পোস্টগুলি

2026 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শুয়োরের বাচ্চারা শান্তিতে থাকে

আমার আশেপাশে বেশিরভাগই শুয়োরের বাচ্চা থাকে। দুই-তিনজন বাদে সবাই স্বার্থপর। শুধুমাত্র দরকার হলেই আমার খোঁজখবর নেয়। নাইলে লাপাত্তা।

ধার লাগবে, আমাকে ফোন দেয়। কাউরে ফাপর দিতে হবে - কাপুরে বল। কোন জিনিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না - কাপুরে জিজ্ঞেস কর। অথচ গত দুই মাস ধরে আমি যে দৃশ্যপটে নাই, বন্ধু-বান্ধব, কেউ একবার ফোন করে জিজ্ঞেস করল না। ডেঙ্গুর সাথে যুদ্ধ করে জিতে আসলাম। সেই সময় কেউ খবর নিলো না।

এই কারনে গত একমাস ধরে ফোন বন্ধ করে ডুব দিয়েছিলাম। দেখতে চাইছিলাম কে কে আমার খবর নিতে আসে। প্রথমজন আসল এলাকার বড় ভাই হাসিব। তিনি আসলেন আমি ডুব দেয়ার সাত দিন পরে। আমি বললাম, ভাই আপনি এই যে সাতদিন পরে আমার খবর নিতে আসলেন, এর মাঝখানে আমি মরে পড়ে থাকলে তো আমার লাশও পঁচে যেত।

হাসিব ভাই অবশ্য এত আবেগের ধারে কাছে গেলেন না। বললেন, ফালতু প্যাঁচাল বাদ দে। তোর এইখানে কয়দিন থাকব। একটা রুম ছেড়ে দে।

কি হয়েছে জানতে চাইলাম না। খালি বললাম, আমি নিজেই ব্যাচেলর থাকি। আমার দুই রুমের ফ্ল্যাটে একটা আমার স্টাডিরুম আর একটা আমার বেডরুম। আপনি কই থাকবেন?

- আমি তোর বেডরুমেই থাকব। তুই লাইব্রেরী রুমে মটকা মেরে পড়ে থাক। আর সারাদিন তো কি সব বালছাল লিখিস। তুই ঘুমাস কখন?

এক প্রকার জোর করে তিনি আমার রুম দখল করলেন। পরে অবশ্য শুনেছি, এলাকার এম্পির মাইয়ার লগে তার রুম ডেটের কথা এম্পি সাহেব জেনে গেছে। এখন তারে বাঁশডলা দেয়ার জন্য খুঁজতেসে।

যাই হোক আমি বাসায় থাকি পড়াশোনা করি, আর দুঃখের কবিতা লিখি। হাসিব ভাই সারাদিন ঘুমায় আর রাত হলেই ফোনে ভিডিও কলে লটর-পটর করে। 

দ্বিতীয় যে ব্যক্তি আসল আমার খবর নিতে, সে অফিসের পিয়ন। সম্পাদক পাঠাইসে। আমি বাঁইচা আছি নাকি দেখতে। একমাস ধরে নাকি অফিস যাইনা কোন লেখাও জমা দেই না। অতি স্বত্বর দেখা করতে বলেছেন। তিনি অবশ্য আগ বাড়িয়ে একটা খামে নগদ বিশ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। ঈদ আসতেসে। ঈদ সংখ্যায় আমার একটা উপন্যাস দেবার কথা। সেটা না দিলে তিনি বিপদে পড়ে যাবেন, তাই আগেই কিছু সম্মানী পাঠিয়েছন। ভালোবেসে নয়।

আমার কোন গার্লফ্রেন্ড নাই। এই যুগের মাইয়ারা যেসব বাল-ছালের আলাপ দেয় আমি সেগুলা দিতে পারিনা বলে কারো সাথে বন্ধুত্ব প্রেম পর্যন্ত গড়ায় না। ওরা শুধু দেহ চায়, মন বোঝে না। 

মদখোর হাশেম আসল একদিন। সে মালের বোতল নিয়ে আসছে। সেদিন আমরা তিনজন মিলে একটা ভালো পার্টি করলাম রাতের বেলা।

মাল বেশি খেয়ে হাশেম হাসিব ভাইকে, দুলাভাই বলল একবার, পরে আবার বলল তুই একটা শুয়োরের বাচ্চা,  কচি কচি মেয়েদের ছাড়িস না। আমরা প্রেম করব কাদের সাথে?

হাসিব ভাই অবশ্য রাগ করল না। সে মাল খেলেও অভিজ্ঞ লোক। জানে হাশেমকে কিছু বললে সে তার গোপন হাইড আউটের কথা ফাঁস করে দিতে পারে। 

এতিমের আসলে এই দুনিয়ায় কেউ নাই। জীবনটা বড়ই কষ্টের।

 

- কাপু
- নির্বিবাদী কবি 

 

 

ফেইসবুকো সাইকোসিস

ফেইসবুক নিয়ে আমার একটা অবজার্ভেরশন আছে। সাইক্রিয়াটিস্ট হবার কারনে এগুলোরে আমি সবসময় ADHD বলে চালাই দেই না। নিজে নিজে কিছু নাম দিয়েছি। বাকি চোদু সাইক্রিয়াটিস্ট এগুলো ব্যবহার করতে পারো। 

**স্ট্যাটাসো অবসেসিবা ডিজ অর্ডার: এরা প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার ফেইসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করে। হুদাই বানায়া বানায়া অনেক কিছু লেখে। লাইক পেলে খুশি হয়। 
 
**দুখিত স্ট্যাটাসো ম্যালওয়্যার: এরা খালি বলে আমি খুব একা, আমার কেউ নাই, ফেইসবুকে আজকেই শেষদিন ইত্যাদি ইত্যাদি। এরা বেশিরভাগই পাবলিসিটির জন্য কাঙাল থাকে। এই রোগ মেয়েদের মধ্যে প্রকট।
 
** জেন্ডার ম্যাল্ফাংশনোসিস: এরা পুরুষ হয়েও মেয়েদের আইডি খোলে এবং ধরা খেয়ে পাবলিকের গন শালাতে পরিনত হয়। এদের নিয়ে বেশি কিছু না বলাই ভালো।
 
** ফেবু সেলিব্রিটোসাইটিস: এরা নিজদের ফেইসবুক সেলিব্রিটি বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে এবং খুবই উত্তম বাংলায় পুরাতন গু বারবার ফেসবুকে নিক্ষেপ করে। এদের ভক্তের সংখ্যা অগুনিত। 
 
** সেলফি জরাসিস: এরা বাথরুমে গিয়েও প্রোফাইলের জন্য নিজের ছবি নিজে তুলবে। আর মেয়ে হলে বলবে আমাকে কেমন লাগছে বন্ধুরা, তদনগদ ২০০ লাইক।

---------------
- ডাঃ দুঃখ
মনের ডাক্তার

কুত্তার বাচ্চা প্রসঙ্গ

রাজিবের সাথে আমার প্রথম দেখা আজিমপুর কবরস্থানের সামনের ফুটপাতে। সে একমনে ফুটপাতের পাশের ড্রেনের দিকে তাঁকিয়ে আছে। তার আশেপাশে কে আসছে যাচ্ছে সেদিকে তার মনোযোগ নাই। আমি একটা মালব্রো ধরিয়েছি। সিগারেট হাতে থাকলে মানুষের সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু আশেপাশে কেউ নাই কথা বলার মত। আমি রাজিবের সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলাম। 

- ড্রেনে কি হইসে ভাইজান? 

রাজিব আমার দিকে না তাঁকিয়ে আমুদে গলায় বলল, "কুত্তার বাচ্চা"।

আমি চমকে উঠে পালটা গালি দিতে যাবো, তার আগেই সে ফট করে ড্রেনের উপর বসে পড়ে হাত বাড়িয়ে একটা ছোট কুকুরের বাচ্চাকে টেনে তুলল। 

-ওহ... শিট। সে আসলে কুত্তার বাচ্চাকে টেনে তোলার জন্যই ড্রেনের পাশে এতক্ষন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। আমার দিকে তাঁকিয়ে সে বিজয়ীর হাসি দিল একটা। আমি এইরকম সুন্দর হাসি খুব কম মানুষেরই দেখেছি।

ঘাড় ধরে সে কুকুরের বাচ্চাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তার পিছু নিলাম। এইরকম ক্যারেক্টার সমাজে দূর্লভ। একটু সামনেই সিটি কর্পোরেশনের একটা কল আছে। সেখানে গিয়ে আচ্ছামত পানি দিয়ে ধুয়ে নিল বাচ্চাটাকে। 

এরপর আবার ফুটপাতে নামিয়ে রেখে দিল বাচ্চাটাকে। কইত্থেকে জানি এখন আরো দুটো কুকুর এসে জুটেছে। এরা সমানে লেজ নাড়ছে।

রাজিব নির্বিকার। স্কিছুই হয়নি এমন ভঙ্গিতে আবার হাঁটা শুরু করল। আমি পিছু নিলাম। মনে হচ্ছে হন্টন পীরের পেছনে হাঁটছি।

- ঘটনা কি? আপনি পিছে পিছে আসেন কেন?  
- এমনেই... কিছু করার নাই। দেখি আপনি কি করেন?
- মানে? আপনে কে?
- আমি মানুষ। খুব খারাপ মানুষ। ভালো মানুষ দেখলে তার পিছে পিছে যাই।
- আমি ভালো মানুষ?
- ভালো খারাপ জানি না, তবে আপাতত এই রাস্তায় আপনি সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং মানুষ।

রাজিব আবার তার সেই ভুবন ভোলানো নিষ্পাপ হাসি দিল। 

- চা খাবেন ভাইজান?

আমি সম্মতি দিলাম। গল্প জমানোর জন্য চা অনেক উত্তম একটা পানীয়। গলা পরিষ্কার করে, কথা ঠিকমত বলা যায়।  

গল্পে গল্পে তার নাম পরিচয় জানলাম। সে পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান। কোথাও চাকরি করে না তবে নন-পার্মানেন্ট হিসেবে একটা সরকারি অফিসে যুক্ত আছে। মাসে নয় হাজার টাকার মত পায়। বাইরে কাজ করে কিছু টু-পাইস ইনকাম হয়। আর মাঝে মধ্যে সুযোগ পেলে স্টোরের পুরাতন মালামাল বিক্রি করে দেয়। এই দিয়ে জোড়াতালির মত চলছে।

- নিজেই একটা অফিস খুলে বসেন না। নাম দেন "ইলেক্ট্রিক ম্যান" ।

নামটা মনে হয় রাজিবের বিশেষ পছন্দ হয় নাই। সে সুরু চোখে আমার দিকে তাঁকায়।

- ভাইজান কি মশকরা করেন? গরীবের সাথে অবশ্য সবাই মজা নেয়।
- না মজা নিচ্ছি না, সিরিয়াসলি বলতেসি। একটা অফিস নেন, সার্ভিসের চার্ট বানান। আমি মার্কেটিং করে দিব। ক্লায়েন্ট জোগাড় করে দিব। বিজনেসে যা প্রফিট হবে তার ১০% কমিশন আমার।

- আপনে দালালি করবেন?
- দালালি না, মার্কেটিং। যেহেতু খরচ দিতে পারবেন না, তাই কমিশন নিব। দরকারে দোকানে কিছু মালামালও তুলব। নবাবপুরে আমার পরিচিত পাইকার আছে। বাকিতে লাখখানেক টাকার মাল দেবে।

প্রথম পরিচয়ে এত সুবুদ্ধি রাজিব আশা করে নাই। সে ব্যাপক সন্দিহান হয়ে আমার দিকে তাঁকাচ্ছে। আমি তাকে আমার ফোন নাম্বার দিয়ে বিদায় নিলাম।

জানি সে একদিন না একদিন ফোন দিবে। তাকে তার বর্তমান অবস্থা থেকে উন্নত হবার বুদ্ধি দিসি। এইটা চিন্তা-ভাবনা করা মত সময় দরকার তার। 

তাই বইলা আবার ভাইবেন না আমি জনে জনে উপদেশ বিলি করে বেড়াই। রাজিবকে আমার পছন্দ হইসে কারন খুব কম মানুষই ড্রেনের থেকে কুত্তার বাচ্চা তুলে তাকে গোসল করায়! 

 

 

গুপ্ত - The Undercover Gem

স্কুলে থাকতে আমারা রসময় গুপ্তের বই কিনতে নীলক্ষেত যেতাম। নীলক্ষেতে নীলের চাষ না হলেও নিউজপ্রিন্টে ছাপানো গুপ্ত আংকেলের বইয়ের চাষ হত। তখন আজকালকার মতো ইনস্টাগ্রামে নংগ্ন নারীদের শরীর দোলানো দেখা যেত না। আমাদের ইন্টারনেট আর স্মার্টফোন ছিল না। আমরা গুপ্ত আংকেলের সেই ছোট ছোট গল্প পড়ে নিজের মনের মত করে সব কল্পনা করে নিতাম।

সেই হিসেবে বলা যায় আজকের গেঞ্জিদের তুলনায় আমাদের কল্পনাশক্তি অনেক ভালো ছিল। এখনতো পোলাপান পর্ন দেখতে বসলেও বাছাই করতে পারে না যে কোন ক্যাটাগরি দেখবে! আর আমাদের একটাই চ্যানেল ছিল- গুপ্ত আংকেল।

বড় হয়ে যাবার পর নীলক্ষেতে গেলে দেখেছি কেউ আর গুপ্ত আংকেলের বই কেনার জন্য চিপায় ডাকে না। এইজন্যই এই জেনারেশন বই পড়ে না।

দেশের বাইরে চলে আসার পর অনেক কিছু মিস করি, গুপ্ত তাদের একজন। যাকে কখনও দেখিনি, কিন্তু মনে মনে অনেক খুঁজেছি।

ইদানিং অবশ্য গুপ্ত নামটা আবার শুনতে পাচ্ছি খুব। গুপ্ত নাকি এখন হাল ফ্যাশনের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে গেছে। গুপ্তের স্মর্থিক গোষ্ঠী আর বিরোধী পক্ষ নাকি প্রকাশ্যে মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে। গুপ্তের এই প্রচারে আমি সমর্থন জানাচ্ছি। গুপ্ত একজন মহান শিল্পী। তাকে ভুলতে দেয়া যাবে না।

গুপ্ত প্রেমী সবাইকে ভালোবাসা। গুপ্তকে ভালবাসুন।

- আতিক আল জামি
- হাফ বৃটিশ 

 

 

শুটকি

ওমর সানির একটা এড দেখি ফেইসবুকে মাঝেমধ্যে। সে একটা অফিস চেয়ারে বসে বোতল থেকে শুটকি ভর্তা নিয়ে ভাত খাচ্ছে। তার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে কষ্ট হলেও সে খাচ্ছে।

যারা এই মোটকারে শুটকি খাওয়াইতে পারসে তাদেরকে ধন্যবাদ। তো এই শুটকি আমি অর্ডার দিলাম এক বয়াম। যদিও আমি শুটকি খাই না। আমার বস বলসে শুটকিতে প্রচুর কিটনাশক দেয়া থাকে। এইডি খাইলে কিডনি ড্যামেজ হবেই হবে। অর্ডার দিয়া আফসোস করলাম, কেন করলাম এই কাম? বসের আদেশ অমান্য করা হইতেসে পাপের মত। 

শুটকি ডেলিভার করল, টেস্ট করলাম। যেমন তেমন যাকে বলে। চাংখারপুলের ভাতের হোটেলে এর থেকে ভাল শুটকি ভর্তা বানায়। 

টাকাটা যেন লস না যায় এইজন্য বয়ামটা মাসুদরে দিয়া দিলাম। বললাম এইটা সৌদির আঁচার। খাইলেই সোয়াব হবে। সে মহাআনন্দে এইটা নিল। ফ্রি যেকোন জনিসের প্রতি মাসুদের লোভ প্রচন্ড। আসলে গরীব মানুষের কোন ক্লাস নাই। এরা শ্রেনিহীন মানুষ, সমাজের নিন্মস্তরের বোঝা।

শুটকির আঁচার খেয়ে মাসুদের পেট খারাপ হয়ে গেল। কুত্তার পেটে আসলে ঘি সহ্য হয় না। তবে আমি বুঝলাম। বস যা বলে ভালোর জন্যই বলে।

মাসুদরে পেট খারাপ উপলক্ষ্যে একদিনের ছুটি দিলাম। সে তার গার্লফ্রেন্ড্রে নিয়া ঘুরতে চলে গেল। বউ থাকার পরেও এই ঢাকা শহরে মাসুদ যে কিভাবে একটা গার্লফ্রেন্ড যোগাড় করসে এইটা ভাইবা আমার মাঝে মধ্যে ঈর্ষা হয়। 

আজকে বাইকে তেল নাই। ভাবসিলাম মাসুদরে লাইনে দাঁড় করায়া দিব। হইল না। ওমরসানি তোমার এডের কারনে কতকিছু যে হারাইলাম। তোমাকে ট্রস ট্রস করে চাবুক মারতে হবে।

 

--- কাপু 

 

স্যান্ডেল

মাসুদরে সাথে নিয়া গেলাম বায়তুল মোকাররম নামাজ পড়তে। বড় জামাতে নামাজ পড়ে আরাম আছে। মাসুদ অবশ্য যেতে রাজি হচ্ছিল না। তারে যেই পাঞ্জাবি কিনে দিসি সেটা পরেই সে রওয়ানা দিসে। এই পাতলা কাপড়ের পাঞ্জাবি পরে তার নিপল দেখা যাচ্ছিল দেখে সে নীচে একটা লাল কালারের গেঞ্জি পরে আসছে। সেন্ডু গেঞ্জি পরলে স্টাইল নষ্ট হবে বলে সেটা তারে পরতে মানা করসি।

তবে রাস্তা-ঘাটের লোকজন একটু কেমন কেমন ভাবে তাকাচ্ছে। এইটারে মসজিদে ঢুকতে দেয় কিনা সেটা নিয়া সন্দেহ হচ্ছে। তবে লোকজন মুচকি মুচকি হাসলেও কেউ তারে কিছু বলল না। মাসুদ বুক ফুলিয়ে সেলিব্রেটি কায়দায় হাঁটছে। একজন আবার টুক করে একটা ছবিও তুলে ফেলল। 

মাসুদের কাছে আমার স্যান্ডেল জম দিয়া বললাম, নামাজ শেষে এইখানে আইসা আবার মিলিত হবা। বিড়ি খাইতে এদিক-ঐদিক যাবা না। আর স্যান্ডেল ঠিকমত নজরে রাখবা। এইখানে মুসুল্লির বেশে প্রচুর চোর আসে।

তারে নামাজ পড়তে উপরে পাঠায়া দিলাম। এই পাঞ্জাবি পরা লোকের সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া যাবে না। প্রচুর ক্যামেরাম্যান দেখা যাচ্ছে। কে কোন দিকে দিয়ে ভিডিও করে ভাইরাল করে দিবে।

নামাজ শেষে আমি একটু আস্তে ধীরে বের হলাম। মাসুদের দেখা নাই। খালি পায়ে হেঁটে একটু দূরে গিয়ে একটা মালব্রো ধরালাম। এই জিনিস টেনে ইদানিং আর আগের মত ফিলিংস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে দুই-নম্বর। নজর রাখছি মাসুদ কখন আসে।

একটু পরেই মাসুদ আসল কুত্তার মত হাঁপাতে হাঁপাতে। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কিরে চোদনা, আমার জুতা কই? শালায় বলে, বস মোনাজাত শেষ করা পর্যন্ত জুতা সামনেই ছিল। মোনাজাত শেষ করতেই কইত্থকে জানি লোকজন আইসা ভিড় কইরা ফেলল আমার সামনে। এরপর দেখি জুতা নাই।

- তোরটা দেখি আছে। আমারটাই নিয়ে গেল?
- বস, আপনারটাতো দামি জুতা সেই কারনেই নিয়ে গেছে! আমি প্রচুর খুঁজলাম কিন্তু পাই নাই।

ইচ্ছা করতেসিল শালার কান বরাবর একটা দেই। কিন্তু ঈদের দিন। মেজাজ খারাপ করা যাবে না। একটা রিকশা নিলাম আর মাসুদের স্যান্ডেল আমি পরে তারে খালি পায়ে থাকতে বললাম।

বাসায় গিয়ে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব। দোয়া রাখবেন।

 

- কাপু 

মাসুদের পাঞ্জাবি

মাসুদরে টাকা দিয়ে বললাম, ঠিক এইরকম দেখতে একটা পাঞ্জাবি কিনবি আর সেটা পরে আমাকে ঈদের দিন সকালে সালাম করতে আসবি। তবে কালার নীলের বদলে লাল হইলেও সমস্যা নাই।

বেক্কলে জিগায় সাথে সেন্ডূ গেঞ্জি কিনবে নাকি। আমি মানা করে দিসি। সেন্ডু গেঞ্জি পরলে জামদানির ভ্যালু কমে যাবে।

- কাপু

বিদ্যাশ

ভাইগ্না গেছে ইংল্যান্ডে পড়তে। গ্রামে খবর রইটা গেছে সে ব্যারিষ্টার হইতে গেছে। এখন তার লাইগা প্রচুর মেয়ের সম্বন্ধ আসতেসে। কেউ কেউ একশ বিঘা জমি আর চাইলের মিল লেইখা দিতে চায়। 

একদিন ফোন দিলাম ভাইগ্নারে ইমুতে। সে বলে - "মামা তুমি ইমুতে ফোন দিবে না। খল মি অন ওয়াটসেপ"

আমি জিগাইলাম ঐটা আবার কি? সে বলে, তোমাদের মত ওল্ড পিপলদের নিয়ে এই একটা সমস্যা। ঠেখনোলজী এডাপট করতে পারনা।

মাত্র মাস তিনেক হয় সে বিদেশ গেছে। এখনই তার বাংলা বলতে দাঁত ভেঙে যায় অবস্থা। এই হারামজাদারে জুতানো দরকার। দেশে থাকতে ল্যান্ট্রিনরে কইত পায়খানা আর এখন আমারে "ঠেকনোলজি" শেখায়।

- তা বাবা তোমার জন্যতো অনেক সম্বন্ধ আসতেসে। তুমি ব্যারিষ্টার হইলে অনেকেই তাদের মাইয়া দিতে পাগল হয়া যাবে। ভাল এমাউণ্টের যৌতুকও দিবে।

- আহ... মামা! এখন এসব ভাবার সময় নাই আমার। খেরিয়ার বিল্ডিং এর ঠাইম।

- বাবারে তুমি যে কি বিল্ডিং বানাইবা সেটা আমি জানি না। তুমি কি ইনিজিনিয়ারিংও পাশ দিবা নাকি? তবে অনেকেই জানতে চায়। তোমার কোন পছন্দ আছে নাকি?

- ওহ... নো মামা... এঞ্জিনিয়ার হব কেন? মাত্রতো এলাম। একটা পার্টটাইম জবে ঢুকেছি। কিছু টাকা পয়সা জমাই। ফাইভ-সিক্স ইয়ার পরে দেশে যাব তখন দেখা যাবে।

- জবে ঢুকেছো মানে? তাইলে পড়াশোনা করনা?

- আরে ওটায় খালি হাজিরা দিলেই হয়। এই পড়াশোনা আমাকে দিয়ে হবে না। তার থেকে এইখানে স্যাটেল হবার চিন্তা করছি।

- কি চাকরি পাইস? আমি চিন্তিত গলায় বলি?

- একটা পাকিস্তানি শপে সুপারভাইজারের কাজ, প্লাস ম্যানেজারের দায়িত্বও আমাকে পালন করতে হয়। বিয়ে-শাদী নিয়ে এখন কোন চিন্তা করছি না।

- পাইক্কাদের সাথে খাতির হইসে? তাদের গোলামি করতেস লেখাপড়া বাদ দিয়া? তোমার বাপে যে দেশ থেকে টাকা পাঠায় সেগুলা দিয়া হয় না?

- ওহ মামা... এখন রাখি। ডিউটি টাইম। পরে বাসায় গিয়ে ফোন দিচ্ছি। আর পাইক্কা বলবা না। আমরা সবাই ভাই-ভাই।

আমি খুব মর্মাহত হলাম ভাইগ্নার কথা শুনে। তার বাপেরে এখন কেম্নে বলি পোলা ব্যারিষ্টার না হয়ে বালেস্টার হবে। আধুনিক যুগের পোলাপান দাসত্বরে স্মার্টনেস ভাবে। বিদেশ গিয়া সে দোকানে সেলসম্যান হইসে আর তার বাপেরে বুঝাইসে সে ব্যারিস্টারি পড়তে গেসে। 

 - মতিনের মামা 

 

 

ফাক ইউ বয়েজ !!!

সদানন্দ আর ভোমায় তুমুল ঝগড়া লাগসে। কেউ কারো মুখ দেখে না এইরকম অবস্থা। দুইজনই পালাক্রমে আমারে ডিনার করাইসে আর একে অন্যের নামে বদনাম করসে। আমি খালি শুইনা গেসি, কোন রায় দেইনি। এরা অবশ্য রায়ের আশায় বিচার দেয় নাই। মানুষ তার মনের দুঃখের কথা অন্যকে বলতে ভালোবাসে, এরাও সেটাই করতেসে। তবে ব্যপারটা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লাগতেসে। কারন প্রতিবারই আমার কপালে ভালমন্দ খাবার জুটে যাচ্ছে।

তাই আমি চাই, এই বাকযুদ্ধ চলুক। বাকযুদ্ধ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়ার আগে অবশ্য থামাতে হবে। নাইলে আমছালা দুটোই যাবে। এই শেষ বয়সে এসে নতুন করে বন্ধু খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল।

ঝামেলার মূল কারন যেটা আমি আইডেন্টিফাই করতে পারসি সেটা বউ ঘটিত। কার বউ কারে কি বলসে, সেটা নিয়া। আমি সাধারণত বেডি মানুষের ঝামেলা থেকে দূরে থাকি। দুনিয়ার তাবৎ ঝামেলার একটা বৃহৎ এবং আজাইরা কারন এই বেডি-বেডি ঝগড়া।

কয়দিন দূরে থাকার পর একদিন সন্ধ্যায় ভোমারে ফোন দিলাম। দুই তিনবার রিং হবার পরে ধরল।

- কিরে কি করিস?

- কিছু না। মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।

- রোজা রাখছিস?

- অবশ্যই। আমি পাঁচ ওয়াক্ত রোজা রাখি।

- রোজা মানুষ দিনে একবার রাখে। তুই পাঁচবার করে রাখতেছিস কেন?

- ফাঁক ইউ ম্যান!

- আর ইফতারির সময় ঘুমায় কোন মাঙ্গের নাতি?

-  তুই শাউয়ার নাতি।

আমি হাসলাম, রাগ না করে বললাম, "দাদার শাউয়া আছিল কিনা জানি না। আমি ছোট থাকতেই পটল তুলসে। তবে বেডি মানুষের শাউয়া থাকে বলে জানি।"

- মন খারাপ ম্যান, তাই শুয়ে ছিলাম। তোর কি খবর বল?

- আমি ভাল আছি। তোদের দুইজনের কোন খবর পাচ্ছিলাম না, তাই ফোন দিলাম। 

- বউ গেছে শপিং এ। আমি বাসায় একা। চলে আয়...। সেহরি পর্যন্ত আড্ডা দিব তারপর দুইজন মিলে ঢাকা ঘুরতে বের হব।

- বউ শপিং এ গেছে তোর মন খারাপ কেন?

- আমার ক্রেডিট কার্ড নিয়া গেছে। ইতিমধ্যে সত্তর হাজার খরচের এসএমএস চলে আসছে।

- ধুর এইটা কোন বিষয় নাকি। অফিস গেলেই একদিনেই টু-পাইস কামাই এর থেকে বেশি হবে। এইটাতো তোর পিয়নের পকেট খরচও না। 

- তা ঠিক। তবে রোজায় ঘুষ খাই না। মানবতা বলেওতো একটা বিষয় আছে। 

- ওহ...হ... ভুলেই গেসিলাম। তুই তো পাঁচ ওয়াক্ত রোজা রাখিস। 

- ফাক ইউ ম্যান। দেরি না করে রওনা দে। একটা চিভাস রিগ্যাল এর বোতল দিয়ে গেছে ভাইগ্না। তুই আসলে একসাথে খাব।

- রমজানে? শয়তান না বান্ধা আছে? এই সকল আইডিয়া আসে কেমনে?

- ফাক ইউ ম্যান! ভোমা ফোন রেখে দিল।

আমি বাসা থেকে বের হলাম। যাবার সময় সদানন্দরে অনেক পিড়াপিড়ি করে তুলে নিলাম। বললাম ভোমা সিরিয়াস অসুস্থ। মান অভিমান ভেঙে মৃতপ্রায় বন্ধুকে দেখতে যাওয়া উত্তম। সদা আমার কথা বিশ্বাস না করলেও সাথে আসল। জ্যাম ঠেলে যেতে যেতে প্রায় একঘন্টা। ততক্ষনে সদা আমারে বারবার প্রশ্ন করছে সিরিয়াস অসুস্থ হলে ভোমা হাসপাতালে না হয়ে বাসায় কেন? আমি সিরিয়াস ভঙ্গিতে জবাব দিলাম - ফাক ইউ ম্যান। এই সময় হাসপাতালে নিয়া কি হবে? যা হবার হয়ে গেছে, একহ্ন মান অভিমানের সময় না। তবে ঠিক কি হয়েছে সেটা সদানন্দ জানে না।

দরজা খুলে সদা আর আমারে দেখে ভোমা অবাক। ভোমারে দুইপায়ে হাফপ্যান্ট পরে দাড়ায়া থাকতে দেখে সদাও কিঞ্চিত বিরক্ত। আমি হাসিমুখে বললাম, শয়তানরে সাথে নিয়া আসছি। 

ভোমা তার দীর্ঘ একমাসের অভিমান ভেঙে সদারে জড়ায় ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিল। আমি বুঝলাম সে ইতিমধ্যে কয়েক পেগ পেটে চালান করে দিয়েছে। তার এখন অতি আবেগের সময়।

সদা কিছু বলল না। সে ভোমার আলিঙ্গন থেকে ছাড়া পাবার জন্য ধস্তাধস্তি করছে। আমার দিকে তাঁকিয়ে শুধু বলল, শালা মাতালের বাচ্চা। এইডারে দূরে সরা।

আমার চোখে তখন আনন্দাশ্রু। আমি বললাম, ফাক ইউ গাইজ! 

মাসুদের ভোট

ভাবছিলাম নির্বাচন নিয়ে একটু রসিকতা করি। রসিকতা করার জন্য মাসুদকে খুঁজতেছি, কিন্তু গেইটে সে নাই। সে গেছে ভোট দিতে। তারে পই পই করে মানা করসি আমাকে না জানিয়ে ভোট দিতে যেতে না। কিন্তু সে নিষেধ অমান্য করসে।

আমি তার বসার চেয়ার আর লাঠিটা নিয়ে লিফটে করে উপরে চলে আসলাম। এইগুলার মিসিং রিপোর্ট করার জন্য হলেও তাকে আমার সামনে আসতে হবে। তখন তারে বানানো হবে।

এরপর গেলাম গণির চায়ের দোকানে। গণি আজকাল বেশ ভাব ধরে থাকে। কয়দিন মাথায় টুপি দিয়া ফেইক জামাতি সাজার চেষ্টা করছিল। এখন সদর্পে ঘোষনা দিয়ে বেড়ায় সে বিএনপি করে। কারন সে নিশ্চিত ভোটে তার দল ক্ষমতায় আসবে। তার মত শিওর কেইস অবশ্য আমাদের মাসুদও।

চায়ের দোকানে লোকজন কম। যারা আছে তারাও ভোট দিয়ে এসে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে একটু পর পর। রোজার সময় যেমন জিজ্ঞেস করে, ভাই রোজা আছেন নাকি? আজকে জিজ্ঞেস করতেসে, ভাই ভোট দিসেন নাকি?

এ এক মহা উৎসবের দিন। 

- গণি ভাই কি অবস্থা?

- অবস্থা ভালোনা ভাই। সিগারেট দিমু?

- দাও, আর একটা স্পেশাল মালাই চা। তা অবস্থা ভালো না ক্যান?

- এই যে জামাতিরা ট্যাকার বস্তা নিয়া নামসে ভোট কেনার জন্য।

-এইটাতে মন খারাপ করা কি আছে! নির্বাচন শেষে সবাই কামাইব। আগে থেকেই যদি কিছু হাদিয়া দিয়া দিতে চায় তবে সমস্যা কি?

- সমস্যা না? তাইলে ফেয়ার ইলেকশন হইল ক্যামনে?

- লাইফ ইজ নট ফেয়ার। - আমি আমার বিখ্যাত উক্তি দিলাম। 

- এইটা অবশ্য ঠিক বলসেন। তবে বিএনপি ক্ষমতায় না আসলে দেশে গৃহযুদ্ধ লাইগ্যা যাইব। জামাতিরা সব বেডি মানুষের কাম-কাইজ বন্ধ কইরা দিবো, স্কুল বন্ধ কইরা দিবো।

- কি বল! এইগুলা তোমারে কে বলসে?

- সবাই কয়, আমিওতো কিছু বুঝি নাকি?

- হুম... তুমি অবশ্য বেশি বুঝদার মানুষ। তা ভোট হ্যাঁ তে দিলা নাকি না'তে?

- ক্যান হ্যাঁ-তেই দিলাম।

- এইটা কি বুইঝা দিলা। তোমার দলতো এই গণভোটই চায় না। তাইলে তোমার না'তেই দেয়ার কথা না?

- এইটা কি বলেন?

গণি চিন্তায় পড়ে গেল। দলের সাথে বেইমানি হয়া গেল কিনা?

আমি চা শেষ করে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরা শুরু করলাম। কয়েকটা ভোট কেন্দ্রে গেলাম মানুষ দেখতে। তবে ভুলেও নিজের ভোট কেন্দ্রে গেলাম না। আমার ওস্তাদ নিষেধ করসে ভোট দিতে। সে বলসে গণতন্ত্র একটা ধোঁকার নাম। তোমরা শয়তানের ধোঁকায় পড়বা না। আমি ওস্তাদের কথা ফেলতে পারি না।

রাস্তায় উৎসাহী মানুষ দেখতে ভালো লাগতেসে। ভোট দিয়া কি সুন্দর হাইটা যাইতেসে, কুশল বিনিময় করতেসে একজন আরেকজনের সাথে, আঙুল উঁচাইয়া সেলফি তুলতেসে। মনে হইতেসে কুরবানির ঈদ।

বাসায় ফিরে একটা মুভি দেখব বলে ঠিক করলাম। ক্রিস্টফার নোলানের "ইনসেপশান"। জটিল একটা মুভি। স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে লোকজনের কাছ থেকে তথ্য চুরি করার নিঞ্জা কৌশল দেখায় কিছু লোক। এইরকম মুভি বানাইতে যেই ব্রেইন লাগে সেইটা সবার মধ্যে নাই। নোলানকে গুরু মানি এইজন্যই। মুভি শেষ হবার দশ মিনিটের মত বাকি এইসময় মাসুদ আসল। মেজাজ খারাপ করে উঠে গেলাম।

- কি চাস?

- বস, আমার চেয়ার আর লাঠি কে জানি নিয়ে গেছে।

- তুই কই আছিলি হারামজাদা?

- আমি ভোট দিতে গেসিলাম।

- শুয়োরের...আ। তোরে বলসিলাম ভোট দিতে যাবার আগে আমারে বলে যাবি?

- বস আসছিলাম বলতে, ম্যাডাম বলল আপনি ঘুমান। 

- ঘুমাইসি তো কি হইসে? তুই ওয়েট করলি না ক্যান?

- ভাবলাম সকাল সকাল যাই। পবিত্র কাজটা করে আসি।

- তোর পবিত্র কাজ এর গুল্লি মারি শালা। এখন ওইখানে কান ধরে দাঁড়ায়া থাক, নাইলে তোর খবর আছে। 

আমি গেলাম মুভি শেষ করে আসতে। মুভিটা আমার খুবই ভাল লাগসে। মুভি শেষ করে ফেইসবুকে একটা রিভিউ দিলাম। তারপর কয়েকটা রিলস দেখলাম। এরপর গেলাম আবার মাসুদের খবর নিতে।

মাসুদ কান ধরা অবস্থায় দেয়ালে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে। দিলাম একটা লাথি। হুড়মুড় করে পড়ে গিয়ে তার ঘুম ভাঙল।

- এই. শাওয়ার নাতি, তুই এই অবস্থায় ঘুমাইলি কেমনে? তুই তো গাধার অভ্যাস রপ্ত করে ফেলেছিস।

- কি যে কন বস, আপনারে গুরু মানি। 

তোর মত গুরু মারা শিষ্য আমার দরকার নাই। ভোট কারে দিসিস সেইটা বল? 

- বিম্পিরে... আমারে কালকে রাতে বিরানি খাওয়াসে।

- আচ্ছা ভালো। তাও কিছু পাইছিস। হ্যাঁ দিলি নাকি না?

- না'তে দিসি বস! আমি ইউনুসের বিপক্ষে।

- যা তোর আজকের শাস্তি মাফ করে দিলাম। ছাদে চেয়ার আর লাঠি আছে, গিয়া নিয়া আয়। গেইটের সামনে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেয়ারে বসে থাকবি।

মাসুদ ঠকাস করে একটা লম্বা স্যালুট দিয়ে চলে গেল।

 

-  কাপু
- একজন নির্বিবাদি লোক

বিয়ার দাওয়াত

হাসিব ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। লোকটা একটু বেশি কথা বললেও সাদা মনের মানুষ। তারে সহ্য করা যায়। কথায় কথায় সে জানাল সন্ধ্যায় দাওয়াত আছে। পরিবার যাচ্ছে না, তাই চাইলে আমি সাথে যেতে পারি।

আমি দাওয়াতে যাই না, কারন হাই কোলেস্টেরল প্রোটিন খাওয়ার কোন মানে পাই না আজকাল। তার উপর একজনের ঘাড়ের উপর আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকে কখন সিট খালি হবে।

তবুও কি মনে করে যেন চলে গেলাম আজকে সন্ধ্যায়। আশা করছি এইখানে কেউ আমাকে চেনে না। কাউকে হাসিুখে সালাম আর কুশল দেয়ার কিছু নাই। খাবো আর চলে আসব। গিয়ে দেখে সে এক এলাহি কান্ড। কনের বাপ পুরান ঢাকার বড় ব্যবসায়ী। বিশাল আয়োজনে করসে মেয়ের বিদায় উপলক্ষে। পুরাই মুভি সেটের মত করে সাজিয়েছে কমিউনিটি সেন্টার। কাভি খুশি কাভি গাম এর মত করে সাজগোজ করে গরিব লোকজন বড়লোক সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

খানা-দানার এলাহি কারবার। বিবাহ পড়ানো হইসে আগেই তাও কিছু আনুষ্ঠানিকতা, লোকিকতা আছে। ঢাকাইয়া লোকজনের বিবাহ কয়দিন ধরে হয় সেটাও আমার মাথায় সহজে ঢোকে না। এইটা অনেকটা ধারাবাহিক নাটকের মত। আমি খেয়েই বিদায় হতে গিয়েও পারলাম না। মনে হচ্ছিলো লাইভ কোন শুটিং এর মধ্যে আছি। একটার পর একটা নাটকের পর্ব চলছে। জুতা চুরি, মারামারি, কাচ্চিতে আলু কম হওয়া, রোস্টের সাইজ ছোট ইত্যাদি নানা ধরনের উত্তেজনা দেখতে ভালো লাগতেসিলো।

একটু আগেই একজনের সাথে আলাপে জানতে পেরেছি - বর আসলে ঘরজামাই হতে যাচ্ছে। তাতে অবশ্য আমার আপত্তি নাই। এইরকম শ্বশুর পেলে ঘরজামাই না থাকার কোন মানে দেখি না।

খাওয়াদাওয়া শেষে কন্যা বিদায়ের সময় হইসে। মাইয়া দেখে বিপুল বিক্রমে কান্নাকাটি শুরু করসে। একজন ভিডিওগ্রাফার আবার বিভিন্ন এঙ্গেলে সেইটার ভিডিও করতেসে। আশেপাশের সাইড নায়িকাদের চোখেও পানি। আমার আক্কেলগুড়ুম অবস্থা। পোলা যদি ঘরজামাই হয়, তাইলে মাইয়ার কান্নার কি আছে? সেতো বিদায় নিচ্ছে না। কানবে পোলায়, সে বাপের ঘর ছাইড়া বউয়ের ঘরে যাইতেসে। 

পোলারে অবশ্য কানতে দেখলাম না। সে মুচকি মুচকি হাসছে। তার বাসর রাতের উত্তেজনার কথা মনে পড়ছে মনে হয়। নির্লজ্জ কোথাকার, চোখে একটুও শরম নাই।

এই কারনেই বিয়াশাদীতে যেতে চাই না। বিয়া না মুভি সেটাই বুঝতে পারতেসি না। 

অবশ্য কি যায় আসে? আমার খাওয়া-দাওয়া দিয়া দরকার ছিল, সেটা ভরপেট হইসে। তবে এরা খাবার শেষে পানের সাথে সিগারেটের ব্যবস্থা রাখে নাই।

- মুরুব্বি 

 


হ্যাপি নিউ ইয়ার অথবা ১লা জানুয়ারী, ২০২৬

আরাম করে একটা মুভি দেখছিলাম। ইংরেজী ছবিতো তাই এইগুলারে মুভি বলে। দেশি আর কলকাতার ছবি হলে চলচ্চিত্র বলে। মুভির নাম "Wicked" - ত্রিশ মিনিট দেখার পরে বুঝলাম এইটা আসলে বাচ্চাদের ছবি। ফ্ল্যাট বডির একটা নায়িকা কাস্ট করছে। যে একটু পর পর নাকি সুরে গান গায়। আর কালা একটা ডাইনি আছে। চোঙ্গা টাইপের একটা টুপি পরে সে ঝাড়ুর উপর বসে উড়ে বেড়ায়। প্রথেমে ভাবসিলাম হ্যারিপটারের খালা টাইপের কেউ হবে, পরে  দেখলাম এইটা আসলে জটিল ফ্যামিলি পলিটিক্স এর ছবি।

যাই হোক, মুভির মাঝামাঝি পর্যায়ে আগ্রহ যখন হারিয়ে ফেলেছি এইসময় ভোমা ভিডিও কল দিল। আজকে পকেট ফাঁকা, শুক্রবারে কোথাও মাল পাওয়া যায় না, বেজায় শীত - এইসকল কারনে আমি বাইরে বের হব না ঠিক করে কল রিসিভ করলাম।

ভোমা আনন্দিত গলায় বলল, দ্যাখ সিন সিন্যারি।

মোবাইল স্ক্রিনে অর্ধনগ্ন সদানন্দ। সে নানা ভঙ্গিমায় তার পেট দেখাচ্ছে।

- কি সমস্যা? আমি আতংকিত হয়ে বলি।
- কিসের সমস্যা? আমার পেট কমসে না দ্যাখ? সদানন্দ সিরিয়াস গলায় বলে।

- আমি কেমনে কমু... তোর বউরে জিগা! আর পেট দেখাস না দুধ দেখাস? তোর তো ব্রা পরা ফরয হয়ে গেছে।

- ধুর... তুই ব্যাটা খালি ফাইজলামি করস। আমার শরীর খারাপ... চল ঘুরতে বের হই।

- তোরে দেইখা মনে হইতেসে তুই মইরা যাবিরে সদা। কমপ্লিট ডেড। তোর সম্পত্তি থাকলে উইল রেডি করা শুরু কর।

- আমার পেশাপ লাল হয়ে গেছে। সদানন্দ সিরিয়াস গলায় জানায়। 

- পেশাপ লালের সাথে সেভেন টুয়েন্টি পিতে গে-পর্ন দেখানোর সম্পর্ক কি? তোর কি অনলি ফ্যানস একাউন্ট আছে?

- ক্রেনবেরি খেয়ে আমার এই অবস্থা। 

- ক্রেনবেরি খেয়ে কারো পেট কমসে শুনি নাই। তুই প্রথম এক্সাম্পল। 

ভোমা কিছু বলে না। সে বিড়িতে সুখটান দিতে ব্যাস্ত।

- আয় বাইরে বের হই। বছরের পয়লা দিন। বাইরে কি সুন্দর আবহাওয়া।

- না বাইরে যাওয়া যাবে না। বউ মানা করসে। তার উপর বাইরে ঠান্ডা।  

- ঠান্ডা নাই, জ্যাকেট নিয়ে আয়। আমরা গাড়িতে করেই ঘুরব।

- নারে, তোরা ঘুরতে যা। এই ঠান্ডায় বাইরে গেলে তোর মত আমারও পেশাপ ওয়াইন হয়ে যাবে। মিরাকল দেখাতে চাচ্ছি না। 

আমার মেটাফোর সদানন্দ বুঝল না। ভোমা বিড়ি টানতে ব্যাস্ত, সে দিন দুনিয়া নিয়ে খুব একটা চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে না।

আমি চিন্তা করছি সদানন্দ ডিপস্টেটের এজেন্ট কিনা? কারন একটু পরে বউ আইসা বলতেসে চল ঘুরতে যাই। আমারে রাজি করাইতে না পাইরা শেষে তার বউরে বা ভোমার বউরে দিয়া আমার বউরে ফোন দেয়াইসে। পারিবারিক কলহ না চাইলে এখন আমাকে নিজের ইচ্ছা স্যাক্রিফাইস করতে হবে।

বিশ মিনিট পর সদায় মোবাইলে মেসেজ পাঠাইসে - হ্যাপি নিউ ইয়ার, টু মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড! 

কে যে বন্ধু আর কে শত্রু সেটা বোঝা মুশকিল।

- বড় ভাই