শুটকি
ওমর সানির একটা এড দেখি ফেইসবুকে মাঝেমধ্যে। সে একটা অফিস চেয়ারে বসে বোতল থেকে শুটকি ভর্তা নিয়ে ভাত খাচ্ছে। তার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে কষ্ট হলেও সে খাচ্ছে।
যারা এই মোটকারে শুটকি খাওয়াইতে পারসে তাদেরকে ধন্যবাদ। তো এই শুটকি আমি অর্ডার দিলাম এক বয়াম। যদিও আমি শুটকি খাই না। আমার বস বলসে শুটকিতে প্রচুর কিটনাশক দেয়া থাকে। এইডি খাইলে কিডনি ড্যামেজ হবেই হবে। অর্ডার দিয়া আফসোস করলাম, কেন করলাম এই কাম? বসের আদেশ অমান্য করা হইতেসে পাপের মত।
শুটকি ডেলিভার করল, টেস্ট করলাম। যেমন তেমন যাকে বলে। চাংখারপুলের ভাতের হোটেলে এর থেকে ভাল শুটকি ভর্তা বানায়।
টাকাটা যেন লস না যায় এইজন্য বয়ামটা মাসুদরে দিয়া দিলাম। বললাম এইটা সৌদির আঁচার। খাইলেই সোয়াব হবে। সে মহাআনন্দে এইটা নিল। ফ্রি যেকোন জনিসের প্রতি মাসুদের লোভ প্রচন্ড। আসলে গরীব মানুষের কোন ক্লাস নাই। এরা শ্রেনিহীন মানুষ, সমাজের নিন্মস্তরের বোঝা।
শুটকির আঁচার খেয়ে মাসুদের পেট খারাপ হয়ে গেল। কুত্তার পেটে আসলে ঘি সহ্য হয় না। তবে আমি বুঝলাম। বস যা বলে ভালোর জন্যই বলে।
মাসুদরে পেট খারাপ উপলক্ষ্যে একদিনের ছুটি দিলাম। সে তার গার্লফ্রেন্ড্রে নিয়া ঘুরতে চলে গেল। বউ থাকার পরেও এই ঢাকা শহরে মাসুদ যে কিভাবে একটা গার্লফ্রেন্ড যোগাড় করসে এইটা ভাইবা আমার মাঝে মধ্যে ঈর্ষা হয়।
আজকে বাইকে তেল নাই। ভাবসিলাম মাসুদরে লাইনে দাঁড় করায়া দিব। হইল না। ওমরসানি তোমার এডের কারনে কতকিছু যে হারাইলাম। তোমাকে ট্রস ট্রস করে চাবুক মারতে হবে।
--- কাপু
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন