পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

স্যান্ডেল

মাসুদরে সাথে নিয়া গেলাম বায়তুল মোকাররম নামাজ পড়তে। বড় জামাতে নামাজ পড়ে আরাম আছে। মাসুদ অবশ্য যেতে রাজি হচ্ছিল না। তারে যেই পাঞ্জাবি কিনে দিসি সেটা পরেই সে রওয়ানা দিসে। এই পাতলা কাপড়ের পাঞ্জাবি পরে তার নিপল দেখা যাচ্ছিল দেখে সে নীচে একটা লাল কালারের গেঞ্জি পরে আসছে। সেন্ডু গেঞ্জি পরলে স্টাইল নষ্ট হবে বলে সেটা তারে পরতে মানা করসি।

তবে রাস্তা-ঘাটের লোকজন একটু কেমন কেমন ভাবে তাকাচ্ছে। এইটারে মসজিদে ঢুকতে দেয় কিনা সেটা নিয়া সন্দেহ হচ্ছে। তবে লোকজন মুচকি মুচকি হাসলেও কেউ তারে কিছু বলল না। মাসুদ বুক ফুলিয়ে সেলিব্রেটি কায়দায় হাঁটছে। একজন আবার টুক করে একটা ছবিও তুলে ফেলল। 

মাসুদের কাছে আমার স্যান্ডেল জম দিয়া বললাম, নামাজ শেষে এইখানে আইসা আবার মিলিত হবা। বিড়ি খাইতে এদিক-ঐদিক যাবা না। আর স্যান্ডেল ঠিকমত নজরে রাখবা। এইখানে মুসুল্লির বেশে প্রচুর চোর আসে।

তারে নামাজ পড়তে উপরে পাঠায়া দিলাম। এই পাঞ্জাবি পরা লোকের সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া যাবে না। প্রচুর ক্যামেরাম্যান দেখা যাচ্ছে। কে কোন দিকে দিয়ে ভিডিও করে ভাইরাল করে দিবে।

নামাজ শেষে আমি একটু আস্তে ধীরে বের হলাম। মাসুদের দেখা নাই। খালি পায়ে হেঁটে একটু দূরে গিয়ে একটা মালব্রো ধরালাম। এই জিনিস টেনে ইদানিং আর আগের মত ফিলিংস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে দুই-নম্বর। নজর রাখছি মাসুদ কখন আসে।

একটু পরেই মাসুদ আসল কুত্তার মত হাঁপাতে হাঁপাতে। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কিরে চোদনা, আমার জুতা কই? শালায় বলে, বস মোনাজাত শেষ করা পর্যন্ত জুতা সামনেই ছিল। মোনাজাত শেষ করতেই কইত্থকে জানি লোকজন আইসা ভিড় কইরা ফেলল আমার সামনে। এরপর দেখি জুতা নাই।

- তোরটা দেখি আছে। আমারটাই নিয়ে গেল?
- বস, আপনারটাতো দামি জুতা সেই কারনেই নিয়ে গেছে! আমি প্রচুর খুঁজলাম কিন্তু পাই নাই।

ইচ্ছা করতেসিল শালার কান বরাবর একটা দেই। কিন্তু ঈদের দিন। মেজাজ খারাপ করা যাবে না। একটা রিকশা নিলাম আর মাসুদের স্যান্ডেল আমি পরে তারে খালি পায়ে থাকতে বললাম।

বাসায় গিয়ে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব। দোয়া রাখবেন।

 

- কাপু 

মাসুদের পাঞ্জাবি

মাসুদরে টাকা দিয়ে বললাম, ঠিক এইরকম দেখতে একটা পাঞ্জাবি কিনবি আর সেটা পরে আমাকে ঈদের দিন সকালে সালাম করতে আসবি। তবে কালার নীলের বদলে লাল হইলেও সমস্যা নাই।

বেক্কলে জিগায় সাথে সেন্ডূ গেঞ্জি কিনবে নাকি। আমি মানা করে দিসি। সেন্ডু গেঞ্জি পরলে জামদানির ভ্যালু কমে যাবে।

- কাপু

বিদ্যাশ

ভাইগ্না গেছে ইংল্যান্ডে পড়তে। গ্রামে খবর রইটা গেছে সে ব্যারিষ্টার হইতে গেছে। এখন তার লাইগা প্রচুর মেয়ের সম্বন্ধ আসতেসে। কেউ কেউ একশ বিঘা জমি আর চাইলের মিল লেইখা দিতে চায়। 

একদিন ফোন দিলাম ভাইগ্নারে ইমুতে। সে বলে - "মামা তুমি ইমুতে ফোন দিবে না। খল মি অন ওয়াটসেপ"

আমি জিগাইলাম ঐটা আবার কি? সে বলে, তোমাদের মত ওল্ড পিপলদের নিয়ে এই একটা সমস্যা। ঠেখনোলজী এডাপট করতে পারনা।

মাত্র মাস তিনেক হয় সে বিদেশ গেছে। এখনই তার বাংলা বলতে দাঁত ভেঙে যায় অবস্থা। এই হারামজাদারে জুতানো দরকার। দেশে থাকতে ল্যান্ট্রিনরে কইত পায়খানা আর এখন আমারে "ঠেকনোলজি" শেখায়।

- তা বাবা তোমার জন্যতো অনেক সম্বন্ধ আসতেসে। তুমি ব্যারিষ্টার হইলে অনেকেই তাদের মাইয়া দিতে পাগল হয়া যাবে। ভাল এমাউণ্টের যৌতুকও দিবে।

- আহ... মামা! এখন এসব ভাবার সময় নাই আমার। খেরিয়ার বিল্ডিং এর ঠাইম।

- বাবারে তুমি যে কি বিল্ডিং বানাইবা সেটা আমি জানি না। তুমি কি ইনিজিনিয়ারিংও পাশ দিবা নাকি? তবে অনেকেই জানতে চায়। তোমার কোন পছন্দ আছে নাকি?

- ওহ... নো মামা... এঞ্জিনিয়ার হব কেন? মাত্রতো এলাম। একটা পার্টটাইম জবে ঢুকেছি। কিছু টাকা পয়সা জমাই। ফাইভ-সিক্স ইয়ার পরে দেশে যাব তখন দেখা যাবে।

- জবে ঢুকেছো মানে? তাইলে পড়াশোনা করনা?

- আরে ওটায় খালি হাজিরা দিলেই হয়। এই পড়াশোনা আমাকে দিয়ে হবে না। তার থেকে এইখানে স্যাটেল হবার চিন্তা করছি।

- কি চাকরি পাইস? আমি চিন্তিত গলায় বলি?

- একটা পাকিস্তানি শপে সুপারভাইজারের কাজ, প্লাস ম্যানেজারের দায়িত্বও আমাকে পালন করতে হয়। বিয়ে-শাদী নিয়ে এখন কোন চিন্তা করছি না।

- পাইক্কাদের সাথে খাতির হইসে? তাদের গোলামি করতেস লেখাপড়া বাদ দিয়া? তোমার বাপে যে দেশ থেকে টাকা পাঠায় সেগুলা দিয়া হয় না?

- ওহ মামা... এখন রাখি। ডিউটি টাইম। পরে বাসায় গিয়ে ফোন দিচ্ছি। আর পাইক্কা বলবা না। আমরা সবাই ভাই-ভাই।

আমি খুব মর্মাহত হলাম ভাইগ্নার কথা শুনে। তার বাপেরে এখন কেম্নে বলি পোলা ব্যারিষ্টার না হয়ে বালেস্টার হবে। আধুনিক যুগের পোলাপান দাসত্বরে স্মার্টনেস ভাবে। বিদেশ গিয়া সে দোকানে সেলসম্যান হইসে আর তার বাপেরে বুঝাইসে সে ব্যারিস্টারি পড়তে গেসে। 

 - মতিনের মামা 

 

 

ফাক ইউ বয়েজ !!!

সদানন্দ আর ভোমায় তুমুল ঝগড়া লাগসে। কেউ কারো মুখ দেখে না এইরকম অবস্থা। দুইজনই পালাক্রমে আমারে ডিনার করাইসে আর একে অন্যের নামে বদনাম করসে। আমি খালি শুইনা গেসি, কোন রায় দেইনি। এরা অবশ্য রায়ের আশায় বিচার দেয় নাই। মানুষ তার মনের দুঃখের কথা অন্যকে বলতে ভালোবাসে, এরাও সেটাই করতেসে। তবে ব্যপারটা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লাগতেসে। কারন প্রতিবারই আমার কপালে ভালমন্দ খাবার জুটে যাচ্ছে।

তাই আমি চাই, এই বাকযুদ্ধ চলুক। বাকযুদ্ধ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়ার আগে অবশ্য থামাতে হবে। নাইলে আমছালা দুটোই যাবে। এই শেষ বয়সে এসে নতুন করে বন্ধু খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল।

ঝামেলার মূল কারন যেটা আমি আইডেন্টিফাই করতে পারসি সেটা বউ ঘটিত। কার বউ কারে কি বলসে, সেটা নিয়া। আমি সাধারণত বেডি মানুষের ঝামেলা থেকে দূরে থাকি। দুনিয়ার তাবৎ ঝামেলার একটা বৃহৎ এবং আজাইরা কারন এই বেডি-বেডি ঝগড়া।

কয়দিন দূরে থাকার পর একদিন সন্ধ্যায় ভোমারে ফোন দিলাম। দুই তিনবার রিং হবার পরে ধরল।

- কিরে কি করিস?

- কিছু না। মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।

- রোজা রাখছিস?

- অবশ্যই। আমি পাঁচ ওয়াক্ত রোজা রাখি।

- রোজা মানুষ দিনে একবার রাখে। তুই পাঁচবার করে রাখতেছিস কেন?

- ফাঁক ইউ ম্যান!

- আর ইফতারির সময় ঘুমায় কোন মাঙ্গের নাতি?

-  তুই শাউয়ার নাতি।

আমি হাসলাম, রাগ না করে বললাম, "দাদার শাউয়া আছিল কিনা জানি না। আমি ছোট থাকতেই পটল তুলসে। তবে বেডি মানুষের শাউয়া থাকে বলে জানি।"

- মন খারাপ ম্যান, তাই শুয়ে ছিলাম। তোর কি খবর বল?

- আমি ভাল আছি। তোদের দুইজনের কোন খবর পাচ্ছিলাম না, তাই ফোন দিলাম। 

- বউ গেছে শপিং এ। আমি বাসায় একা। চলে আয়...। সেহরি পর্যন্ত আড্ডা দিব তারপর দুইজন মিলে ঢাকা ঘুরতে বের হব।

- বউ শপিং এ গেছে তোর মন খারাপ কেন?

- আমার ক্রেডিট কার্ড নিয়া গেছে। ইতিমধ্যে সত্তর হাজার খরচের এসএমএস চলে আসছে।

- ধুর এইটা কোন বিষয় নাকি। অফিস গেলেই একদিনেই টু-পাইস কামাই এর থেকে বেশি হবে। এইটাতো তোর পিয়নের পকেট খরচও না। 

- তা ঠিক। তবে রোজায় ঘুষ খাই না। মানবতা বলেওতো একটা বিষয় আছে। 

- ওহ...হ... ভুলেই গেসিলাম। তুই তো পাঁচ ওয়াক্ত রোজা রাখিস। 

- ফাক ইউ ম্যান। দেরি না করে রওনা দে। একটা চিভাস রিগ্যাল এর বোতল দিয়ে গেছে ভাইগ্না। তুই আসলে একসাথে খাব।

- রমজানে? শয়তান না বান্ধা আছে? এই সকল আইডিয়া আসে কেমনে?

- ফাক ইউ ম্যান! ভোমা ফোন রেখে দিল।

আমি বাসা থেকে বের হলাম। যাবার সময় সদানন্দরে অনেক পিড়াপিড়ি করে তুলে নিলাম। বললাম ভোমা সিরিয়াস অসুস্থ। মান অভিমান ভেঙে মৃতপ্রায় বন্ধুকে দেখতে যাওয়া উত্তম। সদা আমার কথা বিশ্বাস না করলেও সাথে আসল। জ্যাম ঠেলে যেতে যেতে প্রায় একঘন্টা। ততক্ষনে সদা আমারে বারবার প্রশ্ন করছে সিরিয়াস অসুস্থ হলে ভোমা হাসপাতালে না হয়ে বাসায় কেন? আমি সিরিয়াস ভঙ্গিতে জবাব দিলাম - ফাক ইউ ম্যান। এই সময় হাসপাতালে নিয়া কি হবে? যা হবার হয়ে গেছে, একহ্ন মান অভিমানের সময় না। তবে ঠিক কি হয়েছে সেটা সদানন্দ জানে না।

দরজা খুলে সদা আর আমারে দেখে ভোমা অবাক। ভোমারে দুইপায়ে হাফপ্যান্ট পরে দাড়ায়া থাকতে দেখে সদাও কিঞ্চিত বিরক্ত। আমি হাসিমুখে বললাম, শয়তানরে সাথে নিয়া আসছি। 

ভোমা তার দীর্ঘ একমাসের অভিমান ভেঙে সদারে জড়ায় ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিল। আমি বুঝলাম সে ইতিমধ্যে কয়েক পেগ পেটে চালান করে দিয়েছে। তার এখন অতি আবেগের সময়।

সদা কিছু বলল না। সে ভোমার আলিঙ্গন থেকে ছাড়া পাবার জন্য ধস্তাধস্তি করছে। আমার দিকে তাঁকিয়ে শুধু বলল, শালা মাতালের বাচ্চা। এইডারে দূরে সরা।

আমার চোখে তখন আনন্দাশ্রু। আমি বললাম, ফাক ইউ গাইজ!