পোস্টগুলি

2025 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ডেভের ঢাকা ভ্রমন

খেজুরের রস খাবার জন্য ডেভকে নিয়ে গেলাম ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ। ডেভ মানে ডেভিড মিলার। তাকে শাস্তিস্বরূপ (!) বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

দেশে কোন এক ক্ষমতাবানের পেছনে আঙুল দিয়েছে তাই কানাডা অফিস থেকে সোজা ঢাকায় বদলি। ডেভ অবশ্য এটাকে কান্ট্রি এক্সপ্লোর করার সুযোগ হিসেবে নিয়েছে। একটুও মন খারাপ করেনি। 

আমাদের প্রজেক্টে আরো তিনজন ফরেনার কাজ করে। কিন্তু ডেভের সাথেই আমার খাতির বেশি। কারন প্রায় প্রতিদিন আমরা অফিস শেষে শুরা পানের আড্ডায় বসি। একটু মাতাল হলেই ডেভ তার দুঃখের কথা বলে, দেশে ফেলে আসা গার্লফ্রেন্ডের কথা বলে। আর বলে বাংলাদেশের মানুষ এত ভালো... এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না। আমি কিছু বলি না শুধু মুচকি হাসি। গুলশান বনানীর বাইরে গত তিনমাসে সে খুব একটা কোথাও যায়নি।

তো এবার ময়মনসিংহ গিয়ে তার ভুল ভাঙ্গলো। তৌহিদি জনতা দিপু চন্দ্র দাস নামে একজনরে পিটিয়ে মেরে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মারছে। ডেভ এই ঘটনা চাক্ষুস করেছে। মারামারি যখন চলছে আমাকে বলল, চল ওকে সেইভ করি।

আমি হতাশ হয়ে বললাম, পারবা না। সে হিন্দু।  

- কিন্তু এভাবে মারলে তো মরে যাবে।
- সেটাই ওদের লক্ষ্য। তুমি বাঁচাতে গেলে তোমাকেও মারবে। সাদা চামড়া খুব বেশি দেখে না আমাদের দেশের মানুষ।
- কেন মারবে?

আমি হতাশ হয়ে দেশের বর্তমান অবস্থার কথা বললাম। দেশে পুলিশিং নাই সেটাও বললাম।

- তাই বলে একটা মানুষকে শুধু ধর্মের নামে পিটিয়ে মেরে ফেলবে?

- খালি মারবেই না, একটু পরে লাশ পুড়িয়েও দেবে। প্রমান রাখা যাবে না। তৌহিদি জনতা বোকা না।

- ওহ লর্ড। ডেভের চোখ কপালে উঠেছে ততক্ষনে। "এত বড় ক্রাইম হয়, আর তোমাদের সরকার কিছু বলে না?"

- তুমি বেশি মন খারাপ করোনা। আমাদের এখানে কবর থেকে তুলে লাশ পোড়ানো হয়েছে কয়দিন আগে। এখন লাশ বানিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। প্র্যাক্টিস মেইকস অ্যা ম্যান পারফেক্ট!

ডেভ আমার দিকে আতঙ্কিত চোখে তাকাচ্ছে। আমার নির্বিকার ভঙ্গি তার ভাল লাগছে না। আমি এই বোকা কানাডিয়ানকে নিয়ে কি করব বুঝতে পারছি না।

ঢাকায় ফিরতে বেশ রাত হয়েছে। সারা রাস্তা ব্লকেড। একজন বিপ্লবী মারা গেছেন। তার অনুসারীরা নানা জায়গায় মব তৈরি করে আগুন দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে। শুনলাম প্রথম আলু আর ডেইলি স্টারেও নাকি আগুন দিয়েছে। ছায়ানটে ভাংচুর চলছে। মারহাবা!

ডেভকে খুব আতংকিত দেখলাম। সে ভাবছে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে গেছে!

- এই দেশে হচ্ছে কি? তুমি ভয় পাচ্ছ না?

- কেন...? প্রেস্ক্রিপশন চেনা লাগছে না? কালার রেভুলুশ্যন এর পরে এরকমইতো হয়ে থাকে।

- করলাম না এই ছাতার চাকরি। কালকে সকালেই রিজাইন দিয়ে নিজের দেশে চলে যাবো। 

- সেটাই ভালো, সাদা চামড়ারা সব চলে যাক।  আমি দুই লাইন কবিতাও শুনিয়ে দিলাম ডেভকে-

"মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।"
 
 সব কিছুতে আগুন দিতে হবে।

- তুমিও আমার সাথে চলো। এই পাগলের দেশে থেকে কি করবে? এখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই।

আমি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, "তুমি তোমার দেশে যাবে, কিন্তু এটাই আমার দেশ।"

- তাই বলে এরকম মূর্খদের মাঝে থাকতে হবে?

আমি হতাশ স্বরে বললাম, পালিয়ে যাবো কোথায়? আমার পাসপোর্ট সবুজ রঙের। কানাডিয়ান বা আমেরিকান ভিসা নেই। চাইলেই তুমি ভাগতে পারবে না।

ডেভ বিড়বিড় করে কি বলল বোঝা গেলনা। সে হয়ত এখন বুঝতে পারছে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে কেন।

-- ইয়াসিন ব্যাপারী
-- গার্মেন্টস ব্যবসায়ী
ঢাকা, ১৯শে ডিসেম্বর, ২০২৫



 

বেস্টু

এক শাউয়ার নাতি আসে আমাদের রাত্রিকালীন আড্ডায়। একটু পর পর তার মোবাইলে ফোন আসে আর সে উঠে গিয়ে চিপায় চলে যায়। ফিস ফিস করে আলাপ সেরে আবার ফেরত আসে। 

তারে জিজ্ঞেস করলে বলে, সে তার 'বেস্টু"র সাথে কথা বলে।

আমি কিছুটা আতংকিত হয়ে বললাম, এই বেস্টু পোলা না মাইয়া? 

- মাইয়া ডুড... মাইয়া।

- মাইয়া কিভাবে "বেস্টু" হয়? আমার মাথায় কিছুতেই ঢোকে না। তুই ব্যাটা পোলা হইলে তোর বেস্ট ফ্রেন্ড হবে আরেকটা পোলা। বেডা মাইনষের লগে মাইয়া মানুষের ফ্রেন্ডশিপ হয় নাকি?

- তাইলে কি হয়? 

- যা হয় সেইটারে আমি ফাকবাডি বলে জানি।

- ডুড, তোমরা ওল্ড টাইমার। এগুলো বুঝবে না। তোমারা লাগালাগি বাদে আর কিছু বুঝো না। তোমাদের কারনেই দেশের জনসংখ্যার আজকে এই অবস্থা।

বয়স হইসে। দুনিয়ার কিছু অভিজ্ঞতাও আছে। কিন্তু কেউ বুড়া বললে খুব অপমান লাগে।

- আমেরিকায় দেখসি যেসব বেডার মেয়ে বেস্টি থাকে তারা আসলে গে। মেয়েরা নিশ্চিন্তে তাদের সাথে ঘোরাঘুরি করে, কথাবার্তা শেয়ার করে। এই কারনে আবার কিছু বেডা ফস্টিনস্টি করার জন্য বেডা হওয়া সত্ত্বেও নিজেরে গে অথবা মেয়ে বলে পরিচয় দেয়। তুমি এই দুইটার কোনটা?

- কেন গে হইলে সমস্যা কি?

- নাহ কোন সমস্যা নাই। এদের লাগালাগিতে জগতের কোন উপকার হয় না।

- তুমি বুঝবে না ডুড... তুমি লাইফটা এঞ্জয় করতে পারোনি। তাই তোমার হিংসা হয়।

শাউয়ার আবার ফোন এসেছে। সে এখন আবার চিপায় গিয়ে তার ব্রেস্ট ফ্রেন্ডকে মর‍্যাল সাপোর্ট দিবে।  

নাহ... বেডা হইয়া বেডা না লাগানোতে আজ পর্যন্ত আমার কোন আফসোস নাই। তবে আজকালকের পোলাপানের নৈতিক চরিত্র আর লিংগ পরিচয় আমাকে সতত পীড়া দেয়।

-- সদানন্দ
( জগতের সকল প্রানী সুখী হোক। শুধু গে-রা বাদে। এরা সমাজের আবর্জনা।)

 


 

চোর-পুলিশ

রাস্তায় আসার সময় দেখলাম পুলিশের সাথে নতুন এক বাহিনী ক্রিম কালারের ড্রেস পরে গরীব বাইকারদের হেনস্তা করছে। প্রথমে ভেবেছিলাম জনবল সংকটের কারনে হয়ত বসুন্ধরা আবাসিকের সিকিউরিটি গার্ডদের পুলিশ ভাড়া করেছে।

সামনে গিয়ে সে ভুল ভেঙে গেল। এরাও পুলিশ! আমি আরো ভাবছিলাম মাসুদকে এইরকম একটা ড্রেস কিনে দেবো। হারামজাদা ড্রেস না পরার কারনে লোকজন তারে বাড়ির দারোয়ান বলে চিনতে পারে না।

আমি পুলিশ দেখলে দশ হাত দূরে থাকি। আমার বন্ধু রাশেদ, ক্লাস থ্রিতে থাকতে আমাকে বলছিলো পুলিশ নাকি বাচ্চাদের কিডন্যাপ করে তাদের নুন্টুস বিক্রি করে দেয়। সে কই থেকে এই উদ্ভট তথ্য পেয়েছিল আমার জানা নেই। আর বাচ্চাদের নুন্টুস এর কাজ কি সেটাও আমি তখন জানতাম না। তবে সেই থেকে যে ভয় আমার মনে ঢুকে গেছে সেটা আজও কাটেনি।

রাশেদ এখন কোথায় আছে জানি না। সে কি এখনও পুলিশকে ভয় পায়? তাকে পেলে বলা যেত, পুলিশকে আর ভয় পাওয়ার দরকার নাই, ওরা বদলে গেছে। নতুন পোষাকে ওরা এখন ফেরেশতাদের মত হয়ে গেছে।

রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ অবশ্য ব্যর্থ হতে চলেছে। একেও নতুন পোষাক পরানো দরকার।

উদ্যোক্তা

মুরুব্বিরে সকালে ডাইকা বললাম, সারাদিন যে জ্ঞান কপচান, উপদেশ দেন সবাইরে, এতে কোন কাজ হয়? শুধু শুধু সময় নষ্ট। এর থেকে চলেন দুইজন মিলা একটা ব্যবসা শুরু করি।

দশটা অটোরিকশা নামায় দিলাম, প্রতিদিন ইনকাম। মাঝে মধ্যে নিজেরাও সেই অটো চালামু, ডাবল লাভ। 

আজাইরা সময় নষ্ট না করে নিজেদের উপকার হবে। পকেটে কিছু পয়সা আসবে। দশজন বেকারের কর্মসংস্থান হবে।

মুরুব্বি শালায় আমারে ফকিন্নি বলে চলে গেল। সে নাকি এইরকম ছোট খাট কাজে সময় নষ্ট করতে চায় না।
সে বিশ্বমানবতার উপকারে নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়।

আরে কোন ব্যবসাই কি ছোট হয়? ছোট হয় মানুষের মন। বিল গেটস কি একদিনে বড়লোক হইসে। সে একসময় কম্পিউটার পার্টসের ব্যবসা করে নাই? এরপর নিজেই এখন কম্পিউটার বানায়।

এখন পার্টনার খুঁজতেসি। আমার নিরাপদ এবং পরিবেশবাদী পার্টনার দরকার। যে বিশ্বাস করে অটোরিকশাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
 

- শাহজাহান ড্রাইভার
- নতুন উদ্যোক্তা 

 


 

কে থাবড়ায় রে...?

অফিস কলিগ জুবায়েরের একটা মুদ্রাদোষ আছে। কথা বলার সময় সে মাঝে মধ্যে ডান হাত দিয়ে সামনের জনকে চাপড় দেয়। এইটা ঠিক থাপ্পড় না আবার খুব রোমান্টিক কিছুও না। যারা তার এই অভ্যাসের সাথে পরিচিত না তাদের কাছে প্রথম দেখাতেই কেউ এইরকম ফ্রেন্ডলি আচরন করতেসে দেখলে ভালো লাগার কথা না।

ব্যাপারটা আরো খারাপ লাগে যখন সে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবার সাথে এরকম করে। জুবায়েরর এই মুদ্রাদোষ এর একমাত্র ভাল জিনিস হচ্ছে সে জেন্ডার বায়াসড না। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাইকে জুবায়ের সমান ভাবে থাবড়ায়।

গতকালকে অফিসের সিড়িতে দাঁড়িয়ে আমরা দুজন ব্রি সেবন করছিলাম। জুবায়েরকে হালকা মেজাজে বললাম, ব্রো, এই যে তুমি সবাইকে থাবড়াও ব্যপারটা বেশি ভালো লাগে না। তুমি আমার থেকে তিন হাত দূরে দাঁড়াও। ওইখান থেকে আমরা কথা বলি। আজকে তোমার থাবড়া খাইতে ভালো লাগতেসে না।

- এইটা কোন কথা বললেন বস। আমি কি যারে তারে থাবড়াই? যাদের ভাল লাগে শুধু তাদের থাবড়াই। উদাস স্বরে বলে জুবায়ের ব্রিতে একটা লম্বা টান দিল।

- আমারে বস ডাকতে মানা করসি না? আমি কি তোমার বস। মাজহার ভাই তোমার বস। তুমি আমারে নাম ধরে ডাকবা, স্যার বলবা বা ভাই বলে ডাকবা। 

- মাজহার ভাই ব্রি খাইতে আমন্ত্রন জানায় না। সে বালের বস। ঠিক আছে আপনারে আমি মিয়া-ভাই বলে ডাকব।

- যা খুশি বলে ডাকো। কিন্তু দয়া করে আবার মিয়া খলিফার ভাই বানায় দিয়ো না।

- ঐটা আবার কে?

আমি জুবায়েরের এই ইনোসেন্স পুরাই বেক্কল হয়ে গেলাম। "জুবায়ের তোমার গার্লফ্রেন্ড থাকবে না"

- এইটা কি বললেন মিয়া ভাই? আপনে তো অন্তর্যামী।

-  কেন কি হইসে? 

- গার্লফ্রেন্ড ব্রেকাপ করসে, গতকাল। মনটা খুব উদাস?

- ঘটনা কি? আমি বিরস বদনে বলি।

- সে বন্ধু দিবসে আমারে একটা সোনার চেইন উপহার দিসে। এইটা নাকি গলায় পরে। সেইখানে আবার লকেট তার ছবি আছে তাতে লেখা "লাভ"। আমি শুধু বলসিলাম - আমি কি কুত্তা যে চেইন পরব? ব্যাস লেগে গেল ঝগড়া।

- তারপর...?

- তারপর আর কি...! বলে গেসে আমি নাকি রোমান্টিক না। আমারে আবিয়াইত্তা হয়েই মরতে হবে।

- গুড লর্ড... এইরকম গার্লফ্রেন্ডের থেকে কুত্তা পালাও ভালো।

- মিয়া ভাই... এইটা মনের মত বলসেন। অফিসে বসের ঝাড়ি খাই আবার বাইরে গেলে গার্লফ্রেন্ডের। এর থেকে কুত্তার জীবনও ভালো। বেশি পেরেশানি ভাল লাগে না।

- তোমারে কুত্তা হইতে বলি নাই। বলসি এইরকম গার্লফ্রেন্ড পালনের থেকে কুত্তা পালা ভালো।

- আরে তারে কি আমি পালি নাকি! সে কোটিপতি বাপের মাইয়া। যেই চাকরি করি... এইটা দিয়া আমার সারা মাসের মালব্রোর খরচ ওঠে না।

- তাইলে চলো কি করে?

- গার্লফ্রেন্ডের টাকায়। সে প্রতিমাসে তার হাত খরচ থেকে আমারে ত্রিশ হাজার টাকা দেয়।

- ওহ... লর্ড। আমি এবার স্বভাবতই বিরক্ত হই। এই মাইয়া তোমারে চেইন দিসে আর তুমি সেইটা নাও নাই? তুমি আসলেই একটা "নির্বোধ"। যেই দুধের গাভি দুধ দেয়, তার লাত্থি সহ্য করতে হয়। সে তোমারে গু দিলেও সেটা আচার মনে করে খাইয়া ফেলবা।

- হইতে পারে। তবে সে আবার ফেরত আসবে। এইজন্য পেরেশানি নিতেসি না।  

- এরে পটাইলা কেমনে? তোমার মতন চোদুর এইরকম একটা মালদার গার্লফ্রেন্ড আছে ভাবতেই কষ্ট হয়।

- সে এক বিরাট ইতিহাস মিয়া ভাই। সবই উপরওয়ালার ইচ্ছা!

ব্রি-সেবনের ব্রেক শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ইতিহাস আর শোনা হল না। আমি শুধু উপরওয়ালাকে অভিযোগ জানালাম। জুবায়ের যে এতবড় ফাকবয় সেটা আমার জানা ছিল না। কেন যে এইসকল ভাদাইম্মার কপালে আইসা এইরকম মাইয়া জোটে!

মেয়েরা আসলে লম্পট, বাবাখোর আর হিরুঞ্চি ছেলেদেরকেই বেশি পছন্দ করে।

 

 -- মিয়া ভাই 

 

 

 

 

আড়ং নাকি ভড়ং

আড়ং কে আমি বলি ভড়ং। এইটা মনে হয় উন্মাদ পত্রিকা থেকে আমার মাথায় ঢুকসে। বউয়ের সাথে অনেকবার গেসি। সায়েন্সল্যাব, বসুন্ধরা সিটি এই দুই ব্রাঞ্চেই বেশি যাওয়া হয়েছে। আমার কাছে সবসময়ই এই ব্র্যান্ডকে ওভাররেটেড মনে হইসে।

আমি আসলে ছয়-সাত হাজার টাকা দিয়ে পাঞ্জাবি কিনার পাবলিক না। এরা যে সকল জামাকাপড় বেচে সেগুলা খুবই বেসিক ডিজাইনের হয়, কিন্তু দাম থাকে চড়া। নিউমার্কেটে একটু খুঁজলেই এর থেকে কমে ভাল জিনিস পাওয়া যায়।

তবে নারীকুলের কাছে আড়ং অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেহেতু লম্বা সময় ধরে এরা বৃহৎ একটা নারীসমাজকে মুগ্ধ করে রাখতে পেরেছে তার মানে এদের ডিজাইন এবং কাপড় নারীদের ভালো লাগে। নাইলে এতদিন ধরে উচ্চমধ্যবিত্তদের এরা মুগ্ধ করে রাখতে পারত না। তবে উচ্চ মূল্যে এসির বাতাস খাইতে খাইতে শপিং আমার সহ্য হয় না।

বর্তমানে অনলাইনে এদের একটা নেগেটিভ মার্কেটিং চলতেসে। এরা শপিং করার পর আর কমলা কালারের ব্যগটা ফ্রিতে দিচ্ছে না। বাংলাদেশের স্বপ্ন, মিনাবাজার, ইউনিমার্ট এরাও এখন আর ফ্রিতে ব্যাগ দিচ্ছে না। আমি বেশিরভাগ সময়ে নিজের ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাই অথবা বাজারের ব্যাগ। ব্যাগ না দিলেও আমার কিছু যায় আসে না।

কিন্তু আড়ংয়ের এই ব্যাগ না দেয়াতে নারীসমাজ অনলাইনে মহা শোরগোল তুলেছে। কিন্তু তাদের খুব অল্পজনকেই বলতে দেখলাম আড়ং এ আর শপিং করতে যাব না। চার-পাঁচ হাজার টাকার ধরা খেয়ে এরা বিশ-পঞ্চাশ টাকার অধিকার আদায় করতে চায়।

কি সেলুকাস। দেশে কি আর কেউ কাপড় বিক্রি করে না? 

এই দেশে বেগম রোকেয়ার মুর‍্যালে কালি লেপে দেয় আরেকজন নারী। এই দেশে নারীদের একটা অংশই বাকিদেরকে নিজের মত করে চলতে বাধা দেয়।

নারী তুমি চিন্তায় আর মননে স্বাধীন হও। অতীতের দাসত্ব থেকে মুক্ত হও। খালি ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে বইলা একটা জায়গা থেকে শপিং করতে হবে এই ধারনা থেকে বের হও। দামী জামাকাপড় পরলেই তুমি অসাধারণ হতে পারবা না। মানুষের দাম নির্ধারন হয় কর্মে আর ঘিলুতে।

 

- সারকাজম বিবর্জিত লেখা
- জনৈক মুরুব্বী 

 

একলা মানুষ

একা একা নাকি মাল খাইতে যাওয়া ঠিক না! - এই নিয়ম আমি অনেকদিন মেনে চলছি। যখনই মাল খেতে যেতাম কাউকে সঙ্গে নিয়া যেতাম।

তবে অন্য কাউকে সাথে নিয়ে গেলে একটা সমস্যা হয়, কেউ বিল দেয়ার সময় পকেটে হাত দিতে চায় না। বাঙ্গালী ফ্রি খাওয়ার অভ্যাসে সবাই ছোটবেলা থেকেই অভ্যস্ত। স্কুলে টিফিন টাইমে আইস্ক্রিম আর ঝালমুড়ি খেতে গিয়া সেটা শেখা হয়ে গেছে।

যখন দেশের বাইরে ছিলাম, বারে গিয়া বসলেই কারো না কারো সাথে আলাপ জমে যাইত। সে নিজের বিল দিত আমি আমারটা। মাঝে মধ্যে এক-দুইটা ফ্রেন্ডলি ড্রিংক অফার করতাম। 

কিন্তু দেশে এসে পড়ছি মহা বিপদে। এখানে কাউকে সাথে নিয়ে যেতে হয়। কারন ড্রিংক করার পরে মনের ম্যালা কথা বাইর হইয়া আসতে চায় কিন্তু বলার মত কেউ থাকে না। আর বাঙ্গালী মনে করে তারে যেহেতু আমি সাথে নিয়া আসছি, তার মানে পুরা বিল আমিই দিব।

এইবার রাগ করে তাই একাই ড্রিঙ্ক করতে চলে গেলাম চালু একটা বারে। ধুম ধাম মিউজিক বাজতেসে। দেশি-বিদেশী সকল গানরে রেপ করে ছাড়তেসে। লাইভ জাহান্নাম যারে বলে। যদিও লোক নাই তেমন। ড্রিংকের দামও প্রচুর। এইদিক থেকে বাংলাদেশ টপে আছে। মালের কোয়ালিটি ভাল না কিন্তু দামের বেলায় মনে হয় স্কটল্যান্ডে বসে আছি।

কিছু হুজুর দেখলাম সুন্নতী দাড়ি নিয়া বসে আছে। মনে হয় কর্পোরেট লাইফের ক্লান্তি এড়াতে তারা দিন শেষে এইখানে আসে। ঢুকার সময় একজনরে লম্বা সালাম দিলাম। যদিও সে উত্তর দিল না। বারে নানা রকমের মাতালের দেখা যায়। এইখানে সালামের জবাব দিলে সমস্যা।

কয়েকজন নারী দেখলাম বেশ মেকাপ নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। তারা মাল খেতে আসে নাই। যারা মাল খেতে আসছে তাদের রাতের সার্ভিস লাগলে দিতে আসছে। পৃথিবীর আদিমতম পেশায় তারা নিয়োজিত। আমি এদের সাথে চোখাচোখি হওয়া থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করলাম। মানুষ কত অসহায় সভ্যতার কাছে। দিনের বেলায় সে হয়ত খুব পর্দার সাথে চলাফেরা করে, কিন্তু রাতে অর্থ উপার্জন করতে তাকে অচেনা মানুষের কাছে ন্যাংটা হতে হয়।

মালের অর্ডার দিয়ে বসে আছি আর এইসকল উচ্চমার্গীয় হাবিজাবি চিন্তা করতেসি। একলা দেশের বারে আসার কোন অভিজ্ঞতা নাই আমার। শুনেছি মাঝে মধ্যে নাকি পুলিশের রেইড পড়ে। পুলিশ মাতালদের ধরে থানায় চালান করে দেয়। যারা টাকাপয়সা দিতে পারে তারা পুলিশের গাড়ি থেকেই জামিন নিয়ে চলে যায়।

জীবন যেখানে যেমন। টাকার কাছে সবাই ন্যাংটা। Everyone has a price. 

জীবনের কঠিন ডিসিশন একা নিতে হয়। আমি বর্তমানে সেই পর্যায়ে আছি। কয়দিন আগে এক নব্য প্রেমিকের সাথে কথা হচ্ছিল। সে ইনিয়ে বিনিয়ে তার গার্লফ্রেন্ডদের কথা বলছিল আমাকে। আমি বিশেষ আগ্রহ না দেখানোতে তার কিছুটা মন খারাপ হয়।

আসলে এই মধ্য বয়সে এসে কচি কচি মেয়েদের পিছনে নষ্ট করার মত সময় আমার নাই। এই আচোদা যেই লাইফ পার করতেসে সেটা আমি ভার্সিটি থাকতেই শেষ করে এসেছি। সে কার সাথে কয়বার শুইসে সেটা শুনে আমার কি লাভ? যেই জিনিস টাকা দিলেই কিনতে পাওয়া যায়, সেটার পিছনে নাটক করে মাসখানেক সময় নষ্ট করার কোন প্রয়োজন দেখি না। 

বাঙ্গালী পুরুষ এবং নারী উভয়েই বিছানায় যাবার আগে নানা ভণিতা করে। ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের পর এরা বয়ফ্রেন্ডরে বলে - আমারে বিয়া করবা কবে?

এই বালের আলাপের থেকে দুইপেগ হুইস্কি খাওয়া ভালো। আমি শুন্যে গ্লাস তুলে ত্রিশ পার হওয়া সকল আচোদা বাঙ্গালীর মানসিক স্বাস্থ্যের কল্যান কামনা করলাম। যারা এখনও বোতলের ছিপি খোলে নাই, তাদের জন্য সমবেদনা।

 

 

 

সেক্সুয়াল ফ্রাস্টেশন অথবা ভালোবাসার অভাব

সদানন্দের সাথে ঘুরতে বের হওয়ার সমস্যা হচ্ছে সে বেশি কথা বলে। তার কথার জবাব যদি "সম্মতিসূচক হ্যাঁ" না হয় তবে সে একই কথা বারবার বলতে থাকে।

নতুন বাচ্চা হবার আগ থেকে এখন পর্যন্ত সে বউয়ের সাথে ইণ্টিমেট হতে পারছে না। বিশাল স্যাক্সুয়াল ফ্রাস্টেশনে ভুগতেসে।বেশ কয়েকবার আমাকে বলার চেষ্টা করেছে আরেকটা বিয়া করা দরকার। আমি তাকে আড়ালে আবডালে বলার চেষ্টা করেছি সেক্স করার জন্য বিবাহ করার দরকার নাই। কিন্তু সে কথাটা কানে নেয় না। যা করবে হালাল ভাবেই করতে চায়।

যদিও আমি জানি সুযোগের অভাবে বাঙালী সৎ থাকে। 

গেলাম পূর্বাচল ঘুরতে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলে বসে সে কথার তুবড়ি ছোটাল। কিছুদূর যেতেই রাস্তার পাশে একটা মেয়ে গাড়ি থামিয়ে আরেকজনের সাথে তর্ক করছে দেখে সে গতি কমিয়ে ফেলল।

- দেখেছিস... মনে হয় রেটে বনিবনা হচ্ছে না।
- হু... মনেতো হচ্ছে এইটা ওই মেয়ের ড্রাইভার।
- আরে না... বয়ফ্রেন্ড হতে পারে। 

আমি বলি, এখন তুই কি করতে চাস? বয়ফ্রেন্ড হোক বা না হোক, তাতে আমাদের কি? তুই সোজা গাড়ি চালা।

সদনন্দ কিছুদূর গিয়ে আবার গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে আসে। আমাকে বলে জানালা খোল দেখি কি বলে। মনে হয় সাহায্য দরকার।

আমি বিরক্ত হলেও কিছু বলি না।  যদিও আগের জায়গায় গিয়ে সেই গাড়ি আর মেয়ে কাউওকেই পাওয়া গেলো না।

- মনে হয় সব ঠিক হয়ে গেছে।
- ঠিক না হলে কি করতি?
- আরে কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করতে হবে না?

ভোমা এতক্ষন পিছে বইসা সব শুনতেসে। সে এইধরনের সেক্সুয়াল আলাপে যোগ দেয়না। তবে পরে নিশ্চিত  আমার কাছে বিচিং করবে। 

তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে বের হইলে সবচেয়ে বেশি ডিস্টার্ব দেয় সদানন্দ। ভোমা আর আমি অনেকবার লালপানি খাওয়া মুলতবি করেছি সদার কারনে। ইদানিং তার মাইয়ার নেশা হইতেসে খুব। অবশ্য বয়স চল্লিশ পার হইলে সব ব্যাটা মাইনষেরই এই রোগটা হয়। বউ আগের মতন জোয়ান থাকে না, আবার বিবাহিত জীবনকে পানসে মনে হয়।

এরপর আমরা গেলাম গুলশানে। এইখানে নাকি গাড়িওয়ালা ভাবিরা দেশি চিপস কে আমেরিকান স্টাইলে চানাচুরের মত মশলা দিয়ে বানায়া দেয়। ভাবিরা নাকি দেখতে খুবি সুন্দরী!

সদার পিড়াপিড়িতে সেখানেও যাইতে হল। গিয়া দেখি এক বিগত যৌবনা মুটকি মহিলা এই রাতের বেলাতেও গাড়ি নিয়ে বসে আছে হকারের মত।

ছোটবেলায় আমাদের চকবাজারে শুক্রবারে একটা সাদা রঙের গাড়ি নিয়ে দুই লোক আসত। তারা নানা কিছু রাস্তায় বসিয়ে মজমা জমাত। তারপর সেখানে গোপন রোগের বর্ননা করে শান্ডার তেল বিক্রি করত। বাঙালী এমনিতেই গোপন রোগের জন্য ডাক্তারের কাছে সহজে যায় না। এরা এইসব বালছাল কিনে খায় আর আশায় থাকে তার গোপনাংগ লোহার মত শক্ত হবে।

আমি মাঝেমধ্যে হাতে কাজ না থাকলে রঙিন ছবি দেখার আশায় এই মজমা দাঁড়িয়ে দেখতাম। 

এই বালের আন্টিকে দেখার জন্য সদা নিয়ে আসছে বলে তারে কিঞ্চিত ভর্ৎসনা করলাম। সদা বলল আজকে আন্টিদের সংখ্যা কম।

- তুই তাইলে গিয়া মোড়ে দাঁড়ায়া থাক। আমি শুনেছি এইখানে অতৃপ্ত ভাবিরা ছেলেদের পিক করে। ওরা শুধু ছেলেদের দেহ চায়। 
সদা বিরস বদনে বল, ওরা ইয়াং পোলা চায়। আমারা বুড়া হইয়া গেছি।

ভোমা বলল, ঠিক আমরা বুড়া হয়ে গেছি। এখন আমাদের থাইল্যান্ডে গিয়ে থাই মাসাজ নিতে হবে।

আমি শুধু বললাম, ল্যাওড়া মাসাজ। সব খালি লাগানোর ধান্দা। এর থেকে  গ্লোরিয়া জিন্সে গিয়ে ধুম্রপান আর কফি খাইলেও সময়টা কাজে লাগত।

গ্লোরিয়া জিন্সে গিয়াও শান্তি নাই। সেখানে এক ইয়াং বয়সের দাড়িওয়ালা ছেলের সাথে দেখলাম এক বুকখোলা গেঞ্জি পরা মেয়ে বসে আছে। পোলাডারে দেখলে শিবিরকর্মী মনে হইলেও সে আসলে গুপ্ত দালাল। ইদানিং  শুনেছি দেশে গুপ্ত রাজনীতি খুব পপুলার। 

ভোমায় কইল এইটা বাবা খায়।

- তুই বুঝলি কেমনে?
- দেখস না পাছা আর দুদু কেমন চিমসা মারা।
- হইতে পারে ওরা ক্লাসের এসাইনমেন্ট নিয়ে আলোচনা করতেসে।
- হ... রাইতের বাজে একটা আর চিমসা দুদু নিয়া এই গেঞ্জি এসাইনমেন্ট করতে আসছে গ্লোরিয়া জিন্সে? এরা দিনের বেলাতেই পড়ে না আর এখন আসছে সোনা নিয়া থিসিস করতে!

আমি বিশেষ কিছু আর বলতে পারলাম না। দেশটা আসলে গোল্লায় গেছে। যে যেভাবে পারে যাকে তাকে লাগাচ্ছে। সবাই সেক্সুয়ালি ফ্রাস্টেটেড। 

হাইকোর্টের নুনু

এলাকার বড় ভাই হাসিব। তিনি সারাদিন জনসেবায় ব্যস্ত থাকেন। নিজের বাসাবাড়ির খবর নাই কিন্তু আরেকজনের বাসা পাহারা দেয়ার মত আরকি! জনসেবা যাকে বলে। 

তার পরিচিত কারে জানি বউ পিটানোর অভিযোগে মামলা দিসে। তিনি এইটা নিয়া দৌড়াইতেসেন। একদিন আমারে নিয়া গেলেন হাইকোর্টে। আমি যেতে চাই নাই। জোর করে আমাকে নিয়ে গেলেন জরুরী কাজ আছে বলে।

পুরাটা দিন সেখানে গেলো কালা কোট ওয়ালাদের মাঝে। হাইকোর্ট একটা অদ্ভুত জায়গা। সেখানে কারো বসার নির্দিষ্ট চেয়ার নাই। কে যে কোনখানে বসতেছে কিছুই বুঝলাম না।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আপনের বন্ধু কি সত্যি সত্যি বউ পিটায়?

হাসিব ভাই বললেন, মনে হয়! শালার উপর বিশ্বাস নাই। এখন সাধু সাজতেসে।

- কেমনে বুঝলেন বউ পিটায়? সে কি আপনারে বলসে? 

- না বললেও বোঝা যায়। এই শালার নুনু ছোট। কলেজে থাকতে দেখসিলাম। আমরা সবাই মাধবকুন্ড বেড়াইতে গেসিলাম। সেইখানে হালায় আন্ডারওয়ার পইরা ঝর্নার পানিতে গোসল করতে গেসে। তখনই দেখসি। যাদের নুনু ছোট হয়, তারা বউ পিটানোতে ওস্তাদ লোক।

এহেন হাইপোথিসিসের পরে কোন কথা চলেনা। আমি মাথা নেড়ে সায় জানালাম।

হাইকোর্টের ক্যান্টিনের গরুর ঝাল মাংস আর ডাল-ভাত খেলাম। অতীব সুখাদ্য। বিল দিতে গেলে হাসিব ভাই মানা করল। বলল আসামী বিল দেবে। তার কাজে আসছি।

আমি বললাম, আসামী নির্দোষ। 

হাসিব ভাই জিজ্ঞেস করলেন, কেন? 

- যে দুপুর বেলায় অভুক্ত লোককে গরুর মাংস আর ভাত খাওয়ায়, তার কোন দোষ আমি দেখি না।

হাসিব ভাই চরম বিরিক্ত হয়ে বললেন, তোরে নিয়ে আসাটাই ভুল হইসে। এক বোতল দিলেতো তুই এইটারে ফেরেস্তা বানায় দিবি। 

- ভাই আসলে ব্যপার সেটা না। এইদেশে নতুন শরীয়া আইন চালু হইতেসে। বউ পিটাইলে সেই আইনে কোন দোষ নাই। ব্যাডা মানুষ বউ পিডাইবো না তো কি করবো? আমি ভবিষ্যতের পক্ষে।

- তুই কি পলিটিক্সে জয়েন করছিস নাকি?

- করতে পারি। আমি তো মাইয়া না। পলিটিক্স, ধর্ম সবই ব্যাডা মাইনষের কাম। আর আমার নুনু ছোট না। কাজেই আমি বউ পিডানোর পক্ষে।

হাসিব ভাই গম্ভীর মুখে আমার দিকে চেয়ে রইলেন। আমি জানি এই ব্যাডা বাসায় বউয়ের হাতে মাইর খায়। এই দুঃখে সে সারাদিন বাসার বাইরে বাইরে থাকে। 

আমি কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা দেবার জন্য বললাম, আচ্ছা ভাই যারা বউ মারে তাগো নুনু ছোট হয়, আর যাদের বসায় বউ স্বামীরে মারে তাদের কি হয়?

হাসিব ভাই গম্ভীর মুখে বললেন, তাদের বউয়ের পেনিস থাকে। 

 

 

 

রোডট্রিপ

তিনজন মিলা আড্ডা দিব বইলা অনেকদিন ধরেই সময় খুঁজতেছিলাম। এই ব্যস্ত জীবন একই শহরে থেকেও আমাদের মাঝখানে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিয়েছে। এই জন্যেই কবি বলেছেন পুরুষ মানুষ বিবাহের আগে থাকে "বাল" আর পরে হয় "আবাল"। ......... ধুর বাল... কি সব আবোল তাবোল বলতেসি। আসলে অনেকদিন মাল খাইনাতো সব গুলায়া যাইতেসে।

ভোমা, সদানন্দ আর আমি মিলে রোড ট্রিপে বাইর হইসিলাম। বেশুমার গালাগালি চলতেসে। একটু পর পর সদানন্দের বাসা থেকে বউ ফোন দিতেসে। এইটা একটা গাড়ল প্রকৃতির মহিলা। দেখতে গোলগাল ফুটবলের মত, সারাক্ষন সদায় কই যায় কি করে এই সকল বিষয় নিয়া ব্যস্ত থাকে।

যদিও আমি দোষ দেই না। সদা আবার একটু দিল দরিয়া প্রকৃতির। তার দিল এত বড় যে মাঝে মধ্যে অন্য অতিথিরা ঢু মেরে যায়। তার অতীত রেকর্ড ভাল না।

এক্সপ্রেস ওয়েতে ওঠার পর আমি বললাম, "বাল কাটাতে হবে।" 

ভোমায় জিগায়, কার বাল?

- কার আবার?... আমার। দেখস না বাল বড় হয়া গেছে! 
- হ... তাইতো... চুল বড় হয়া গেসে। তবে খারাপ লাগতেসে না। তোরে হরিদাসপালের মত লাগতেসে।
- তাইলে কি কাটাবো না! ঝুটি কইরা ফেলব?

- করতে পারিস খারাপ লাগবে না। ভোমার গলা নির্লিপ্ত।

ভোমার কথা শুইনা আমার মেজাজ খারাপ হইতে গিয়াও হইল না। এরে যদি আমি জিজ্ঞেস করি, একচামচ গু খাইয়া দেখব চল। সে নিঃসন্দেহে বলবে, খেয়ে দেখতে পারিস। শুনিছে গু'তে উত্তম প্রোটিন থাকে। জগতের যে কোন বিষয়ে সে "হ্যাঁ" বলতে পারলেই খুশি।

এই রকম বন্ধুর থেকে শত্রু থাকাও উত্তম বলে মনে হয় মাঝে মধ্যে।

রোড ট্রিপ বাদ দিয়া গেলাম উত্তরার এক সেলুনে। ফুটবল খেলার জায়গার মত বিশাল সেলুন। ইংলিশ গান বাজতেসে। নাপিত গুলা স্মার্ট ইউনিফর্ম পরা। এদের হুট করা বলা যায় না ভাই বগলের নিচে একটু চাইছা দেন। একঘন্টা ওয়েট করার পর চুল কাটা শুরু হল। নাপিতের বয়স কম। সে খালি চুল আচড়ায় আমার আর ক্লিপ পরায়।

আমি বিরক্ত হয়া বললাম, ভাই কাটা শুরু করেন। আমি এমনেই সুন্দর স্টাইল লাগব না খালি কাটেন।

সে বিরক্ত হয়া বল "আচ্ছা"।

দামি সেলুনে আসলে নাপিতেরা চুল নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। আমি নিউমার্কেটে যেখানে চুল কাটাই সেখানে তারা লুঙ্গি পরে  চেয়ারে বসে থাকে আর পুরান দিনের বাংলা সিনেমা ছাড়া থাকে বক্স টিভিতে। গেলেই ধুড়ুম ধাড়ুম করে চুল কেটে দেয়। এই রকম নাটক করে না।

চুল কাটানোর পর আবার উঠে আরেক জায়গায় গিয়ে চুল ওয়াশ করে আসলাম। সেইরকম এলাহী ব্যপার স্যাপার।

ভোমা পুরাটা সময় আমার সাথে ছিল আর সদানন্দ গেছে বাসার বাজার করে দিতে। বাজার দিয়ে ফিরে আসছে শালি আর বাচ্চা নিয়া। রোড ট্রিপের মায়রে বাপ।

- এইগুলারে নিয়া আইছস ক্যান?
- বউ গার্ড হিসেবে সাথে দিয়া দিছে।
- তুই বাড়িত যা সদা, তুই অলরেডি ডেড ম্যান ওয়াকিং।
- মানে?
- মানে কিছু না। তোর নতুন বাচ্চা হইসে গিয়া বাসায় সময় দে।

ভোমায় হাসে, সে মনে মনে গালি দিচ্ছে সদারে। এই জন্যই কবি বলেছেন, পুরুষ মানুষ দুই প্রকার জীবিত আর বিবাহিত। সদা ডাবল বিবাহিত হয়ে গেসে।

 

 

দুধ বিষয়ক কথপোকথন

মিজানুর ডাব ওয়ালার সাথে আমার দেখা কাঁটাবন ঢালে। বাইক সার্ভিস করে যে জায়গায় তার উল্টো দিকে। সে একমনে একটা স্টার সিগারেট টানতেসিল আর সমাজের জটিল হিসাব কষার চেষ্টা করছিল।

আমি বাইক ওয়াশ করতে গিয়ে ভাবলাম তার সাথে একটু গল্প করে আসি।

- ডাব কত করে ভাই? 
- ১২০, বরিশালের ডাব।

১২০ টাকা দিয়া আমার ডাব খাওয়ার ইচ্ছা নাই। আমি জানি এই সকল ডাবের দাম আরো কম। তাও আমি ১০০ টাকা বললাম। সে রাজি হয়ে গেল। আমি নির্বিকার চিত্তে ডাব নিলাম। পানি মিষ্টি আছে।  

- ডাব তো ভাল দেখা যায়। পানি মিষ্টি।

- বরিশালের ডাব, ভোলার ডাব আর কক্সবাজারের ডাব সবথেকে ভালো। মিজানুর জ্ঞানের কথা বলে।

আমি ডাব খেতে খেতে আশে পাশে দেখছিলাম। এই সময় সে একটা হটাৎ করে বলল, ঢাকার মাইয়ার দুধে কাপড় দেয় না কেন?

- কি? আমি প্রথমে বুঝতে পারি নাই। কিসে কি দেয় না?

- এই যে দুধে কাপড় দেয় না।

ওরে বাইঞ্চোত। সে আসলে রাস্তায় চলাচল করা মাইয়াদের বুঝাইতেসে। এদের বুকের দিকে তাঁকায়া থাকাই তার প্রধান কাজ মনে হয়। খালি ডাবওয়ালা নয় সে। পটেনশিয়াল রেপিস্ট।

- ভাই, ডাব বেচেন ভাল কথা। কাউরে আবার জ্ঞান দিতে যাইয়েন না, মাইর খাইতে পারেন।

- আরে না, আমাগো বসিশাল কত ভালো। এইখানে মাইয়ারা দুধ ঢাকে না। 

- কেউ কি ন্যাংটা ঘুরতাসে? 

- এই যে প্যান্ট শার্ট পইরা ঘোরে, ওড়না নাই। মাইয়ারা থাকব বোরকা পইরা। 
- প্যান্ট শার্ট পরলে সমস্যা কি? এই যে আপনি গেঞ্জি পইরা ঘুরতাসেন আপনারে কি আমি বলসি আপনি ওড়না কেন পরেন নাই? আপনার দুধ ঢাকেন।

আমার রাগ উত্তর উত্তর বাড়তেসিল। এই শুওরের বাচ্চারে ডলা দিতে পারলে ভালো লাগত। ইউনিভার্সিটি এলাকায় এইসকল মাল ঘুরে বেড়াইতেসে। বরিশাল থেকে এসে সে ঢাকার মাইয়াদের দুধ কেন ঢাকা না, এইটা নিয়া সে দার্শনিক আলাপ দিতেসে।

- নাম কি আপনার?
-  মিজানুর।
- বাড়ি কই?
- বরিশাল।

- ভাল হইয়া যান। ডাব ভালো, কিন্তু আপনার ভাল হবার সম্ভাবনা নাই।

- কেন? মিজানুরের মুখে হাসি নাই। কারন সে আলাপ জমাইতে পারে নাই। আমি মেয়েদের দুধের ব্যপারে আগ্রহ দেখাই নাই।

- আপনার বয়স কত?
- ৩৬।
- তাইলে ঠিকই বলসি। ১৭ বছরের পর আর কিছু শিখার নাই আপনার। যা শিখসেন এইটা বদলানো যাবে না। এখন আপনার প্রধান কাজ ঢাকায় বইসা মাইয়াদের দুধ নিয়া দার্শনিক আলোচনা করা।

- ভাই বসুন্ধরা সিটিতে আমি নেটের ড্রেস পরা একটা মাইয়া দেখসিলাম। ন্যাংটা মাইয়া।

- আমি দেখি নাই। দেখলেও আমার কিছু যায় আসে না। কে কি পরবে এইটা তার ইচ্ছা।

- তাও ভাই, মাইয়ারা থাকবে বোরখা পইরা, বাসায় থাকবে। বাইরে কি? 

আমি দ্রুত ডাব শেষ করে তাকে টাকা দিলাম। মিজানুর নামের লোকজনের ভাল হবার সম্ভাবনা নাই। এদের প্রধান কাজ রাস্তায় মাইয়াদের বুকের দিকে তাঁকায়া থাকে। আর সুযোগ পাইলে কমেন্ট পাস করা। এদের শোধরানোর সময় শেষ। 

আলাপ দিতে আইসা আমি বিরক্তি নিয়া ফেরত গেলাম। একটা কচি ডাব এর পেছন দিয়ে ঢুকাইয়া দিতে পারলে ভাল লাগত। 

বেপ্লব বৃথা গ্যাছে। লাল বিপ্লবীরা বেপ্লবের নামে কিছু বাইঞ্চতরে সুযোগ কইরা দিসে পুটু মারনের। এরা এখন সিসি ক্যামেরা হইয়া রাস্তায় রাস্তায় মাল খোঁজে। আরেকটু সাহস বাড়লেই দুধ ঢাকার দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়া নিবে।

 

 

সদানন্দের পোলা

সদানন্দের পোলা হইসে। এইটা খুবই আনন্দের বিষয়। আনন্দের চোটে সে টাংগাইল গেছে ১০০ কেজি মিষ্টি কিনতে। তার কথা হচ্ছে ঢাকা থেকে মিষ্টি কিনলে লাখ টাকা চলে যাবে। টাংগাইলে দাম কম, অতএব সেখান থেকেই আনতে হবে।

আমি শুধু একবার মিহি সুরে বললাম লাগাইলি তুই, কষ্ট করলো তোর বউ, হাসপাতালের বিল দিলি তুই, আবার পাবলিকরে টাংগাইল থেকে মিষ্টি এনে খাওয়াতে হবে... এইডা কি ধরনের বিচার?

এই সকল যুক্তি দিয়ে অবশ্য সদানন্দের কোন বালটাও ছেড়া যাবে না। সে খুবই সামাজিক ছেলে। সমাজ যদি তাকে দুচেও দেয় সে হাসিমুখে প্যান্ট খুলে দেবে।
 
ভোমা অবশ্য টাঙ্গাইল যেতে আপত্তি করে নাই। দুইজন মিলা সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরসে, কেনাকাটা করসে আর রাতের বেলা ঢাকা ঘুইরা ঘুইরা সেগুলা বিলি করসে।
 
আমি অনেক চিন্তা করে দেখলাম সদানন্দের আসলে রাজনৈতিক নেতা হওয়া দরকার ছিল। এইভাবে জনসেবা আজ পর্যন্ত কোন মন্ত্রী-এমপিকে করতে দেখি নাই। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মিষ্টি বিলানো নিঃসন্দেহে একটা জনদরদী কাজ।
 
মানুষ আনন্দিত হলে সবাইকে জানাতে চাই। দুঃখের বিষয় হলে কি করে আমার জানা নেই। দুঃখ মনে হয় নিরবে যাপিত করার জিনিস। খুব কাছের মানুষ বাদে কাউকে জানাতে হয় না। 
 
এবার অবশ্য সদানন্দ আমার উপর খেপছে। তারে অনেকক্ষন বয়ানবাজি করসিলাম। তার উপর সে রাজশাহী থেকে যেই আম আনছে স্পেশাল বইলা, সেটা আমার এলাকায় ৭০ টাকা কেজি দরে ফুটপাতে বিক্রি হয় - এইটা বলার পর সে পুরাই রাইগা ভোম।
 
স্পেশাল বললেই কি সব স্পেশাল হয়ে যায়? ঘরের কোনায় ভাল আম রাইখা রাজশাহী থেকে বেশি দাম দিয়া একই জিনিস কেনার কোন মাজেজা আমি বুঝি না।
 
বাই দ্যা রাস্তা, আমের টেস্ট খুব একটা ভাল না।
 
মিষ্টি জিনিস আমি খাই না। আমার অতি বড় শত্রুরেও আমি মিষ্টি উপহার দেই না। তবুও সদার পোলা হবার আনন্দে আমি দুইটা কালোজামের মত দেখতে জিনিস খাইলাম। অতীব সুখাদ্য। আরো খাইতে ইচ্ছা হইতেসিল। কিন্তু লোভ সংবরণ করলাম। 
 
শাস্ত্রে আছে, মানুষ দুইটা কারনে ডোবে। একটা হইল পেট, আরেকটা চ্যাট।  
 
 

কুরবানি ২০২৫

কুরবানির ঈদে লম্বা ঘুম দিলাম। ভোমা নাই সদানন্দ নাই। অফিস নাই, কারুর ডাকডাকি নাই। সবাই যার যার গরু নিয়া একদিনের কসাই সাজাতে ব্যস্ত। 

সকালে বের হয়ে রিকশা পাই না। ঈদের দিন সব অটোরিকশা চালকেরা সিজনাল কসাই হয়ে যায়। গরু ফালাইতে গিয়া আমাদের এই সিজনাল কসাই দুইটা গরুর গুতা খাইল পাছার মধ্যে। এরপর কাটতে গিয়া আবার নাটক। তার চাপাতিতে ধার নাই, হাত থেকে পিছলায়া পইড়া যায় ছুরি। ইচ্ছা করতেসিল তারে বলি দুইটা ভাই-ব্রাদার ডাইকা নিয়া আসতে এলাকা থেকে যারা চাপাতিতে দক্ষ।

কসাইরে জিগাইলাম, তুমি কি মোহাম্মদপুরে থাকো? সে বলল, তার বাড়ি লক্ষীপুর। আমি শুনে হতাশ হলাম। মোহাম্মদপুরের না বলেই তার চাপাতিতে ধার নাই, স্কিল নাই। স্কিল অর্জন করতেও ট্রেনিং এর দরকার আছে।

কসাইয়ের অবস্থা দেখে হাসিব ভাই নিজেই নেমে গেল কাটাকাটির কাজে। ছোট একটা বটি নিয়া ইয়া বড় বড় পিস করতেসে মাংসরে। এইগুলা রান্না হবে, না স্টেক বানাব কে জানে? 

মাসুদরে পাই নাই এই ঈদে। সে গ্রামের বাড়ি গেছে। সব কাজ আমার একা করতে হচ্ছে। এইটা একটা বড় যন্ত্রনা। শুওরটাকে বললাম, গুরুর ভুড়িটা পরিষ্কার করে দিয়ে তারপর গ্রামে যাইস, সে কথা শুনল না। তার পোলা নাকি কইসে এইবার একটা ছাগল কুরবানী দেয়া লাগব। তাই বেতন-বোনাস নিয়াই চম্পট দিসে। এইবার আর ভুড়ি পরিষ্কার করা হবে না। তবে আমার সন্দেহ হচ্ছে সে আসলে বাড়ি যায় নাই। সে এলাকায় ঘুরতেসে মধুকোষ সংগ্রহের কাজে। এইটা একটা বড় বিজনেস বলে তার ধারনা। গরীব ছোটলোক আসলে কোনদিন অর্থের মূল্য বোঝে না। 

চামড়াটা কসাইরে দিয়া দিলাম। এইটা তার মজুরি। ঘ্যান ঘ্যান করায় তারে গরুর চারটা পা ধরাইয়া দিলাম। বললাম, নেহারি বানাইয়া খাবা, খুবই উত্তম খাবার। লাগলে মাথাটাও নিয়া যাও। 

যদিও ভাবসিলাম ওইটা দিয়া ট্রফি বানায়া ড্রইং রুমে ঝুলাইয়া রাখব। আগের দিনে শিকারীরা নাকি যে প্রানি শিকার করত তার মাথা ট্রফি হিসেবে নিজের ঘরের দেয়ালে ঝুলাইয়া রাখত। কিন্তু কেউ গরুর মাথা রাখে নাই। এইটা একটা পার্শিয়ালিটি হইসে। চতুষ্পদ জানোয়ারের মধ্যে সবচেয়ে বেশে হত্যা করা হয় গরু। অথচ কেউ তারে গোনায় ধরে না।

মাসুদ থাকলে এরে কানের নিচে দুইটা চটকানা দিয়া বিদায় করা যেত। তুই বেটা সিজনাল কসাই, তোর এত ডিমান্ড ক্যান? 

কাটাকাটি শেষে মাংস সব প্যাকেট করলাম জরিনার মারে দিয়া। ফ্রিজে ঢোকানো শেষে দরজায় একটা নোটিশ ঝুলায়া দিলাম, "বাসায় কেউ নাই। মাংসের জন্য নক করবেন না।"

এইবার আগামী তিনমাসের জন্য প্রোটিনের ডিপজিট নিশ্চিত। 

 

মধুকোষ

কুরবানি ঈদ আসলেই মাসুদ একটা না একটা ফাইজলামি করবেই। এইটা তার খাইসলত।

আজকে তার নামে বিচার এসেছে। সে নাকি বিল্ডিং এর সবার গরুর চামড়া আর বিচি চেয়েছে। চামড়ার কাহিনী আমি বুঝেছি। এটা তার টু-পাইস কামানোর ধান্ধা। গতবার মাদ্রাসায় দান করবে বলে কয়েকজনের কাছ থেকে গরুর চামড়া নিয়ে সেটাও বেচে দিয়েছে।

কিন্তু বিচির ব্যপারটা ঠিক বোঝা গেলো না। ছাদে ছিলাম, সেখান থেকে উঁকি দেখলাম সে নিচে দাঁড়িয়ে আছে। একটা ছোট ফুলের টব তার মাথা বরাবর ছেড়ে দিলাম। প্লাস্টিকের টব। বেশি কিছু হবে না। ভাগ্য ভালো সেটা তার মাথায় না পড়ে পাশে পড়লো।

"ওরে বাবাগো' - বইলা সে যে চিৎকার দিলো সেটা দেখে মন ভালো হয়ে গেল। মাঝে মধ্যে মানুষের ভয় পেতে হয়। ভয় না পেলে মানুষ আকাম-কুকাম করে বেশি। 

মাসুদ উপরে তাঁকানোর আগেই আমি ঝট করে সরে গেলাম। তারপর নিচে গিয়ে তাকে পাকড়াও করলাম।

- কিরে মাসুদ, চিল্লাস কেন?
-  বস, কে জানি উপর থেকে ফুলের টব মারসে।
- ফুলের টব আবার কে মারবে? ছাদে তালা দেয়া না?
- তালা তো দেয়াই আছে বস। কিন্তু মনে হয় আমাগো ছাদ থেকেই ফেলসে।
- দিনের বেলাতেই নেশা করেছিস নাকি?

মাসুদ জিহ্বায় কামোড় দেয়। তার ভয় এখনও কাটে নাই।

- তুই নাকি সবার কাছ থেকে গরুর বিচি চেয়েছিস।
- বস বিচি না। ঐটাতো মধু কোষ।
- মানে? বিচি মধুকোষ হইল কবে থেকে?
- আমি ফেইসবুকে দেখসি বস। ইন্ডিয়াতে খাসির বিচি রান্ধে। সেই টেস্ট। লোকজন লাইন ধরে খায়।
- ওরে হারামি, তুই কি তাই বইলা গরুর বিচি খাবি?

- এইটাতো হারাম না বস। শুনছি এইটা খাইলে শরীরে শক্তি হয়। সারাদিন ডিউটি দেই। একটু শক্তি দরকার না আমার।

- ওরে শালা ফাঁকিবাজ, তুই গুরুর বিচিরে মধু কোষ বানাচ্ছিস। তোরে যদি কাঁচা এই বিচি না গিলাইসি। এর থেকে ভালো তুই শান্ডা খা। বজ্জাত কোথাকার!

মাসুদের মন খারাপ হয়ে গেল। তার চেহারা দেখে আমার মায়া লাগছে।

- ঠিক আছে ... তুই বিচি কালেক্ট করিস। ওইটা দিয়া হালিম বানাবি। কিছু লোকরে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবো।

মাসুদের চেহারায় এবার আলোর ঝলকানি দেখা দেয়। 

- বস তাইলে আমেনার মারে ঈদের দিন বুক দিয়া দেই। সে ভাল রান্ধে।
- আমেনার মা টা আবার কে?
- তিনতলায় কাম করে।
- তুই তারে চিনস কেমনে?
- মাঝে মইধ্যে আমার লগে কথা হয়। আসা যাওয়ার পথে দেখা হয় এই আরকি।

- মাসুদ তুই ভালো হইয়া যা। তোরে আমি চিনি না! আবার লটর পটরের কোন খবর যদি কানে আসে। তবে তোর মধুকোষ গালায় দিব।

- কসম কইরা কইতাসি বস, তার সাথে আমার কিছু নাই।

তারে আমি বিশ্বাস করসি এইরকম একটা ভং ধইরা সিরিয়াস গলায় বললাম - 

- সাবধানে থাক। শুনছি বিল্ডিঙে নাকি জ্বীনের আছর হইসে। যাদের চরিত্র খারাপ তাদের উপর সে আক্রমন করে।

- ইন্নালিল্লাহ... এইটা কি কন? 
- হ... তোরে জানায়া রাখলাম। আমি হুজুর ডাকতে যাই।

মাসুদের চেহারা শুকায়া গেছে। জ্বীন-ভূতে তার মেলা ডর। আজকে রাতে শিওর তার ঘুম হবে না। আমি আর কথা না বাড়িয়ে বাইরে চলে আসলাম। গনির চায়ের দোকানে যেতে হবে। তারপর এলাকার মুরুব্বী আকমল চাচাকে খুঁজে বের করতে হবে। শালায় বুড়া বয়সে তিন নম্বর বিবাহ করেছে। ঈদের দিন তার দাওয়াত। স্পেশাল মধুকোষের হালিম তার জন্য খুব দরকারি।

আরবিরা শান্ডা খাইতে পারলে আমাগো মধুকোষের কোন দোষ নাই। এইটাতো মরুভূমির দেশ না। এইখানে শান্ডা পাওয়া যায় না, এইটা মধুকোষের দেশ। মধুমাসে সবাইকে মধুকোষের দাওয়াত।

 

 

"অ" তে অটোরিক্সা, "আ" তে আতিক

সকাল সকাল অটোরিক্সা চালকের সাথে একটা ঝগড়া হয়ে গেল।

সাধারণত বাংলার টেসলা খ্যাত অটোওয়ালাদের সাথে আমি গ্যাঞ্জাম করি না। এরা রাস্তার ডাকু, যেকোন সময় মাইর দিয়া বসতে পারে। ভাল মানুষদের সমস্যা তারা এক জোট হতে পারে না। আর বদমাইশেরা সর্বদা পাপ কাজের জন্য দলবেঁধে চলে। ঢাকায় এরা এখন দলবেঁধে পুলিশ আর বাইকার পেটায়, রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করে। বিচিত্র দেশ আরো বিচিত্র হয়ে গেছে।... না বলা উচিত বিচি কান্ধে উঠেছে!

রাস্তা পারি হইতেসিলাম, একটা গাড়ি আইসা পড়ায় তারে সাইড দিয়া হাঁটতেসি, এই বাইঞ্চুত পিছন থেকে ট্যাঁ ট্যাঁ করা শুরু করসে। এমনেই ঘুম ভালো হয় নাই, তার উপর এই সাউন্ডের অত্যাচার। জিগাইলাম, এই শালা ট্যাঁ ট্যাঁ করো কেন?

- হর্ন না দিলে যদি লাইগ্যা যাই তাইলে তো আমারে চোদন দিবেন।
- একবার দিলে হয় না? তুই দেখস না আমি পার হইতেসি। আমি কি রাস্তার মাঝখানে আছি যে তুই হর্ন দিয়াই যাইতেছিস।
- তো হর্ন দিমু না? লাইগ্যা গেলে তো আপনি আমারে চোদন দিবেন।

ধুর বাল। এই শালাতো চোদন বাদে কথাই কয় না। "এই তুমি আসছ কোথা থেকে?"

- দিনাজপুর।
-ওহ...। আমি অনেক কষ্টে রাগ সংবরন করলাম। দিনাজপুরে কোন গার্লফ্রেন্ড আছিল কিনা মনে করতে পারতেসি না। এই হারামজাদার বডি দেইখা আর মারামারিতে গেলাম না। কোনভাবেই এই শালা রিক্সা চালাইত না আগে। গায়ে চর্বি আর মাসল দুইটাই আছে।

আমি সমঝোতার জন্য তার কাঁধে হাত রাখতেই সে বলল- "গায়ে হাত দেন ক্যান?"

সকাল সকাল বাইর হইসি, ঘুষি দিতে গিয়াও দিলাম না। এখন মারমারি করা যাবে না। এই শালাদের চোদনে রাস্তায় হাঁটাও মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। যেদিকে তাঁকাই টেসলা আর ট্যাঁ ট্যাঁ শব্দ।

আমারে রক্ত চক্ষু দেখাইয়া সে বিড়বিড় কইরা গালি দিতে দিতে প্যাসেঞ্জার নিয়া চলে গেল।

এর পরে গেলাম আতিকের সাথে দেখা করতে। সে মিরপুর ডিওএইচ এর ভিতরে থাকে। পুরাটা রাস্তা জুড়ে অটোরিকশার ট্যাঁ ট্যাঁ শুনার পরে ডিওএইচ আইসা কিছুটা কানের শান্তি পাইলাম। শব্দ দূষন এক লাফে ৬০ ভাগ কমে গেল। মনে পড়ে গেল সেই বিখ্যাত ডায়লগ, পরিবেশটা সুন্দর না? 

আতিক পোলাটা একটু রেসিস্ট। দুই-তিনবার ছ্যাকা খাওয়ার পর এখন পুরাই নারী বিদ্বেষী। দুনিয়ার কোন সুন্দরীকেই সে দেখতে পারে না। আমারে দেইখা সে খুশি হইল না বেজার হইল বুঝা গেলো না। সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে বলল, বুঝছিস, পুরুষের সবথেকে বড় শত্রু হইল তার চ্যাট।

- আর মেয়েদের কোনটা?
- ওদের প্রথমে পেট তারপর চ্যাট।
- মেয়েদেরও চ্যাট আছে?

আতিক খুব কুৎসিত একটা গালি দিলো। এইটা লেখার অযোগ্য।

- ওরা পেট ভরা থাকলে চ্যাটের চিন্তা করে না। আর পেট ভরা না থাকলে চ্যাট ব্যবহার করে।

আমি এহেন বিচার বিবেচনায় পুরাই চোদনা হয়ে গেলাম। আজকে চোদন দিবস মনে হচ্ছে।

- আবার ছ্যাকা খাইছিস?
- ছ্যাকা খাবো কেন? আমি এখন ফাকবয়।
- ফাকবয় কি করে?
- চ্যাট করে।

ধুর বাল। এই হালায়তো খালি জ্ঞান কপচাইতেসে। আতিকের কাছ থেকে কিছু টাকা পাবো। দেই দিচ্ছি করেও দিচ্ছে না। নাইলে এই বালের আলাপ দেয়ার জন্য আমি এতদূর আসতাম না। আমি সবজান্তার ভঙ্গিতে মাথা নাড়লাম।

আতিকের কিছু কুখ্যাত জ্ঞানগর্ভ বাণী আছে -

- যে মাইয়ারা লিপস্টিক দেয় আর গায়ে সাদা পাউডার মাখে তারা দেখতে কুৎসিত।

- যাদের পরিবারে বাপের-থেকে মা বেশি গরম, এইরকম পরিবারে বিবাহ করা যাবে না। জীবন ত্যাজপাতা করে ফেলবে।

- হাই-হিল পরা মাইয়ারা সাধারণত বেকুব হয়।

- যারা ডেটে গেলে বয়ফ্রেন্ডের বিল দেয় না, তারা ব্লোজবও দিতে চায় না। এদের থেকে দূরে থাকতে হবে।

- মেয়েরা ভদ্র ছেলেদের পাত্তা দেয় না। তারা খালি ফাকবয় খোঁজে।

- বিবাহিত আর সুখী এই দুইটা জিনিস এক সাথে হয় না। 

আতিক অবশ্য বিবাহ না করেই অনেক বিবাহিত লোককে জ্ঞান দিয়ে বেড়ায়। তার ভাষ্যমতে, বিবাহিতরা অন্যদেরকেও একই রকম মারা খেতে দেখতে চায় বলেই সত্য বলতে চায় না। 

এই ছেলের সাথে বেশিক্ষন আড্ডা দিলে আমি নিজেও ফেমিনিষ্ট হয়ে যাব।

 

ইদ সমাচার ২০২৫

শামরে দেখাইয়া দেখাইয়া দিলীপরে ২০০ টাকা দিলাম। ঈদ সেলামির জন্য সে আমার সাথে বেশ মধুর ব্যবহার করতেসে। একবার সালামও দিসে। জিগাইলাম, তুমি না মালাউন, সালাম দাও কেন?

শাম নির্বোধের মত হাসি দিলো। তার ফাঁকা দাঁতের মাঝখান দিয়া বাতাস বের হয়ে যায় দেখে বেশিরভাগ কথাই আমি বুঝতে পারি না। কিন্তু তারে এইবার আমি বখশিস দেবো না ঠিক করেছি। গত মাসে শাম আমার কাছ থেকে ২০০ টাকা ধার নিসে, আজও ফেরত দেয় নাই।

যখনই বখশিস চায় আমি বলি আগে ধারের টাকা ফেরত দাও তারপর বখশিস পাবা। শামের কালা মুখ দেখতে বড়ই আনন্দ লাগতেসে। সে মনে করসে আমি একটা গাভি আমারে যখন খুশি দোহন করা যাবে। যারা ধারের টাকা ফেরত দেয় না তারা চুদির ভাই। শাম একটা চুদির ভাই।

রাস্তায় বের হয়ে মনে হল ঢাকা একটা জাহান্নাম। ইদ হচ্ছে আত্মীয় স্বজনের বাসায় গিয়ে মোলাকাতের দিন, বাচ্চালোকদের সালামি সংগ্রহের দিন। কিন্তু তার বদলে বেবাক মানুষ রাস্তাঘাটে বের হয়ে কি সব অদ্ভুত মিছিল করতেসে। 

ঈদের নামাজ শেষে এরা আনন্দ মিছিল বাইর করসে। মিছিলে আবার ভ্যানের উপর কয়েক পিস মূর্তিও দেখা যাচ্ছে। একটা মূর্তিতে আবার গাধার পিঠে উল্টা বসা একজন মানুষ। এইটা কি হোজ্জার কাল্পনিক গল্পের অনুকরণে বনাইসে নাকি কে জানে! বড়ই উর্বর মস্তিস্কের লোকজন দেখা যাইতেসে ঢাকার রাস্তায়। এরা নাইচা গাইয়া বলতেসে স্বাধীন স্বাধীন...। কে স্বাধীন, কিসের স্বাধীন কিছু বুঝা যাচ্ছে না। এইটা নাকি সুলতানি আমলের ইদ আনন্দ উৎসব। এখন ইউনুস সুলতান হইলে অবশ্য কথা ঠিক আছে। এই গাধার পিঠে বসা মানুষটারে অবশ্য ইউনুসের মত লাগতেসে না। জামায়াতের জিন্দা অলির মত লাগতেসে অনেকটা। হোজ্জারে দেখি নাই কোনদিন, তার সাথে মিল আছে কিনা জানি না।

মাঝখান থেকে আমার স্যান্ডেল গায়েব হয়ে গেলো নামাজে এসে। কি বিচিত্র স্বাধীন দেশে আছি।


কবরস্থানে যাইতে হবে। এইটা একটা দেখার মত জায়গা। ইদের সময় সবাই তাদের অতি প্রিয়জনদের একবার হলেও শুভেচ্ছা জানাতে যায়। অপরপাশে শুভেচ্ছা না পৌছালেও মাটির খুব কাছাকাছি গিয়ে জানান দেয়, হে প্রিয়জন আমি এসেছি। আমার আনন্দের দিনেও তোমাকে ভুলি নাই, তুমি ভাল থাকো। এই মানুষগুলার চেহারা দেখতে আমার খুব ভাল লাগে।

মাসুদরে সকাল থেকে দেখতেসি না। তারও খোঁজ খবর নেয়া দরকার। রমজান মাস শেষে তারও স্বাধীনতা পাবার অধিকার আছে। হাজার হোক আমরা সবাই মানুষ! তারে সালামি দিতে হবে। 

এরপর বাসায় গিয়া একটা ঘুম দিতে হবে। সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে আবার শুরা পানের দাওয়াতে যেতে হবে। এজন্যই কবি ওমর খৈয়াম বলেছেন, 

এইখানে এই তরুর তলে
তোমার আমার কৌতুহলে,
যে ক’টি দিন কাটিয়ে যাবো প্রিয়ে-
সঙ্গে রবে সুরার পাত্র
অল্প কিছু আহার মাত্র
আরেকখানি ছন্দ মধুর কাব্য হাতে নিয়ে।
 
এই কবির নামের সাথে কেন যে 'খৈ' আর 'আম' দুইটা জিনিস লাগাইসে বুঝি না। তার পিতা-মাতা নিশ্চয়ই সুলতানি আমলে বাংলায় এসেছিলেন। সেইখান থেকেই এই নামকরন।

মাসুদের ইফতার

মাসুদরে নিয়া ইফতারি কিনতে বের হইসি। সারাদিন ডিউটি দেয়, ভাবলাম কিছু ভাল-মন্দ কিনে খেতে দেই। রমজান হচ্ছে দান-খয়রাত করে সোয়াব কামানোর মাস। এই এক মাস যা দান করব তার সত্তুর গুন বেশি সোয়াব হবে। বড়লোক হবার এই এক মজা। টাকা দিয়া সোয়াব কিনা যায়।

মসজিদের সামনেই ইফতারির দোকান বসছে। প্রচুর ভিড়। ভিড়ের মাঝখানেই এক অটো রিকশা মাসুদের পায়ের উপর চাকা তুলে দিল। আমি কিছু বোঝার আগেই মাসুদ অটোচালকের ঘাড়ের উপর দুইটা বন চটকনা বসায় দিল। বলতেসে তোর ভাগ্য ভালো এখন রোজা চলে তাই গালে মারলাম না।

অটোরিকশা চালকেদের ইগো অনেক বেশি। সে তো আর সাধারণ রিকশা চালক না। তার রিকশাকে বাংলার টেসলা বলা হয়। সে "মাদারচোত' বলে মাসুদের উপর ঝাপায়া পড়সে। বেশ লেগে গেল ভীড়ের মাঝে ধুন্দুমার কান্ড।

আমি পকেট থেকে মোবাইল বের করে এই দৃশ্য ধারন করা শুরু করলাম। দুইজনের একজন মরে গেলে প্রমান রাখা লাগবে। আশেপাশের কয়েকজন যতই থামানোর চেষ্টা করে এই দুইজনের মারামারি ততই বাড়ে। তবে মাসুদের শক্তি বেশি হওয়াতে সে জিতে যাবে মনে হচ্ছে। আমি শিষ দিয়ে তাকে উৎসাহ জানাবো কিনা চিন্তা করছি।

অবশেষে অটোচালক রণে ভংগ দিল সুবিধা করতে পারবে না বুঝে। গজগজ করতে করতে বলতেসে, রোজা রমজানের দিন তোরে কিছু কইলাম না। তোরে খালি একবার একলা পাইয়া লই।

- তুই আমার বালটা ছিড়িস...। মাসুদ একটা অশ্লিল ভঙ্গি করে চোখ টিপে দিল অটোচালককে।

মাসুদ কুকুরের মত হাঁপাতে হাঁপাতে আসল। চোখে যুদ্ধ জেতার ঝিলিক। শার্টের দুইটা বোতাম গায়েব, গলায় খামচি।

- তোর তো রোজা ভেঙে গেসেরে মাসুদ।
- কি যে কন বস! আমি কি ইচ্ছা কইরা মারামারি করসি? শা... পায়ের উপর তুইলা দিয়া কয় চাপস না কেন। সরি না বইলা উলটা বেয়াদবি করে। আমার একটা সম্মান আছে না?

- হ।। তুই যুদ্ধে জিতছস। কি এনাম চাস?

- জিলাপি আর হালিম কিনা দেন, লগে নান রুটি। আজকে ভাল পরিশ্রম হয়ে গেলো।

আমি মাসুদরে দুই-নম্বর শাহী হালিম আর কালা তেলে ভাজা জিলাপি কিনে দিলাম। নান-রুটি পাই নাই, টাকা দিয়ে কইসি সন্ধ্যায় গিয়া নিয়া আসিস।

মাসুদ বেজায় খুশি। আমি জানি এই টাকা দিয়া সে নানরুটি না কিনে সিগারেট খাবে। তারে পুলিশের কাছে ধরাইয়া দিতে পারলে ভালো হইত। দেশে নাকি ধূমপানের বিরুদ্ধে নতুন আইন হইতেসে। মাসুদরে ট্রান্সজেন্ডার বানাইয়া পাবলিক প্লেসে ধূম্রপানের আওয়তায় কেলানি দেয়া গেলে ভালো লাগত।

কিন্তু আফসোস এই থানার দারোগা নিজেই বিড়িখোর। বিড়ি খাইতে গেলে তার সাথে মাঝে মধ্যেই গনির দোকানে দেখা হয়ে যায়। দেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, রক্ষক যখন বিড়িখোর হয় তখন ভালো মানুষেরা কি করবে?

নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস

ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার ভাঙ্গা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে বুলডোজার আনা হয়েছে, এটা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। এর সাক্ষী না হলে কি হয়! বুড়া বয়সে পোলাপানরে অন্তত বলতে পারব আমি ৭১ দেখি নাই, কিন্তু ৫ই ফেব্রুয়ারী দেখেছি। এইটাও মুক্তিযুদ্ধের সমান।

রাতেই আসার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু একটা বিয়ার দাওয়াতে গেসিলাম। লুটপাটের থেকে দাওয়াত খাওয়া বেশি ইম্পর্টেন্ট মনে হইসিলো আমার কাছে। অবশ্য টিভিতে লাইভ দেখতেসিলাম তৌহিদি ছাত্র-জনতার উল্লাস। সকাল সকাল তাই নিচে নেমে মাসুদরে খুঁজতেছি। সাথে একজন সঙ্গী থাকা দরকার।

মাসুদ যথারীতি গেইটে নাই। ফোন দিলাম, "তুই কইরে মাসুদ?"

- বস আমি তো একটু ধানমন্ডি আইসি। এইখানে স্বৈরাচারের কারখানা উড়াইয়া দেয়া হইতেসে!
- তুই বইলা গেলি কারে?

- আপনে তো ঘুমাইতেসিলেন, তাই বিরক্ত করি নাই।
- তুই ওইখানেই থাক, তোরে যদি আজকে হাতের কাছে পাই। নিজের কেল্লা পাহারা দেয়া রাইখা তুই গেছস বিপ্লবী সাজতে?

আমি ফোন কেটে দিয়ে একটা অটোরিকশা ঠিক করলাম। ৩২ নম্বর যাবো শুনে সে দুইশ টাকা দাবি করল। আমি দামদামি না করেই উঠে গেলাম। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে টাকা পয়সা কোন বিষয় না। অটোরিকশা চালক দেখতে গুন্ডার মত। আজকাল অবশ্য বেশিরভাগ অটোরিকশা চালকই দেখতে গুন্ডার মত। গুন্ডার মত দেখতে একজন সাথে থাকলে নিরাপদ লাগে।

৩২ নম্বর লোকে লোকারণ্য। আমার অটো চালক বলল "ভাইজান কি আবার যাবেন?"

- হুম, তুমি ওয়েট করবা?
- কোন সমস্যা নাই, আমি আছি। 

- তাইলে এইখানেই থাকো। আমি মাসুদরে ফোন দিলাম আবার। সে পাঁচ মিনিট পরে আসলো আমার কাছে। তার হাতে কিছু ইট আছে আর একটা বস্তা।

- এইগুলা কি আনছিস?
- কিছু পাইতেসি না বস নেয়ার মত। কয়টা ইটা নিয়া আসছি। বস্তায় কিছু কাগজ আর ফাইল আছে। একজনের কাছ থেকে কাইড়া নিসি।

- চুরি করতেছিস?
- কি যেন কন বস? এইগুলা গণিমতের মাল। সবাই নিতেসে, আমিও নিয়া আসছি।

আমি কিছু বললাম না। মব সাইকোলজি নিয়ে এখন জ্ঞান দেয়ার সময় না। জ্ঞান পরে দোচানো যাবে। আমি নাটক দেখতেসি। মানুষের উল্লাস দেখতেসি। বড় একটা মেশিন একটা বিখ্যাত বাড়িতে গুতা দিতেসে এইটা একটা ফ্যাসিনেটিং বিষয়। ছোট ছোট ডান্ডা হাতে মোবাইল ভ্লগাররা ঘুরতেসে। কিছু হুজুর টাইপের লোকজন হাতুড়ি নিয়া দেয়ালে বাড়ি দিতেসে সোয়াবের আশায়, ইন্টারভিউ দিতেসে ক্যামেরার সামনে। দিস প্লেস ইজ এবসুলেট সিনেমা। ইতিহাস ভাইঙ্গা নতুন ইতিহাস গড়ার চেষ্টা দেখতে খারাপ লাগতেসে না।

ঘন্টা দুয়েক পর আমি, মাসুদ আর আমাদের গুন্ডা অটোওয়ালা কিছু রড, ইটা আর এক বস্তা কাগজ নিয়া রওনা দিলাম বাসার দিকে। আজকের দিনটা বৃথা যায় নাই।

 

কিছু জিনিস গুপন থাকাই ভালো

মফিজ একজন ডাক্তার। সে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে পোস্টমর্টেম করে। রিটায়ারমেন্টের সময় চলে আসছে। একজন এসিসট্যান্ট আছে মফিজের, তার নাম হাসমত। বয়স কম আর বেজায় খাচ্চড় প্রকৃতির। আজকে সকালে একটা ডেড বডি আসছে। সেটার পোস্টমর্টেম হাসমতকে শুরু করতে বলে মফিজ গেছে বাইরে চা খাইতে।


একটু পরেই হাসমত দৌড়াইয়া আসছে। হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলে, বস জলদি আসেন। একটা জিনিইস দেখানো লাগবো আপনারে। কিছু গন্ডগোল হইসে ভাইবা মফিজ দৌড়াইয়া মর্গে যায়। গিয়া দেখে লাশ তখনো চাদরে ঢাকা।

হাসমত চাদর উঠাইয়া তারে দেখায়। দেখসেন বস - এর মেশিন কত বড়? 

আসলেই... ডেডবডির পেনিসের সাইজ দেইখা মফিজের চোখ কপালে উঠে যায়। এইটারে কোনভাবেই ন্যাচারাল মনে হয় না তার কাছে। সে মফিজরে বলে, চাকু আর ফরমালিন নিয়া আসতে। নিজের হাতে লাশের বডি থেইকা পেনিস কাইটা ফরমালিনের জারে রাখে। এই জিনিস বাসায় নিয়া বউরে না দেখালেই নয়। তার চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতায় এত বড় জিনিস সে দেখে নাই। বউরে দেখায়া একটা সারপ্রাইজ দেয়া যাবে। তাই অনৈতিক হইলেও সে এই চুরিটা করে।

- এই লোকের নাম কিরে হাসমত?
- এর নাম ছিলো আবুল খন্দকার। কিন্তু আপনে এইডা কাটেন ক্যান?
- বিজ্ঞান গবেষনার জইন্য অনেক কিছু করতে হয়রে হাসমত। তুই নাদান মানুষ, তোর আরো শিখার বাকি আছে।

আবুল তুমি একটা মাল... বিড়বিড় করে বলে মফিজ।

সন্ধ্যায় বাসায় গিয়া বউরে সারপ্রাইজ দিবে ভাইবা মফিজ তার ব্যাগ থেকে ফরমালিনের জারটা বাইর করে।

- দ্যাখো...বউ আজকে কি পাইসি। এইরকম জিনিস আগে কোনদিন দ্যাখসো?

মফিজের বউ একবার তাঁকাইয়াই কান্না কান্না স্বরে কয়, সেকি...! আবুল মইরা গ্যাছে? 

------

কৌতুক শেষ এখন একটা প্রবাদ বাক্য বলি। কুত্তার লেজ কোনদিন সোজা হয় না। আমরা সারপ্রাইজড হই নাই, আমরা কেউ মফিজ না, মফিজের বউ ও না।