পোস্টগুলি

জুন, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দুধ বিষয়ক কথপোকথন

মিজানুর ডাব ওয়ালার সাথে আমার দেখা কাঁটাবন ঢালে। বাইক সার্ভিস করে যে জায়গায় তার উল্টো দিকে। সে একমনে একটা স্টার সিগারেট টানতেসিল আর সমাজের জটিল হিসাব কষার চেষ্টা করছিল।

আমি বাইক ওয়াশ করতে গিয়ে ভাবলাম তার সাথে একটু গল্প করে আসি।

- ডাব কত করে ভাই? 
- ১২০, বরিশালের ডাব।

১২০ টাকা দিয়া আমার ডাব খাওয়ার ইচ্ছা নাই। আমি জানি এই সকল ডাবের দাম আরো কম। তাও আমি ১০০ টাকা বললাম। সে রাজি হয়ে গেল। আমি নির্বিকার চিত্তে ডাব নিলাম। পানি মিষ্টি আছে।  

- ডাব তো ভাল দেখা যায়। পানি মিষ্টি।

- বরিশালের ডাব, ভোলার ডাব আর কক্সবাজারের ডাব সবথেকে ভালো। মিজানুর জ্ঞানের কথা বলে।

আমি ডাব খেতে খেতে আশে পাশে দেখছিলাম। এই সময় সে একটা হটাৎ করে বলল, ঢাকার মাইয়ার দুধে কাপড় দেয় না কেন?

- কি? আমি প্রথমে বুঝতে পারি নাই। কিসে কি দেয় না?

- এই যে দুধে কাপড় দেয় না।

ওরে বাইঞ্চোত। সে আসলে রাস্তায় চলাচল করা মাইয়াদের বুঝাইতেসে। এদের বুকের দিকে তাঁকায়া থাকাই তার প্রধান কাজ মনে হয়। খালি ডাবওয়ালা নয় সে। পটেনশিয়াল রেপিস্ট।

- ভাই, ডাব বেচেন ভাল কথা। কাউরে আবার জ্ঞান দিতে যাইয়েন না, মাইর খাইতে পারেন।

- আরে না, আমাগো বসিশাল কত ভালো। এইখানে মাইয়ারা দুধ ঢাকে না। 

- কেউ কি ন্যাংটা ঘুরতাসে? 

- এই যে প্যান্ট শার্ট পইরা ঘোরে, ওড়না নাই। মাইয়ারা থাকব বোরকা পইরা। 
- প্যান্ট শার্ট পরলে সমস্যা কি? এই যে আপনি গেঞ্জি পইরা ঘুরতাসেন আপনারে কি আমি বলসি আপনি ওড়না কেন পরেন নাই? আপনার দুধ ঢাকেন।

আমার রাগ উত্তর উত্তর বাড়তেসিল। এই শুওরের বাচ্চারে ডলা দিতে পারলে ভালো লাগত। ইউনিভার্সিটি এলাকায় এইসকল মাল ঘুরে বেড়াইতেসে। বরিশাল থেকে এসে সে ঢাকার মাইয়াদের দুধ কেন ঢাকা না, এইটা নিয়া সে দার্শনিক আলাপ দিতেসে।

- নাম কি আপনার?
-  মিজানুর।
- বাড়ি কই?
- বরিশাল।

- ভাল হইয়া যান। ডাব ভালো, কিন্তু আপনার ভাল হবার সম্ভাবনা নাই।

- কেন? মিজানুরের মুখে হাসি নাই। কারন সে আলাপ জমাইতে পারে নাই। আমি মেয়েদের দুধের ব্যপারে আগ্রহ দেখাই নাই।

- আপনার বয়স কত?
- ৩৬।
- তাইলে ঠিকই বলসি। ১৭ বছরের পর আর কিছু শিখার নাই আপনার। যা শিখসেন এইটা বদলানো যাবে না। এখন আপনার প্রধান কাজ ঢাকায় বইসা মাইয়াদের দুধ নিয়া দার্শনিক আলোচনা করা।

- ভাই বসুন্ধরা সিটিতে আমি নেটের ড্রেস পরা একটা মাইয়া দেখসিলাম। ন্যাংটা মাইয়া।

- আমি দেখি নাই। দেখলেও আমার কিছু যায় আসে না। কে কি পরবে এইটা তার ইচ্ছা।

- তাও ভাই, মাইয়ারা থাকবে বোরখা পইরা, বাসায় থাকবে। বাইরে কি? 

আমি দ্রুত ডাব শেষ করে তাকে টাকা দিলাম। মিজানুর নামের লোকজনের ভাল হবার সম্ভাবনা নাই। এদের প্রধান কাজ রাস্তায় মাইয়াদের বুকের দিকে তাঁকায়া থাকে। আর সুযোগ পাইলে কমেন্ট পাস করা। এদের শোধরানোর সময় শেষ। 

আলাপ দিতে আইসা আমি বিরক্তি নিয়া ফেরত গেলাম। একটা কচি ডাব এর পেছন দিয়ে ঢুকাইয়া দিতে পারলে ভাল লাগত। 

বেপ্লব বৃথা গ্যাছে। লাল বিপ্লবীরা বেপ্লবের নামে কিছু বাইঞ্চতরে সুযোগ কইরা দিসে পুটু মারনের। এরা এখন সিসি ক্যামেরা হইয়া রাস্তায় রাস্তায় মাল খোঁজে। আরেকটু সাহস বাড়লেই দুধ ঢাকার দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়া নিবে।

 

 

সদানন্দের পোলা

সদানন্দের পোলা হইসে। এইটা খুবই আনন্দের বিষয়। আনন্দের চোটে সে টাংগাইল গেছে ১০০ কেজি মিষ্টি কিনতে। তার কথা হচ্ছে ঢাকা থেকে মিষ্টি কিনলে লাখ টাকা চলে যাবে। টাংগাইলে দাম কম, অতএব সেখান থেকেই আনতে হবে।

আমি শুধু একবার মিহি সুরে বললাম লাগাইলি তুই, কষ্ট করলো তোর বউ, হাসপাতালের বিল দিলি তুই, আবার পাবলিকরে টাংগাইল থেকে মিষ্টি এনে খাওয়াতে হবে... এইডা কি ধরনের বিচার?

এই সকল যুক্তি দিয়ে অবশ্য সদানন্দের কোন বালটাও ছেড়া যাবে না। সে খুবই সামাজিক ছেলে। সমাজ যদি তাকে দুচেও দেয় সে হাসিমুখে প্যান্ট খুলে দেবে।
 
ভোমা অবশ্য টাঙ্গাইল যেতে আপত্তি করে নাই। দুইজন মিলা সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরসে, কেনাকাটা করসে আর রাতের বেলা ঢাকা ঘুইরা ঘুইরা সেগুলা বিলি করসে।
 
আমি অনেক চিন্তা করে দেখলাম সদানন্দের আসলে রাজনৈতিক নেতা হওয়া দরকার ছিল। এইভাবে জনসেবা আজ পর্যন্ত কোন মন্ত্রী-এমপিকে করতে দেখি নাই। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মিষ্টি বিলানো নিঃসন্দেহে একটা জনদরদী কাজ।
 
মানুষ আনন্দিত হলে সবাইকে জানাতে চাই। দুঃখের বিষয় হলে কি করে আমার জানা নেই। দুঃখ মনে হয় নিরবে যাপিত করার জিনিস। খুব কাছের মানুষ বাদে কাউকে জানাতে হয় না। 
 
এবার অবশ্য সদানন্দ আমার উপর খেপছে। তারে অনেকক্ষন বয়ানবাজি করসিলাম। তার উপর সে রাজশাহী থেকে যেই আম আনছে স্পেশাল বইলা, সেটা আমার এলাকায় ৭০ টাকা কেজি দরে ফুটপাতে বিক্রি হয় - এইটা বলার পর সে পুরাই রাইগা ভোম।
 
স্পেশাল বললেই কি সব স্পেশাল হয়ে যায়? ঘরের কোনায় ভাল আম রাইখা রাজশাহী থেকে বেশি দাম দিয়া একই জিনিস কেনার কোন মাজেজা আমি বুঝি না।
 
বাই দ্যা রাস্তা, আমের টেস্ট খুব একটা ভাল না।
 
মিষ্টি জিনিস আমি খাই না। আমার অতি বড় শত্রুরেও আমি মিষ্টি উপহার দেই না। তবুও সদার পোলা হবার আনন্দে আমি দুইটা কালোজামের মত দেখতে জিনিস খাইলাম। অতীব সুখাদ্য। আরো খাইতে ইচ্ছা হইতেসিল। কিন্তু লোভ সংবরণ করলাম। 
 
শাস্ত্রে আছে, মানুষ দুইটা কারনে ডোবে। একটা হইল পেট, আরেকটা চ্যাট।  
 
 

কুরবানি ২০২৫

কুরবানির ঈদে লম্বা ঘুম দিলাম। ভোমা নাই সদানন্দ নাই। অফিস নাই, কারুর ডাকডাকি নাই। সবাই যার যার গরু নিয়া একদিনের কসাই সাজাতে ব্যস্ত। 

সকালে বের হয়ে রিকশা পাই না। ঈদের দিন সব অটোরিকশা চালকেরা সিজনাল কসাই হয়ে যায়। গরু ফালাইতে গিয়া আমাদের এই সিজনাল কসাই দুইটা গরুর গুতা খাইল পাছার মধ্যে। এরপর কাটতে গিয়া আবার নাটক। তার চাপাতিতে ধার নাই, হাত থেকে পিছলায়া পইড়া যায় ছুরি। ইচ্ছা করতেসিল তারে বলি দুইটা ভাই-ব্রাদার ডাইকা নিয়া আসতে এলাকা থেকে যারা চাপাতিতে দক্ষ।

কসাইরে জিগাইলাম, তুমি কি মোহাম্মদপুরে থাকো? সে বলল, তার বাড়ি লক্ষীপুর। আমি শুনে হতাশ হলাম। মোহাম্মদপুরের না বলেই তার চাপাতিতে ধার নাই, স্কিল নাই। স্কিল অর্জন করতেও ট্রেনিং এর দরকার আছে।

কসাইয়ের অবস্থা দেখে হাসিব ভাই নিজেই নেমে গেল কাটাকাটির কাজে। ছোট একটা বটি নিয়া ইয়া বড় বড় পিস করতেসে মাংসরে। এইগুলা রান্না হবে, না স্টেক বানাব কে জানে? 

মাসুদরে পাই নাই এই ঈদে। সে গ্রামের বাড়ি গেছে। সব কাজ আমার একা করতে হচ্ছে। এইটা একটা বড় যন্ত্রনা। শুওরটাকে বললাম, গুরুর ভুড়িটা পরিষ্কার করে দিয়ে তারপর গ্রামে যাইস, সে কথা শুনল না। তার পোলা নাকি কইসে এইবার একটা ছাগল কুরবানী দেয়া লাগব। তাই বেতন-বোনাস নিয়াই চম্পট দিসে। এইবার আর ভুড়ি পরিষ্কার করা হবে না। তবে আমার সন্দেহ হচ্ছে সে আসলে বাড়ি যায় নাই। সে এলাকায় ঘুরতেসে মধুকোষ সংগ্রহের কাজে। এইটা একটা বড় বিজনেস বলে তার ধারনা। গরীব ছোটলোক আসলে কোনদিন অর্থের মূল্য বোঝে না। 

চামড়াটা কসাইরে দিয়া দিলাম। এইটা তার মজুরি। ঘ্যান ঘ্যান করায় তারে গরুর চারটা পা ধরাইয়া দিলাম। বললাম, নেহারি বানাইয়া খাবা, খুবই উত্তম খাবার। লাগলে মাথাটাও নিয়া যাও। 

যদিও ভাবসিলাম ওইটা দিয়া ট্রফি বানায়া ড্রইং রুমে ঝুলাইয়া রাখব। আগের দিনে শিকারীরা নাকি যে প্রানি শিকার করত তার মাথা ট্রফি হিসেবে নিজের ঘরের দেয়ালে ঝুলাইয়া রাখত। কিন্তু কেউ গরুর মাথা রাখে নাই। এইটা একটা পার্শিয়ালিটি হইসে। চতুষ্পদ জানোয়ারের মধ্যে সবচেয়ে বেশে হত্যা করা হয় গরু। অথচ কেউ তারে গোনায় ধরে না।

মাসুদ থাকলে এরে কানের নিচে দুইটা চটকানা দিয়া বিদায় করা যেত। তুই বেটা সিজনাল কসাই, তোর এত ডিমান্ড ক্যান? 

কাটাকাটি শেষে মাংস সব প্যাকেট করলাম জরিনার মারে দিয়া। ফ্রিজে ঢোকানো শেষে দরজায় একটা নোটিশ ঝুলায়া দিলাম, "বাসায় কেউ নাই। মাংসের জন্য নক করবেন না।"

এইবার আগামী তিনমাসের জন্য প্রোটিনের ডিপজিট নিশ্চিত। 

 

মধুকোষ

কুরবানি ঈদ আসলেই মাসুদ একটা না একটা ফাইজলামি করবেই। এইটা তার খাইসলত।

আজকে তার নামে বিচার এসেছে। সে নাকি বিল্ডিং এর সবার গরুর চামড়া আর বিচি চেয়েছে। চামড়ার কাহিনী আমি বুঝেছি। এটা তার টু-পাইস কামানোর ধান্ধা। গতবার মাদ্রাসায় দান করবে বলে কয়েকজনের কাছ থেকে গরুর চামড়া নিয়ে সেটাও বেচে দিয়েছে।

কিন্তু বিচির ব্যপারটা ঠিক বোঝা গেলো না। ছাদে ছিলাম, সেখান থেকে উঁকি দেখলাম সে নিচে দাঁড়িয়ে আছে। একটা ছোট ফুলের টব তার মাথা বরাবর ছেড়ে দিলাম। প্লাস্টিকের টব। বেশি কিছু হবে না। ভাগ্য ভালো সেটা তার মাথায় না পড়ে পাশে পড়লো।

"ওরে বাবাগো' - বইলা সে যে চিৎকার দিলো সেটা দেখে মন ভালো হয়ে গেল। মাঝে মধ্যে মানুষের ভয় পেতে হয়। ভয় না পেলে মানুষ আকাম-কুকাম করে বেশি। 

মাসুদ উপরে তাঁকানোর আগেই আমি ঝট করে সরে গেলাম। তারপর নিচে গিয়ে তাকে পাকড়াও করলাম।

- কিরে মাসুদ, চিল্লাস কেন?
-  বস, কে জানি উপর থেকে ফুলের টব মারসে।
- ফুলের টব আবার কে মারবে? ছাদে তালা দেয়া না?
- তালা তো দেয়াই আছে বস। কিন্তু মনে হয় আমাগো ছাদ থেকেই ফেলসে।
- দিনের বেলাতেই নেশা করেছিস নাকি?

মাসুদ জিহ্বায় কামোড় দেয়। তার ভয় এখনও কাটে নাই।

- তুই নাকি সবার কাছ থেকে গরুর বিচি চেয়েছিস।
- বস বিচি না। ঐটাতো মধু কোষ।
- মানে? বিচি মধুকোষ হইল কবে থেকে?
- আমি ফেইসবুকে দেখসি বস। ইন্ডিয়াতে খাসির বিচি রান্ধে। সেই টেস্ট। লোকজন লাইন ধরে খায়।
- ওরে হারামি, তুই কি তাই বইলা গরুর বিচি খাবি?

- এইটাতো হারাম না বস। শুনছি এইটা খাইলে শরীরে শক্তি হয়। সারাদিন ডিউটি দেই। একটু শক্তি দরকার না আমার।

- ওরে শালা ফাঁকিবাজ, তুই গুরুর বিচিরে মধু কোষ বানাচ্ছিস। তোরে যদি কাঁচা এই বিচি না গিলাইসি। এর থেকে ভালো তুই শান্ডা খা। বজ্জাত কোথাকার!

মাসুদের মন খারাপ হয়ে গেল। তার চেহারা দেখে আমার মায়া লাগছে।

- ঠিক আছে ... তুই বিচি কালেক্ট করিস। ওইটা দিয়া হালিম বানাবি। কিছু লোকরে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবো।

মাসুদের চেহারায় এবার আলোর ঝলকানি দেখা দেয়। 

- বস তাইলে আমেনার মারে ঈদের দিন বুক দিয়া দেই। সে ভাল রান্ধে।
- আমেনার মা টা আবার কে?
- তিনতলায় কাম করে।
- তুই তারে চিনস কেমনে?
- মাঝে মইধ্যে আমার লগে কথা হয়। আসা যাওয়ার পথে দেখা হয় এই আরকি।

- মাসুদ তুই ভালো হইয়া যা। তোরে আমি চিনি না! আবার লটর পটরের কোন খবর যদি কানে আসে। তবে তোর মধুকোষ গালায় দিব।

- কসম কইরা কইতাসি বস, তার সাথে আমার কিছু নাই।

তারে আমি বিশ্বাস করসি এইরকম একটা ভং ধইরা সিরিয়াস গলায় বললাম - 

- সাবধানে থাক। শুনছি বিল্ডিঙে নাকি জ্বীনের আছর হইসে। যাদের চরিত্র খারাপ তাদের উপর সে আক্রমন করে।

- ইন্নালিল্লাহ... এইটা কি কন? 
- হ... তোরে জানায়া রাখলাম। আমি হুজুর ডাকতে যাই।

মাসুদের চেহারা শুকায়া গেছে। জ্বীন-ভূতে তার মেলা ডর। আজকে রাতে শিওর তার ঘুম হবে না। আমি আর কথা না বাড়িয়ে বাইরে চলে আসলাম। গনির চায়ের দোকানে যেতে হবে। তারপর এলাকার মুরুব্বী আকমল চাচাকে খুঁজে বের করতে হবে। শালায় বুড়া বয়সে তিন নম্বর বিবাহ করেছে। ঈদের দিন তার দাওয়াত। স্পেশাল মধুকোষের হালিম তার জন্য খুব দরকারি।

আরবিরা শান্ডা খাইতে পারলে আমাগো মধুকোষের কোন দোষ নাই। এইটাতো মরুভূমির দেশ না। এইখানে শান্ডা পাওয়া যায় না, এইটা মধুকোষের দেশ। মধুমাসে সবাইকে মধুকোষের দাওয়াত।