স্যান্ডেল

মাসুদরে সাথে নিয়া গেলাম বায়তুল মোকাররম নামাজ পড়তে। বড় জামাতে নামাজ পড়ে আরাম আছে। মাসুদ অবশ্য যেতে রাজি হচ্ছিল না। তারে যেই পাঞ্জাবি কিনে দিসি সেটা পরেই সে রওয়ানা দিসে। এই পাতলা কাপড়ের পাঞ্জাবি পরে তার নিপল দেখা যাচ্ছিল দেখে সে নীচে একটা লাল কালারের গেঞ্জি পরে আসছে। সেন্ডু গেঞ্জি পরলে স্টাইল নষ্ট হবে বলে সেটা তারে পরতে মানা করসি।

তবে রাস্তা-ঘাটের লোকজন একটু কেমন কেমন ভাবে তাকাচ্ছে। এইটারে মসজিদে ঢুকতে দেয় কিনা সেটা নিয়া সন্দেহ হচ্ছে। তবে লোকজন মুচকি মুচকি হাসলেও কেউ তারে কিছু বলল না। মাসুদ বুক ফুলিয়ে সেলিব্রেটি কায়দায় হাঁটছে। একজন আবার টুক করে একটা ছবিও তুলে ফেলল। 

মাসুদের কাছে আমার স্যান্ডেল জম দিয়া বললাম, নামাজ শেষে এইখানে আইসা আবার মিলিত হবা। বিড়ি খাইতে এদিক-ঐদিক যাবা না। আর স্যান্ডেল ঠিকমত নজরে রাখবা। এইখানে মুসুল্লির বেশে প্রচুর চোর আসে।

তারে নামাজ পড়তে উপরে পাঠায়া দিলাম। এই পাঞ্জাবি পরা লোকের সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া যাবে না। প্রচুর ক্যামেরাম্যান দেখা যাচ্ছে। কে কোন দিকে দিয়ে ভিডিও করে ভাইরাল করে দিবে।

নামাজ শেষে আমি একটু আস্তে ধীরে বের হলাম। মাসুদের দেখা নাই। খালি পায়ে হেঁটে একটু দূরে গিয়ে একটা মালব্রো ধরালাম। এই জিনিস টেনে ইদানিং আর আগের মত ফিলিংস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে দুই-নম্বর। নজর রাখছি মাসুদ কখন আসে।

একটু পরেই মাসুদ আসল কুত্তার মত হাঁপাতে হাঁপাতে। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কিরে চোদনা, আমার জুতা কই? শালায় বলে, বস মোনাজাত শেষ করা পর্যন্ত জুতা সামনেই ছিল। মোনাজাত শেষ করতেই কইত্থকে জানি লোকজন আইসা ভিড় কইরা ফেলল আমার সামনে। এরপর দেখি জুতা নাই।

- তোরটা দেখি আছে। আমারটাই নিয়ে গেল?
- বস, আপনারটাতো দামি জুতা সেই কারনেই নিয়ে গেছে! আমি প্রচুর খুঁজলাম কিন্তু পাই নাই।

ইচ্ছা করতেসিল শালার কান বরাবর একটা দেই। কিন্তু ঈদের দিন। মেজাজ খারাপ করা যাবে না। একটা রিকশা নিলাম আর মাসুদের স্যান্ডেল আমি পরে তারে খালি পায়ে থাকতে বললাম।

বাসায় গিয়ে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব। দোয়া রাখবেন।

 

- কাপু 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন