"অ" তে অটোরিক্সা, "আ" তে আতিক

সকাল সকাল অটোরিক্সা চালকের সাথে একটা ঝগড়া হয়ে গেল।

সাধারণত বাংলার টেসলা খ্যাত অটোওয়ালাদের সাথে আমি গ্যাঞ্জাম করি না। এরা রাস্তার ডাকু, যেকোন সময় মাইর দিয়া বসতে পারে। ভাল মানুষদের সমস্যা তারা এক জোট হতে পারে না। আর বদমাইশেরা সর্বদা পাপ কাজের জন্য দলবেঁধে চলে। ঢাকায় এরা এখন দলবেঁধে পুলিশ আর বাইকার পেটায়, রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করে। বিচিত্র দেশ আরো বিচিত্র হয়ে গেছে।... না বলা উচিত বিচি কান্ধে উঠেছে!

রাস্তা পারি হইতেসিলাম, একটা গাড়ি আইসা পড়ায় তারে সাইড দিয়া হাঁটতেসি, এই বাইঞ্চুত পিছন থেকে ট্যাঁ ট্যাঁ করা শুরু করসে। এমনেই ঘুম ভালো হয় নাই, তার উপর এই সাউন্ডের অত্যাচার। জিগাইলাম, এই শালা ট্যাঁ ট্যাঁ করো কেন?

- হর্ন না দিলে যদি লাইগ্যা যাই তাইলে তো আমারে চোদন দিবেন।
- একবার দিলে হয় না? তুই দেখস না আমি পার হইতেসি। আমি কি রাস্তার মাঝখানে আছি যে তুই হর্ন দিয়াই যাইতেছিস।
- তো হর্ন দিমু না? লাইগ্যা গেলে তো আপনি আমারে চোদন দিবেন।

ধুর বাল। এই শালাতো চোদন বাদে কথাই কয় না। "এই তুমি আসছ কোথা থেকে?"

- দিনাজপুর।
-ওহ...। আমি অনেক কষ্টে রাগ সংবরন করলাম। দিনাজপুরে কোন গার্লফ্রেন্ড আছিল কিনা মনে করতে পারতেসি না। এই হারামজাদার বডি দেইখা আর মারামারিতে গেলাম না। কোনভাবেই এই শালা রিক্সা চালাইত না আগে। গায়ে চর্বি আর মাসল দুইটাই আছে।

আমি সমঝোতার জন্য তার কাঁধে হাত রাখতেই সে বলল- "গায়ে হাত দেন ক্যান?"

সকাল সকাল বাইর হইসি, ঘুষি দিতে গিয়াও দিলাম না। এখন মারমারি করা যাবে না। এই শালাদের চোদনে রাস্তায় হাঁটাও মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। যেদিকে তাঁকাই টেসলা আর ট্যাঁ ট্যাঁ শব্দ।

আমারে রক্ত চক্ষু দেখাইয়া সে বিড়বিড় কইরা গালি দিতে দিতে প্যাসেঞ্জার নিয়া চলে গেল।

এর পরে গেলাম আতিকের সাথে দেখা করতে। সে মিরপুর ডিওএইচ এর ভিতরে থাকে। পুরাটা রাস্তা জুড়ে অটোরিকশার ট্যাঁ ট্যাঁ শুনার পরে ডিওএইচ আইসা কিছুটা কানের শান্তি পাইলাম। শব্দ দূষন এক লাফে ৬০ ভাগ কমে গেল। মনে পড়ে গেল সেই বিখ্যাত ডায়লগ, পরিবেশটা সুন্দর না? 

আতিক পোলাটা একটু রেসিস্ট। দুই-তিনবার ছ্যাকা খাওয়ার পর এখন পুরাই নারী বিদ্বেষী। দুনিয়ার কোন সুন্দরীকেই সে দেখতে পারে না। আমারে দেইখা সে খুশি হইল না বেজার হইল বুঝা গেলো না। সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে বলল, বুঝছিস, পুরুষের সবথেকে বড় শত্রু হইল তার চ্যাট।

- আর মেয়েদের কোনটা?
- ওদের প্রথমে পেট তারপর চ্যাট।
- মেয়েদেরও চ্যাট আছে?

আতিক খুব কুৎসিত একটা গালি দিলো। এইটা লেখার অযোগ্য।

- ওরা পেট ভরা থাকলে চ্যাটের চিন্তা করে না। আর পেট ভরা না থাকলে চ্যাট ব্যবহার করে।

আমি এহেন বিচার বিবেচনায় পুরাই চোদনা হয়ে গেলাম। আজকে চোদন দিবস মনে হচ্ছে।

- আবার ছ্যাকা খাইছিস?
- ছ্যাকা খাবো কেন? আমি এখন ফাকবয়।
- ফাকবয় কি করে?
- চ্যাট করে।

ধুর বাল। এই হালায়তো খালি জ্ঞান কপচাইতেসে। আতিকের কাছ থেকে কিছু টাকা পাবো। দেই দিচ্ছি করেও দিচ্ছে না। নাইলে এই বালের আলাপ দেয়ার জন্য আমি এতদূর আসতাম না। আমি সবজান্তার ভঙ্গিতে মাথা নাড়লাম।

আতিকের কিছু কুখ্যাত জ্ঞানগর্ভ বাণী আছে -

- যে মাইয়ারা লিপস্টিক দেয় আর গায়ে সাদা পাউডার মাখে তারা দেখতে কুৎসিত।

- যাদের পরিবারে বাপের-থেকে মা বেশি গরম, এইরকম পরিবারে বিবাহ করা যাবে না। জীবন ত্যাজপাতা করে ফেলবে।

- হাই-হিল পরা মাইয়ারা সাধারণত বেকুব হয়।

- যারা ডেটে গেলে বয়ফ্রেন্ডের বিল দেয় না, তারা ব্লোজবও দিতে চায় না। এদের থেকে দূরে থাকতে হবে।

- মেয়েরা ভদ্র ছেলেদের পাত্তা দেয় না। তারা খালি ফাকবয় খোঁজে।

- বিবাহিত আর সুখী এই দুইটা জিনিস এক সাথে হয় না। 

আতিক অবশ্য বিবাহ না করেই অনেক বিবাহিত লোককে জ্ঞান দিয়ে বেড়ায়। তার ভাষ্যমতে, বিবাহিতরা অন্যদেরকেও একই রকম মারা খেতে দেখতে চায় বলেই সত্য বলতে চায় না। 

এই ছেলের সাথে বেশিক্ষন আড্ডা দিলে আমি নিজেও ফেমিনিষ্ট হয়ে যাব।

 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন