মধুকোষ
কুরবানি ঈদ আসলেই মাসুদ একটা না একটা ফাইজলামি করবেই। এইটা তার খাইসলত।
আজকে তার নামে বিচার এসেছে। সে নাকি বিল্ডিং এর সবার গরুর চামড়া আর বিচি চেয়েছে। চামড়ার কাহিনী আমি বুঝেছি। এটা তার টু-পাইস কামানোর ধান্ধা। গতবার মাদ্রাসায় দান করবে বলে কয়েকজনের কাছ থেকে গরুর চামড়া নিয়ে সেটাও বেচে দিয়েছে।
কিন্তু বিচির ব্যপারটা ঠিক বোঝা গেলো না। ছাদে ছিলাম, সেখান থেকে উঁকি দেখলাম সে নিচে দাঁড়িয়ে আছে। একটা ছোট ফুলের টব তার মাথা বরাবর ছেড়ে দিলাম। প্লাস্টিকের টব। বেশি কিছু হবে না। ভাগ্য ভালো সেটা তার মাথায় না পড়ে পাশে পড়লো।
"ওরে বাবাগো' - বইলা সে যে চিৎকার দিলো সেটা দেখে মন ভালো হয়ে গেল। মাঝে মধ্যে মানুষের ভয় পেতে হয়। ভয় না পেলে মানুষ আকাম-কুকাম করে বেশি।
মাসুদ উপরে তাঁকানোর আগেই আমি ঝট করে সরে গেলাম। তারপর নিচে গিয়ে তাকে পাকড়াও করলাম।
- কিরে মাসুদ, চিল্লাস কেন?
- বস, কে জানি উপর থেকে ফুলের টব মারসে।
- ফুলের টব আবার কে মারবে? ছাদে তালা দেয়া না?
- তালা তো দেয়াই আছে বস। কিন্তু মনে হয় আমাগো ছাদ থেকেই ফেলসে।
- দিনের বেলাতেই নেশা করেছিস নাকি?
মাসুদ জিহ্বায় কামোড় দেয়। তার ভয় এখনও কাটে নাই।
- তুই নাকি সবার কাছ থেকে গরুর বিচি চেয়েছিস।
- বস বিচি না। ঐটাতো মধু কোষ।
- মানে? বিচি মধুকোষ হইল কবে থেকে?
- আমি ফেইসবুকে দেখসি বস। ইন্ডিয়াতে খাসির বিচি রান্ধে। সেই টেস্ট। লোকজন লাইন ধরে খায়।
- ওরে হারামি, তুই কি তাই বইলা গরুর বিচি খাবি?
- এইটাতো হারাম না বস। শুনছি এইটা খাইলে শরীরে শক্তি হয়। সারাদিন ডিউটি দেই। একটু শক্তি দরকার না আমার।
- ওরে শালা ফাঁকিবাজ, তুই গুরুর বিচিরে মধু কোষ বানাচ্ছিস। তোরে যদি কাঁচা এই বিচি না গিলাইসি। এর থেকে ভালো তুই শান্ডা খা। বজ্জাত কোথাকার!
মাসুদের মন খারাপ হয়ে গেল। তার চেহারা দেখে আমার মায়া লাগছে।
- ঠিক আছে ... তুই বিচি কালেক্ট করিস। ওইটা দিয়া হালিম বানাবি। কিছু লোকরে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবো।
মাসুদের চেহারায় এবার আলোর ঝলকানি দেখা দেয়।
- বস তাইলে আমেনার মারে ঈদের দিন বুক দিয়া দেই। সে ভাল রান্ধে।
- আমেনার মা টা আবার কে?
- তিনতলায় কাম করে।
- তুই তারে চিনস কেমনে?
- মাঝে মইধ্যে আমার লগে কথা হয়। আসা যাওয়ার পথে দেখা হয় এই আরকি।
- মাসুদ তুই ভালো হইয়া যা। তোরে আমি চিনি না! আবার লটর পটরের কোন খবর যদি কানে আসে। তবে তোর মধুকোষ গালায় দিব।
- কসম কইরা কইতাসি বস, তার সাথে আমার কিছু নাই।
তারে আমি বিশ্বাস করসি এইরকম একটা ভং ধইরা সিরিয়াস গলায় বললাম -
- সাবধানে থাক। শুনছি বিল্ডিঙে নাকি জ্বীনের আছর হইসে। যাদের চরিত্র খারাপ তাদের উপর সে আক্রমন করে।
- ইন্নালিল্লাহ... এইটা কি কন?
- হ... তোরে জানায়া রাখলাম। আমি হুজুর ডাকতে যাই।
মাসুদের চেহারা শুকায়া গেছে। জ্বীন-ভূতে তার মেলা ডর। আজকে রাতে শিওর তার ঘুম হবে না। আমি আর কথা না বাড়িয়ে বাইরে চলে আসলাম। গনির চায়ের দোকানে যেতে হবে। তারপর এলাকার মুরুব্বী আকমল চাচাকে খুঁজে বের করতে হবে। শালায় বুড়া বয়সে তিন নম্বর বিবাহ করেছে। ঈদের দিন তার দাওয়াত। স্পেশাল মধুকোষের হালিম তার জন্য খুব দরকারি।
আরবিরা শান্ডা খাইতে পারলে আমাগো মধুকোষের কোন দোষ নাই। এইটাতো মরুভূমির দেশ না। এইখানে শান্ডা পাওয়া যায় না, এইটা মধুকোষের দেশ। মধুমাসে সবাইকে মধুকোষের দাওয়াত।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন