একলা মানুষ
একা একা নাকি মাল খাইতে যাওয়া ঠিক না! - এই নিয়ম আমি অনেকদিন মেনে চলছি। যখনই মাল খেতে যেতাম কাউকে সঙ্গে নিয়া যেতাম।
তবে অন্য কাউকে সাথে নিয়ে গেলে একটা সমস্যা হয়, কেউ বিল দেয়ার সময় পকেটে হাত দিতে চায় না। বাঙ্গালী ফ্রি খাওয়ার অভ্যাসে সবাই ছোটবেলা থেকেই অভ্যস্ত। স্কুলে টিফিন টাইমে আইস্ক্রিম আর ঝালমুড়ি খেতে গিয়া সেটা শেখা হয়ে গেছে।
যখন দেশের বাইরে ছিলাম, বারে গিয়া বসলেই কারো না কারো সাথে আলাপ জমে যাইত। সে নিজের বিল দিত আমি আমারটা। মাঝে মধ্যে এক-দুইটা ফ্রেন্ডলি ড্রিংক অফার করতাম।
কিন্তু দেশে এসে পড়ছি মহা বিপদে। এখানে কাউকে সাথে নিয়ে যেতে হয়। কারন ড্রিংক করার পরে মনের ম্যালা কথা বাইর হইয়া আসতে চায় কিন্তু বলার মত কেউ থাকে না। আর বাঙ্গালী মনে করে তারে যেহেতু আমি সাথে নিয়া আসছি, তার মানে পুরা বিল আমিই দিব।
এইবার রাগ করে তাই একাই ড্রিঙ্ক করতে চলে গেলাম চালু একটা বারে। ধুম ধাম মিউজিক বাজতেসে। দেশি-বিদেশী সকল গানরে রেপ করে ছাড়তেসে। লাইভ জাহান্নাম যারে বলে। যদিও লোক নাই তেমন। ড্রিংকের দামও প্রচুর। এইদিক থেকে বাংলাদেশ টপে আছে। মালের কোয়ালিটি ভাল না কিন্তু দামের বেলায় মনে হয় স্কটল্যান্ডে বসে আছি।
কিছু হুজুর দেখলাম সুন্নতী দাড়ি নিয়া বসে আছে। মনে হয় কর্পোরেট লাইফের ক্লান্তি এড়াতে তারা দিন শেষে এইখানে আসে। ঢুকার সময় একজনরে লম্বা সালাম দিলাম। যদিও সে উত্তর দিল না। বারে নানা রকমের মাতালের দেখা যায়। এইখানে সালামের জবাব দিলে সমস্যা।
কয়েকজন নারী দেখলাম বেশ মেকাপ নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। তারা মাল খেতে আসে নাই। যারা মাল খেতে আসছে তাদের রাতের সার্ভিস লাগলে দিতে আসছে। পৃথিবীর আদিমতম পেশায় তারা নিয়োজিত। আমি এদের সাথে চোখাচোখি হওয়া থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করলাম। মানুষ কত অসহায় সভ্যতার কাছে। দিনের বেলায় সে হয়ত খুব পর্দার সাথে চলাফেরা করে, কিন্তু রাতে অর্থ উপার্জন করতে তাকে অচেনা মানুষের কাছে ন্যাংটা হতে হয়।
মালের অর্ডার দিয়ে বসে আছি আর এইসকল উচ্চমার্গীয় হাবিজাবি চিন্তা করতেসি। একলা দেশের বারে আসার কোন অভিজ্ঞতা নাই আমার। শুনেছি মাঝে মধ্যে নাকি পুলিশের রেইড পড়ে। পুলিশ মাতালদের ধরে থানায় চালান করে দেয়। যারা টাকাপয়সা দিতে পারে তারা পুলিশের গাড়ি থেকেই জামিন নিয়ে চলে যায়।
জীবন যেখানে যেমন। টাকার কাছে সবাই ন্যাংটা। Everyone has a price.
জীবনের কঠিন ডিসিশন একা নিতে হয়। আমি বর্তমানে সেই পর্যায়ে আছি। কয়দিন আগে এক নব্য প্রেমিকের সাথে কথা হচ্ছিল। সে ইনিয়ে বিনিয়ে তার গার্লফ্রেন্ডদের কথা বলছিল আমাকে। আমি বিশেষ আগ্রহ না দেখানোতে তার কিছুটা মন খারাপ হয়।
আসলে এই মধ্য বয়সে এসে কচি কচি মেয়েদের পিছনে নষ্ট করার মত সময় আমার নাই। এই আচোদা যেই লাইফ পার করতেসে সেটা আমি ভার্সিটি থাকতেই শেষ করে এসেছি। সে কার সাথে কয়বার শুইসে সেটা শুনে আমার কি লাভ? যেই জিনিস টাকা দিলেই কিনতে পাওয়া যায়, সেটার পিছনে নাটক করে মাসখানেক সময় নষ্ট করার কোন প্রয়োজন দেখি না।
বাঙ্গালী পুরুষ এবং নারী উভয়েই বিছানায় যাবার আগে নানা ভণিতা করে। ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের পর এরা বয়ফ্রেন্ডরে বলে - আমারে বিয়া করবা কবে?
এই বালের আলাপের থেকে দুইপেগ হুইস্কি খাওয়া ভালো। আমি শুন্যে গ্লাস তুলে ত্রিশ পার হওয়া সকল আচোদা বাঙ্গালীর মানসিক স্বাস্থ্যের কল্যান কামনা করলাম। যারা এখনও বোতলের ছিপি খোলে নাই, তাদের জন্য সমবেদনা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন