পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বিয়ার দাওয়াত

হাসিব ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। লোকটা একটু বেশি কথা বললেও সাদা মনের মানুষ। তারে সহ্য করা যায়। কথায় কথায় সে জানাল সন্ধ্যায় দাওয়াত আছে। পরিবার যাচ্ছে না, তাই চাইলে আমি সাথে যেতে পারি।

আমি দাওয়াতে যাই না, কারন হাই কোলেস্টেরল প্রোটিন খাওয়ার কোন মানে পাই না আজকাল। তার উপর একজনের ঘাড়ের উপর আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকে কখন সিট খালি হবে।

তবুও কি মনে করে যেন চলে গেলাম আজকে সন্ধ্যায়। আশা করছি এইখানে কেউ আমাকে চেনে না। কাউকে হাসিুখে সালাম আর কুশল দেয়ার কিছু নাই। খাবো আর চলে আসব। গিয়ে দেখে সে এক এলাহি কান্ড। কনের বাপ পুরান ঢাকার বড় ব্যবসায়ী। বিশাল আয়োজনে করসে মেয়ের বিদায় উপলক্ষে। পুরাই মুভি সেটের মত করে সাজিয়েছে কমিউনিটি সেন্টার। কাভি খুশি কাভি গাম এর মত করে সাজগোজ করে গরিব লোকজন বড়লোক সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

খানা-দানার এলাহি কারবার। বিবাহ পড়ানো হইসে আগেই তাও কিছু আনুষ্ঠানিকতা, লোকিকতা আছে। ঢাকাইয়া লোকজনের বিবাহ কয়দিন ধরে হয় সেটাও আমার মাথায় সহজে ঢোকে না। এইটা অনেকটা ধারাবাহিক নাটকের মত। আমি খেয়েই বিদায় হতে গিয়েও পারলাম না। মনে হচ্ছিলো লাইভ কোন শুটিং এর মধ্যে আছি। একটার পর একটা নাটকের পর্ব চলছে। জুতা চুরি, মারামারি, কাচ্চিতে আলু কম হওয়া, রোস্টের সাইজ ছোট ইত্যাদি নানা ধরনের উত্তেজনা দেখতে ভালো লাগতেসিলো।

একটু আগেই একজনের সাথে আলাপে জানতে পেরেছি - বর আসলে ঘরজামাই হতে যাচ্ছে। তাতে অবশ্য আমার আপত্তি নাই। এইরকম শ্বশুর পেলে ঘরজামাই না থাকার কোন মানে দেখি না।

খাওয়াদাওয়া শেষে কন্যা বিদায়ের সময় হইসে। মাইয়া দেখে বিপুল বিক্রমে কান্নাকাটি শুরু করসে। একজন ভিডিওগ্রাফার আবার বিভিন্ন এঙ্গেলে সেইটার ভিডিও করতেসে। আশেপাশের সাইড নায়িকাদের চোখেও পানি। আমার আক্কেলগুড়ুম অবস্থা। পোলা যদি ঘরজামাই হয়, তাইলে মাইয়ার কান্নার কি আছে? সেতো বিদায় নিচ্ছে না। কানবে পোলায়, সে বাপের ঘর ছাইড়া বউয়ের ঘরে যাইতেসে। 

পোলারে অবশ্য কানতে দেখলাম না। সে মুচকি মুচকি হাসছে। তার বাসর রাতের উত্তেজনার কথা মনে পড়ছে মনে হয়। নির্লজ্জ কোথাকার, চোখে একটুও শরম নাই।

এই কারনেই বিয়াশাদীতে যেতে চাই না। বিয়া না মুভি সেটাই বুঝতে পারতেসি না। 

অবশ্য কি যায় আসে? আমার খাওয়া-দাওয়া দিয়া দরকার ছিল, সেটা ভরপেট হইসে। তবে এরা খাবার শেষে পানের সাথে সিগারেটের ব্যবস্থা রাখে নাই।

- মুরুব্বি 

 


হ্যাপি নিউ ইয়ার অথবা ১লা জানুয়ারী, ২০২৬

আরাম করে একটা মুভি দেখছিলাম। ইংরেজী ছবিতো তাই এইগুলারে মুভি বলে। দেশি আর কলকাতার ছবি হলে চলচ্চিত্র বলে। মুভির নাম "Wicked" - ত্রিশ মিনিট দেখার পরে বুঝলাম এইটা আসলে বাচ্চাদের ছবি। ফ্ল্যাট বডির একটা নায়িকা কাস্ট করছে। যে একটু পর পর নাকি সুরে গান গায়। আর কালা একটা ডাইনি আছে। চোঙ্গা টাইপের একটা টুপি পরে সে ঝাড়ুর উপর বসে উড়ে বেড়ায়। প্রথেমে ভাবসিলাম হ্যারিপটারের খালা টাইপের কেউ হবে, পরে  দেখলাম এইটা আসলে জটিল ফ্যামিলি পলিটিক্স এর ছবি।

যাই হোক, মুভির মাঝামাঝি পর্যায়ে আগ্রহ যখন হারিয়ে ফেলেছি এইসময় ভোমা ভিডিও কল দিল। আজকে পকেট ফাঁকা, শুক্রবারে কোথাও মাল পাওয়া যায় না, বেজায় শীত - এইসকল কারনে আমি বাইরে বের হব না ঠিক করে কল রিসিভ করলাম।

ভোমা আনন্দিত গলায় বলল, দ্যাখ সিন সিন্যারি।

মোবাইল স্ক্রিনে অর্ধনগ্ন সদানন্দ। সে নানা ভঙ্গিমায় তার পেট দেখাচ্ছে।

- কি সমস্যা? আমি আতংকিত হয়ে বলি।
- কিসের সমস্যা? আমার পেট কমসে না দ্যাখ? সদানন্দ সিরিয়াস গলায় বলে।

- আমি কেমনে কমু... তোর বউরে জিগা! আর পেট দেখাস না দুধ দেখাস? তোর তো ব্রা পরা ফরয হয়ে গেছে।

- ধুর... তুই ব্যাটা খালি ফাইজলামি করস। আমার শরীর খারাপ... চল ঘুরতে বের হই।

- তোরে দেইখা মনে হইতেসে তুই মইরা যাবিরে সদা। কমপ্লিট ডেড। তোর সম্পত্তি থাকলে উইল রেডি করা শুরু কর।

- আমার পেশাপ লাল হয়ে গেছে। সদানন্দ সিরিয়াস গলায় জানায়। 

- পেশাপ লালের সাথে সেভেন টুয়েন্টি পিতে গে-পর্ন দেখানোর সম্পর্ক কি? তোর কি অনলি ফ্যানস একাউন্ট আছে?

- ক্রেনবেরি খেয়ে আমার এই অবস্থা। 

- ক্রেনবেরি খেয়ে কারো পেট কমসে শুনি নাই। তুই প্রথম এক্সাম্পল। 

ভোমা কিছু বলে না। সে বিড়িতে সুখটান দিতে ব্যাস্ত।

- আয় বাইরে বের হই। বছরের পয়লা দিন। বাইরে কি সুন্দর আবহাওয়া।

- না বাইরে যাওয়া যাবে না। বউ মানা করসে। তার উপর বাইরে ঠান্ডা।  

- ঠান্ডা নাই, জ্যাকেট নিয়ে আয়। আমরা গাড়িতে করেই ঘুরব।

- নারে, তোরা ঘুরতে যা। এই ঠান্ডায় বাইরে গেলে তোর মত আমারও পেশাপ ওয়াইন হয়ে যাবে। মিরাকল দেখাতে চাচ্ছি না। 

আমার মেটাফোর সদানন্দ বুঝল না। ভোমা বিড়ি টানতে ব্যাস্ত, সে দিন দুনিয়া নিয়ে খুব একটা চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে না।

আমি চিন্তা করছি সদানন্দ ডিপস্টেটের এজেন্ট কিনা? কারন একটু পরে বউ আইসা বলতেসে চল ঘুরতে যাই। আমারে রাজি করাইতে না পাইরা শেষে তার বউরে বা ভোমার বউরে দিয়া আমার বউরে ফোন দেয়াইসে। পারিবারিক কলহ না চাইলে এখন আমাকে নিজের ইচ্ছা স্যাক্রিফাইস করতে হবে।

বিশ মিনিট পর সদায় মোবাইলে মেসেজ পাঠাইসে - হ্যাপি নিউ ইয়ার, টু মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড! 

কে যে বন্ধু আর কে শত্রু সেটা বোঝা মুশকিল।

- বড় ভাই