বিদ্যাশ

ভাইগ্না গেছে ইংল্যান্ডে পড়তে। গ্রামে খবর রইটা গেছে সে ব্যারিষ্টার হইতে গেছে। এখন তার লাইগা প্রচুর মেয়ের সম্বন্ধ আসতেসে। কেউ কেউ একশ বিঘা জমি আর চাইলের মিল লেইখা দিতে চায়। 

একদিন ফোন দিলাম ভাইগ্নারে ইমুতে। সে বলে - "মামা তুমি ইমুতে ফোন দিবে না। খল মি অন ওয়াটসেপ"

আমি জিগাইলাম ঐটা আবার কি? সে বলে, তোমাদের মত ওল্ড পিপলদের নিয়ে এই একটা সমস্যা। ঠেখনোলজী এডাপট করতে পারনা।

মাত্র মাস তিনেক হয় সে বিদেশ গেছে। এখনই তার বাংলা বলতে দাঁত ভেঙে যায় অবস্থা। এই হারামজাদারে জুতানো দরকার। দেশে থাকতে ল্যান্ট্রিনরে কইত পায়খানা আর এখন আমারে "ঠেকনোলজি" শেখায়।

- তা বাবা তোমার জন্যতো অনেক সম্বন্ধ আসতেসে। তুমি ব্যারিষ্টার হইলে অনেকেই তাদের মাইয়া দিতে পাগল হয়া যাবে। ভাল এমাউণ্টের যৌতুকও দিবে।

- আহ... মামা! এখন এসব ভাবার সময় নাই আমার। খেরিয়ার বিল্ডিং এর ঠাইম।

- বাবারে তুমি যে কি বিল্ডিং বানাইবা সেটা আমি জানি না। তুমি কি ইনিজিনিয়ারিংও পাশ দিবা নাকি? তবে অনেকেই জানতে চায়। তোমার কোন পছন্দ আছে নাকি?

- ওহ... নো মামা... এঞ্জিনিয়ার হব কেন? মাত্রতো এলাম। একটা পার্টটাইম জবে ঢুকেছি। কিছু টাকা পয়সা জমাই। ফাইভ-সিক্স ইয়ার পরে দেশে যাব তখন দেখা যাবে।

- জবে ঢুকেছো মানে? তাইলে পড়াশোনা করনা?

- আরে ওটায় খালি হাজিরা দিলেই হয়। এই পড়াশোনা আমাকে দিয়ে হবে না। তার থেকে এইখানে স্যাটেল হবার চিন্তা করছি।

- কি চাকরি পাইস? আমি চিন্তিত গলায় বলি?

- একটা পাকিস্তানি শপে সুপারভাইজারের কাজ, প্লাস ম্যানেজারের দায়িত্বও আমাকে পালন করতে হয়। বিয়ে-শাদী নিয়ে এখন কোন চিন্তা করছি না।

- পাইক্কাদের সাথে খাতির হইসে? তাদের গোলামি করতেস লেখাপড়া বাদ দিয়া? তোমার বাপে যে দেশ থেকে টাকা পাঠায় সেগুলা দিয়া হয় না?

- ওহ মামা... এখন রাখি। ডিউটি টাইম। পরে বাসায় গিয়ে ফোন দিচ্ছি। আর পাইক্কা বলবা না। আমরা সবাই ভাই-ভাই।

আমি খুব মর্মাহত হলাম ভাইগ্নার কথা শুনে। তার বাপেরে এখন কেম্নে বলি পোলা ব্যারিষ্টার না হয়ে বালেস্টার হবে। আধুনিক যুগের পোলাপান দাসত্বরে স্মার্টনেস ভাবে। বিদেশ গিয়া সে দোকানে সেলসম্যান হইসে আর তার বাপেরে বুঝাইসে সে ব্যারিস্টারি পড়তে গেসে। 

 - মতিনের মামা 

 

 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন