পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

গুপ্ত - The Undercover Gem

স্কুলে থাকতে আমারা রসময় গুপ্তের বই কিনতে নীলক্ষেত যেতাম। নীলক্ষেতে নীলের চাষ না হলেও নিউজপ্রিন্টে ছাপানো গুপ্ত আংকেলের বইয়ের চাষ হত। তখন আজকালকার মতো ইনস্টাগ্রামে নংগ্ন নারীদের শরীর দোলানো দেখা যেত না। আমাদের ইন্টারনেট আর স্মার্টফোন ছিল না। আমরা গুপ্ত আংকেলের সেই ছোট ছোট গল্প পড়ে নিজের মনের মত করে সব কল্পনা করে নিতাম।

সেই হিসেবে বলা যায় আজকের গেঞ্জিদের তুলনায় আমাদের কল্পনাশক্তি অনেক ভালো ছিল। এখনতো পোলাপান পর্ন দেখতে বসলেও বাছাই করতে পারে না যে কোন ক্যাটাগরি দেখবে! আর আমাদের একটাই চ্যানেল ছিল- গুপ্ত আংকেল।

বড় হয়ে যাবার পর নীলক্ষেতে গেলে দেখেছি কেউ আর গুপ্ত আংকেলের বই কেনার জন্য চিপায় ডাকে না। এইজন্যই এই জেনারেশন বই পড়ে না।

দেশের বাইরে চলে আসার পর অনেক কিছু মিস করি, গুপ্ত তাদের একজন। যাকে কখনও দেখিনি, কিন্তু মনে মনে অনেক খুঁজেছি।

ইদানিং অবশ্য গুপ্ত নামটা আবার শুনতে পাচ্ছি খুব। গুপ্ত নাকি এখন হাল ফ্যাশনের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে গেছে। গুপ্তের স্মর্থিক গোষ্ঠী আর বিরোধী পক্ষ নাকি প্রকাশ্যে মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে। গুপ্তের এই প্রচারে আমি সমর্থন জানাচ্ছি। গুপ্ত একজন মহান শিল্পী। তাকে ভুলতে দেয়া যাবে না।

গুপ্ত প্রেমী সবাইকে ভালোবাসা। গুপ্তকে ভালবাসুন।

- আতিক আল জামি
- হাফ বৃটিশ 

 

 

শুটকি

ওমর সানির একটা এড দেখি ফেইসবুকে মাঝেমধ্যে। সে একটা অফিস চেয়ারে বসে বোতল থেকে শুটকি ভর্তা নিয়ে ভাত খাচ্ছে। তার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে কষ্ট হলেও সে খাচ্ছে।

যারা এই মোটকারে শুটকি খাওয়াইতে পারসে তাদেরকে ধন্যবাদ। তো এই শুটকি আমি অর্ডার দিলাম এক বয়াম। যদিও আমি শুটকি খাই না। আমার বস বলসে শুটকিতে প্রচুর কিটনাশক দেয়া থাকে। এইডি খাইলে কিডনি ড্যামেজ হবেই হবে। অর্ডার দিয়া আফসোস করলাম, কেন করলাম এই কাম? বসের আদেশ অমান্য করা হইতেসে পাপের মত। 

শুটকি ডেলিভার করল, টেস্ট করলাম। যেমন তেমন যাকে বলে। চাংখারপুলের ভাতের হোটেলে এর থেকে ভাল শুটকি ভর্তা বানায়। 

টাকাটা যেন লস না যায় এইজন্য বয়ামটা মাসুদরে দিয়া দিলাম। বললাম এইটা সৌদির আঁচার। খাইলেই সোয়াব হবে। সে মহাআনন্দে এইটা নিল। ফ্রি যেকোন জনিসের প্রতি মাসুদের লোভ প্রচন্ড। আসলে গরীব মানুষের কোন ক্লাস নাই। এরা শ্রেনিহীন মানুষ, সমাজের নিন্মস্তরের বোঝা।

শুটকির আঁচার খেয়ে মাসুদের পেট খারাপ হয়ে গেল। কুত্তার পেটে আসলে ঘি সহ্য হয় না। তবে আমি বুঝলাম। বস যা বলে ভালোর জন্যই বলে।

মাসুদরে পেট খারাপ উপলক্ষ্যে একদিনের ছুটি দিলাম। সে তার গার্লফ্রেন্ড্রে নিয়া ঘুরতে চলে গেল। বউ থাকার পরেও এই ঢাকা শহরে মাসুদ যে কিভাবে একটা গার্লফ্রেন্ড যোগাড় করসে এইটা ভাইবা আমার মাঝে মধ্যে ঈর্ষা হয়। 

আজকে বাইকে তেল নাই। ভাবসিলাম মাসুদরে লাইনে দাঁড় করায়া দিব। হইল না। ওমরসানি তোমার এডের কারনে কতকিছু যে হারাইলাম। তোমাকে ট্রস ট্রস করে চাবুক মারতে হবে।

 

--- কাপু