এখানে কাউকে সাথে নিয়ে যেতে হয়। কারন ড্রিংক করার পরে মনের ম্যালা কথা বাইর হইয়া আসতে চায় কিন্তু বলার মত কেউ থাকে না। আর বাঙ্গালী মনে করে তারে যেহেতু আমি সাথে নিয়া আসছি, তার মানে পুরা বিল আমিই দিব।

এইবার রাগ করে তাই একাই ড্রিঙ্ক করতে চলে গেলাম চালু একটা বারে। ধুম ধাম মিউজিক বাজতেসে। দেশি-বিদেশী সকল গানরে রেপ করে ছাড়তেসে। লাইভ জাহান্নাম যারে বলে। যদিও লোক নাই তেমন। ড্রিংকের দামও প্রচুর। এইদিক থেকে বাংলাদেশ টপে আছে। মালের কোয়ালিটি ভাল না কিন্তু দামের বেলায় মনে হয় স্কটল্যান্ডে বসে আছি।

কিছু হুজুর দেখলাম সুন্নতী দাড়ি নিয়া বসে আছে। মনে হয় কর্পোরেট লাইফের ক্লান্তি এড়াতে তারা দিন শেষে এইখানে আসে। ঢুকার সময় একজনরে লম্বা সালাম দিলাম। যদিও সে উত্তর দিল না। বারে নানা রকমের মাতালের দেখা যায়। এইখানে সালামের জবাব দিলে সমস্যা।

কয়েকজন নারী দেখলাম বেশ মেকাপ নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। তারা মাল খেতে আসে নাই। যারা মাল খেতে আসছে তাদের রাতের সার্ভিস লাগলে দিতে আসছে। পৃথিবীর আদিমতম পেশায় তারা নিয়োজিত। আমি এদের সাথে চোখাচোখি হওয়া থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করলাম। মানুষ কত অসহায় সভ্যতার কাছে। দিনের বেলায় সে হয়ত খুব পর্দার সাথে চলাফেরা করে, কিন্তু রাতে অর্থ উপার্জন করতে তাকে অচেনা মানুষের কাছে ন্যাংটা হতে হয়।

মালের অর্ডার দিয়ে বসে আছি আর এইসকল উচ্চমার্গীয় হাবিজাবি চিন্তা করতেসি। একলা দেশের বারে আসার কোন অভিজ্ঞতা নাই আমার। শুনেছি মাঝে মধ্যে নাকি পুলিশের রেইড পড়ে। পুলিশ মাতালদের ধরে থানায় চালান করে দেয়। যারা টাকাপয়সা দিতে পারে তারা পুলিশের গাড়ি থেকেই জামিন নিয়ে চলে যায়।

জীবন যেখানে যেমন। টাকার কাছে সবাই ন্যাংটা। Everyone has a price. 

জীবনের কঠিন ডিসিশন একা নিতে হয়। আমি বর্তমানে সেই পর্যায়ে আছি। কয়দিন আগে এক নব্য প্রেমিকের সাথে কথা হচ্ছিল। সে ইনিয়ে বিনিয়ে তার গার্লফ্রেন্ডদের কথা বলছিল আমাকে। আমি বিশেষ আগ্রহ না দেখানোতে তার কিছুটা মন খারাপ হয়।

আসলে এই মধ্য বয়সে এসে কচি কচি মেয়েদের পিছনে নষ্ট করার মত সময় আমার নাই। এই আচোদা যেই লাইফ পার করতেসে সেটা আমি ভার্সিটি থাকতেই শেষ করে এসেছি। সে কার সাথে কয়বার শুইসে সেটা শুনে আমার কি লাভ? যেই জিনিস টাকা দিলেই কিনতে পাওয়া যায়, সেটার পিছনে নাটক করে মাসখানেক সময় নষ্ট করার কোন প্রয়োজন দেখি না। 

বাঙ্গালী পুরুষ এবং নারী উভয়েই বিছানায় যাবার আগে নানা ভণিতা করে। ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের পর এরা বয়ফ্রেন্ডরে বলে - আমারে বিয়া করবা কবে?

এই বালের আলাপের থেকে দুইপেগ হুইস্কি খাওয়া ভালো। আমি শুন্যে গ্লাস তুলে ত্রিশ পার হওয়া সকল আচোদা বাঙ্গালীর মানসিক স্বাস্থ্যের কল্যান কামনা করলাম। যারা এখনও বোতলের ছিপি খোলে নাই, তাদের জন্য সমবেদনা।

 

 

 

সেক্সুয়াল ফ্রাস্টেশন অথবা ভালোবাসার অভাব

সদানন্দের সাথে ঘুরতে বের হওয়ার সমস্যা হচ্ছে সে বেশি কথা বলে। তার কথার জবাব যদি "সম্মতিসূচক হ্যাঁ" না হয় তবে সে একই কথা বারবার বলতে থাকে।

নতুন বাচ্চা হবার আগ থেকে এখন পর্যন্ত সে বউয়ের সাথে ইণ্টিমেট হতে পারছে না। বিশাল স্যাক্সুয়াল ফ্রাস্টেশনে ভুগতেসে।বেশ কয়েকবার আমাকে বলার চেষ্টা করেছে আরেকটা বিয়া করা দরকার। আমি তাকে আড়ালে আবডালে বলার চেষ্টা করেছি সেক্স করার জন্য বিবাহ করার দরকার নাই। কিন্তু সে কথাটা কানে নেয় না। যা করবে হালাল ভাবেই করতে চায়।

যদিও আমি জানি সুযোগের অভাবে বাঙালী সৎ থাকে। 

গেলাম পূর্বাচল ঘুরতে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলে বসে সে কথার তুবড়ি ছোটাল। কিছুদূর যেতেই রাস্তার পাশে একটা মেয়ে গাড়ি থামিয়ে আরেকজনের সাথে তর্ক করছে দেখে সে গতি কমিয়ে ফেলল।

- দেখেছিস... মনে হয় রেটে বনিবনা হচ্ছে না।
- হু... মনেতো হচ্ছে এইটা ওই মেয়ের ড্রাইভার।
- আরে না... বয়ফ্রেন্ড হতে পারে। 

আমি বলি, এখন তুই কি করতে চাস? বয়ফ্রেন্ড হোক বা না হোক, তাতে আমাদের কি? তুই সোজা গাড়ি চালা।

সদনন্দ কিছুদূর গিয়ে আবার গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে আসে। আমাকে বলে জানালা খোল দেখি কি বলে। মনে হয় সাহায্য দরকার।

আমি বিরক্ত হলেও কিছু বলি না।  যদিও আগের জায়গায় গিয়ে সেই গাড়ি আর মেয়ে কাউওকেই পাওয়া গেলো না।

- মনে হয় সব ঠিক হয়ে গেছে।
- ঠিক না হলে কি করতি?
- আরে কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করতে হবে না?

ভোমা এতক্ষন পিছে বইসা সব শুনতেসে। সে এইধরনের সেক্সুয়াল আলাপে যোগ দেয়না। তবে পরে নিশ্চিত  আমার কাছে বিচিং করবে। 

তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে বের হইলে সবচেয়ে বেশি ডিস্টার্ব দেয় সদানন্দ। ভোমা আর আমি অনেকবার লালপানি খাওয়া মুলতবি করেছি সদার কারনে। ইদানিং তার মাইয়ার নেশা হইতেসে খুব। অবশ্য বয়স চল্লিশ পার হইলে সব ব্যাটা মাইনষেরই এই রোগটা হয়। বউ আগের মতন জোয়ান থাকে না, আবার বিবাহিত জীবনকে পানসে মনে হয়।

এরপর আমরা গেলাম গুলশানে। এইখানে নাকি গাড়িওয়ালা ভাবিরা দেশি চিপস কে আমেরিকান স্টাইলে চানাচুরের মত মশলা দিয়ে বানায়া দেয়। ভাবিরা নাকি দেখতে খুবি সুন্দরী!

সদার পিড়াপিড়িতে সেখানেও যাইতে হল। গিয়া দেখি এক বিগত যৌবনা মুটকি মহিলা এই রাতের বেলাতেও গাড়ি নিয়ে বসে আছে হকারের মত।

ছোটবেলায় আমাদের চকবাজারে শুক্রবারে একটা সাদা রঙের গাড়ি নিয়ে দুই লোক আসত। তারা নানা কিছু রাস্তায় বসিয়ে মজমা জমাত। তারপর সেখানে গোপন রোগের বর্ননা করে শান্ডার তেল বিক্রি করত। বাঙালী এমনিতেই গোপন রোগের জন্য ডাক্তারের কাছে সহজে যায় না। এরা এইসব বালছাল কিনে খায় আর আশায় থাকে তার গোপনাংগ লোহার মত শক্ত হবে।

আমি মাঝেমধ্যে হাতে কাজ না থাকলে রঙিন ছবি দেখার আশায় এই মজমা দাঁড়িয়ে দেখতাম। 

এই বালের আন্টিকে দেখার জন্য সদা নিয়ে আসছে বলে তারে কিঞ্চিত ভর্ৎসনা করলাম। সদা বলল আজকে আন্টিদের সংখ্যা কম।

- তুই তাইলে গিয়া মোড়ে দাঁড়ায়া থাক। আমি শুনেছি এইখানে অতৃপ্ত ভাবিরা ছেলেদের পিক করে। ওরা শুধু ছেলেদের দেহ চায়। 
সদা বিরস বদনে বল, ওরা ইয়াং পোলা চায়। আমারা বুড়া হইয়া গেছি।

ভোমা বলল, ঠিক আমরা বুড়া হয়ে গেছি। এখন আমাদের থাইল্যান্ডে গিয়ে থাই মাসাজ নিতে হবে।

আমি শুধু বললাম, ল্যাওড়া মাসাজ। সব খালি লাগানোর ধান্দা। এর থেকে  গ্লোরিয়া জিন্সে গিয়ে ধুম্রপান আর কফি খাইলেও সময়টা কাজে লাগত।

গ্লোরিয়া জিন্সে গিয়াও শান্তি নাই। সেখানে এক ইয়াং বয়সের দাড়িওয়ালা ছেলের সাথে দেখলাম এক বুকখোলা গেঞ্জি পরা মেয়ে বসে আছে। পোলাডারে দেখলে শিবিরকর্মী মনে হইলেও সে আসলে গুপ্ত দালাল। ইদানিং  শুনেছি দেশে গুপ্ত রাজনীতি খুব পপুলার। 

ভোমায় কইল এইটা বাবা খায়।

- তুই বুঝলি কেমনে?
- দেখস না পাছা আর দুদু কেমন চিমসা মারা।
- হইতে পারে ওরা ক্লাসের এসাইনমেন্ট নিয়ে আলোচনা করতেসে।
- হ... রাইতের বাজে একটা আর চিমসা দুদু নিয়া এই গেঞ্জি এসাইনমেন্ট করতে আসছে গ্লোরিয়া জিন্সে? এরা দিনের বেলাতেই পড়ে না আর এখন আসছে সোনা নিয়া থিসিস করতে!

আমি বিশেষ কিছু আর বলতে পারলাম না। দেশটা আসলে গোল্লায় গেছে। যে যেভাবে পারে যাকে তাকে লাগাচ্ছে। সবাই সেক্সুয়ালি ফ্রাস্টেটেড।