ফাক ইউ বয়েজ !!!
সদানন্দ আর ভোমায় তুমুল ঝগড়া লাগসে। কেউ কারো মুখ দেখে না এইরকম অবস্থা। দুইজনই পালাক্রমে আমারে ডিনার করাইসে আর একে অন্যের নামে বদনাম করসে। আমি খালি শুইনা গেসি, কোন রায় দেইনি। এরা অবশ্য রায়ের আশায় বিচার দেয় নাই। মানুষ তার মনের দুঃখের কথা অন্যকে বলতে ভালোবাসে, এরাও সেটাই করতেসে। তবে ব্যপারটা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লাগতেসে। কারন প্রতিবারই আমার কপালে ভালমন্দ খাবার জুটে যাচ্ছে।
তাই আমি চাই, এই বাকযুদ্ধ চলুক। বাকযুদ্ধ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়ার আগে অবশ্য থামাতে হবে। নাইলে আমছালা দুটোই যাবে। এই শেষ বয়সে এসে নতুন করে বন্ধু খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল।
ঝামেলার মূল কারন যেটা আমি আইডেন্টিফাই করতে পারসি সেটা বউ ঘটিত। কার বউ কারে কি বলসে, সেটা নিয়া। আমি সাধারণত বেডি মানুষের ঝামেলা থেকে দূরে থাকি। দুনিয়ার তাবৎ ঝামেলার একটা বৃহৎ এবং আজাইরা কারন এই বেডি-বেডি ঝগড়া।
কয়দিন দূরে থাকার পর একদিন সন্ধ্যায় ভোমারে ফোন দিলাম। দুই তিনবার রিং হবার পরে ধরল।
- কিরে কি করিস?
- কিছু না। মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।
- রোজা রাখছিস?
- অবশ্যই। আমি পাঁচ ওয়াক্ত রোজা রাখি।
- রোজা মানুষ দিনে একবার রাখে। তুই পাঁচবার করে রাখতেছিস কেন?
- ফাঁক ইউ ম্যান!
- আর ইফতারির সময় ঘুমায় কোন মাঙ্গের নাতি?
- তুই শাউয়ার নাতি।
আমি হাসলাম, রাগ না করে বললাম, "দাদার শাউয়া আছিল কিনা জানি না। আমি ছোট থাকতেই পটল তুলসে। তবে বেডি মানুষের শাউয়া থাকে বলে জানি।"
- মন খারাপ ম্যান, তাই শুয়ে ছিলাম। তোর কি খবর বল?
- আমি ভাল আছি। তোদের দুইজনের কোন খবর পাচ্ছিলাম না, তাই ফোন দিলাম।
- বউ গেছে শপিং এ। আমি বাসায় একা। চলে আয়...। সেহরি পর্যন্ত আড্ডা দিব তারপর দুইজন মিলে ঢাকা ঘুরতে বের হব।
- বউ শপিং এ গেছে তোর মন খারাপ কেন?
- আমার ক্রেডিট কার্ড নিয়া গেছে। ইতিমধ্যে সত্তর হাজার খরচের এসএমএস চলে আসছে।
- ধুর এইটা কোন বিষয় নাকি। অফিস গেলেই একদিনেই টু-পাইস কামাই এর থেকে বেশি হবে। এইটাতো তোর পিয়নের পকেট খরচও না।
- তা ঠিক। তবে রোজায় ঘুষ খাই না। মানবতা বলেওতো একটা বিষয় আছে।
- ওহ...হ... ভুলেই গেসিলাম। তুই তো পাঁচ ওয়াক্ত রোজা রাখিস।
- ফাক ইউ ম্যান। দেরি না করে রওনা দে। একটা চিভাস রিগ্যাল এর বোতল দিয়ে গেছে ভাইগ্না। তুই আসলে একসাথে খাব।
- রমজানে? শয়তান না বান্ধা আছে? এই সকল আইডিয়া আসে কেমনে?
- ফাক ইউ ম্যান! ভোমা ফোন রেখে দিল।
আমি বাসা থেকে বের হলাম। যাবার সময় সদানন্দরে অনেক পিড়াপিড়ি করে তুলে নিলাম। বললাম ভোমা সিরিয়াস অসুস্থ। মান অভিমান ভেঙে মৃতপ্রায় বন্ধুকে দেখতে যাওয়া উত্তম। সদা আমার কথা বিশ্বাস না করলেও সাথে আসল। জ্যাম ঠেলে যেতে যেতে প্রায় একঘন্টা। ততক্ষনে সদা আমারে বারবার প্রশ্ন করছে সিরিয়াস অসুস্থ হলে ভোমা হাসপাতালে না হয়ে বাসায় কেন? আমি সিরিয়াস ভঙ্গিতে জবাব দিলাম - ফাক ইউ ম্যান। এই সময় হাসপাতালে নিয়া কি হবে? যা হবার হয়ে গেছে, একহ্ন মান অভিমানের সময় না। তবে ঠিক কি হয়েছে সেটা সদানন্দ জানে না।
দরজা খুলে সদা আর আমারে দেখে ভোমা অবাক। ভোমারে দুইপায়ে হাফপ্যান্ট পরে দাড়ায়া থাকতে দেখে সদাও কিঞ্চিত বিরক্ত। আমি হাসিমুখে বললাম, শয়তানরে সাথে নিয়া আসছি।
ভোমা তার দীর্ঘ একমাসের অভিমান ভেঙে সদারে জড়ায় ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিল। আমি বুঝলাম সে ইতিমধ্যে কয়েক পেগ পেটে চালান করে দিয়েছে। তার এখন অতি আবেগের সময়।
সদা কিছু বলল না। সে ভোমার আলিঙ্গন থেকে ছাড়া পাবার জন্য ধস্তাধস্তি করছে। আমার দিকে তাঁকিয়ে শুধু বলল, শালা মাতালের বাচ্চা। এইডারে দূরে সরা।
আমার চোখে তখন আনন্দাশ্রু। আমি বললাম, ফাক ইউ গাইজ!

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন