পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বেস্টু

এক শাউয়ার নাতি আসে আমাদের রাত্রিকালীন আড্ডায়। একটু পর পর তার মোবাইলে ফোন আসে আর সে উঠে গিয়ে চিপায় চলে যায়। ফিস ফিস করে আলাপ সেরে আবার ফেরত আসে। 

তারে জিজ্ঞেস করলে বলে, সে তার 'বেস্টু"র সাথে কথা বলে।

আমি কিছুটা আতংকিত হয়ে বললাম, এই বেস্টু পোলা না মাইয়া? 

- মাইয়া ডুড... মাইয়া।

- মাইয়া কিভাবে "বেস্টু" হয়? আমার মাথায় কিছুতেই ঢোকে না। তুই ব্যাটা পোলা হইলে তোর বেস্ট ফ্রেন্ড হবে আরেকটা পোলা। বেডা মাইনষের লগে মাইয়া মানুষের ফ্রেন্ডশিপ হয় নাকি?

- তাইলে কি হয়? 

- যা হয় সেইটারে আমি ফাকবাডি বলে জানি।

- ডুড, তোমরা ওল্ড টাইমার। এগুলো বুঝবে না। তোমারা লাগালাগি বাদে আর কিছু বুঝো না। তোমাদের কারনেই দেশের জনসংখ্যার আজকে এই অবস্থা।

বয়স হইসে। দুনিয়ার কিছু অভিজ্ঞতাও আছে। কিন্তু কেউ বুড়া বললে খুব অপমান লাগে।

- আমেরিকায় দেখসি যেসব বেডার মেয়ে বেস্টি থাকে তারা আসলে গে। মেয়েরা নিশ্চিন্তে তাদের সাথে ঘোরাঘুরি করে, কথাবার্তা শেয়ার করে। এই কারনে আবার কিছু বেডা ফস্টিনস্টি করার জন্য বেডা হওয়া সত্ত্বেও নিজেরে গে অথবা মেয়ে বলে পরিচয় দেয়। তুমি এই দুইটার কোনটা?

- কেন গে হইলে সমস্যা কি?

- নাহ কোন সমস্যা নাই। এদের লাগালাগিতে জগতের কোন উপকার হয় না।

- তুমি বুঝবে না ডুড... তুমি লাইফটা এঞ্জয় করতে পারোনি। তাই তোমার হিংসা হয়।

শাউয়ার আবার ফোন এসেছে। সে এখন আবার চিপায় গিয়ে তার ব্রেস্ট ফ্রেন্ডকে মর‍্যাল সাপোর্ট দিবে।  

নাহ... বেডা হইয়া বেডা না লাগানোতে আজ পর্যন্ত আমার কোন আফসোস নাই। তবে আজকালকের পোলাপানের নৈতিক চরিত্র আর লিংগ পরিচয় আমাকে সতত পীড়া দেয়।

-- সদানন্দ
( জগতের সকল প্রানী সুখী হোক। শুধু গে-রা বাদে। এরা সমাজের আবর্জনা।)

 


 

চোর-পুলিশ

রাস্তায় আসার সময় দেখলাম পুলিশের সাথে নতুন এক বাহিনী ক্রিম কালারের ড্রেস পরে গরীব বাইকারদের হেনস্তা করছে। প্রথমে ভেবেছিলাম জনবল সংকটের কারনে হয়ত বসুন্ধরা আবাসিকের সিকিউরিটি গার্ডদের পুলিশ ভাড়া করেছে।

সামনে গিয়ে সে ভুল ভেঙে গেল। এরাও পুলিশ! আমি আরো ভাবছিলাম মাসুদকে এইরকম একটা ড্রেস কিনে দেবো। হারামজাদা ড্রেস না পরার কারনে লোকজন তারে বাড়ির দারোয়ান বলে চিনতে পারে না।

আমি পুলিশ দেখলে দশ হাত দূরে থাকি। আমার বন্ধু রাশেদ, ক্লাস থ্রিতে থাকতে আমাকে বলছিলো পুলিশ নাকি বাচ্চাদের কিডন্যাপ করে তাদের নুন্টুস বিক্রি করে দেয়। সে কই থেকে এই উদ্ভট তথ্য পেয়েছিল আমার জানা নেই। আর বাচ্চাদের নুন্টুস এর কাজ কি সেটাও আমি তখন জানতাম না। তবে সেই থেকে যে ভয় আমার মনে ঢুকে গেছে সেটা আজও কাটেনি।

রাশেদ এখন কোথায় আছে জানি না। সে কি এখনও পুলিশকে ভয় পায়? তাকে পেলে বলা যেত, পুলিশকে আর ভয় পাওয়ার দরকার নাই, ওরা বদলে গেছে। নতুন পোষাকে ওরা এখন ফেরেশতাদের মত হয়ে গেছে।

রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ অবশ্য ব্যর্থ হতে চলেছে। একেও নতুন পোষাক পরানো দরকার।

উদ্যোক্তা

মুরুব্বিরে সকালে ডাইকা বললাম, সারাদিন যে জ্ঞান কপচান, উপদেশ দেন সবাইরে, এতে কোন কাজ হয়? শুধু শুধু সময় নষ্ট। এর থেকে চলেন দুইজন মিলা একটা ব্যবসা শুরু করি।

দশটা অটোরিকশা নামায় দিলাম, প্রতিদিন ইনকাম। মাঝে মধ্যে নিজেরাও সেই অটো চালামু, ডাবল লাভ। 

আজাইরা সময় নষ্ট না করে নিজেদের উপকার হবে। পকেটে কিছু পয়সা আসবে। দশজন বেকারের কর্মসংস্থান হবে।

মুরুব্বি শালায় আমারে ফকিন্নি বলে চলে গেল। সে নাকি এইরকম ছোট খাট কাজে সময় নষ্ট করতে চায় না।
সে বিশ্বমানবতার উপকারে নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়।

আরে কোন ব্যবসাই কি ছোট হয়? ছোট হয় মানুষের মন। বিল গেটস কি একদিনে বড়লোক হইসে। সে একসময় কম্পিউটার পার্টসের ব্যবসা করে নাই? এরপর নিজেই এখন কম্পিউটার বানায়।

এখন পার্টনার খুঁজতেসি। আমার নিরাপদ এবং পরিবেশবাদী পার্টনার দরকার। যে বিশ্বাস করে অটোরিকশাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
 

- শাহজাহান ড্রাইভার
- নতুন উদ্যোক্তা