কে থাবড়ায় রে...?

অফিস কলিগ জুবায়েরের একটা মুদ্রাদোষ আছে। কথা বলার সময় সে মাঝে মধ্যে ডান হাত দিয়ে সামনের জনকে চাপড় দেয়। এইটা ঠিক থাপ্পড় না আবার খুব রোমান্টিক কিছুও না। যারা তার এই অভ্যাসের সাথে পরিচিত না তাদের কাছে প্রথম দেখাতেই কেউ এইরকম ফ্রেন্ডলি আচরন করতেসে দেখলে ভালো লাগার কথা না।

ব্যাপারটা আরো খারাপ লাগে যখন সে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবার সাথে এরকম করে। জুবায়েরর এই মুদ্রাদোষ এর একমাত্র ভাল জিনিস হচ্ছে সে জেন্ডার বায়াসড না। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাইকে জুবায়ের সমান ভাবে থাবড়ায়।

গতকালকে অফিসের সিড়িতে দাঁড়িয়ে আমরা দুজন ব্রি সেবন করছিলাম। জুবায়েরকে হালকা মেজাজে বললাম, ব্রো, এই যে তুমি সবাইকে থাবড়াও ব্যপারটা বেশি ভালো লাগে না। তুমি আমার থেকে তিন হাত দূরে দাঁড়াও। ওইখান থেকে আমরা কথা বলি। আজকে তোমার থাবড়া খাইতে ভালো লাগতেসে না।

- এইটা কোন কথা বললেন বস। আমি কি যারে তারে থাবড়াই? যাদের ভাল লাগে শুধু তাদের থাবড়াই। উদাস স্বরে বলে জুবায়ের ব্রিতে একটা লম্বা টান দিল।

- আমারে বস ডাকতে মানা করসি না? আমি কি তোমার বস। মাজহার ভাই তোমার বস। তুমি আমারে নাম ধরে ডাকবা, স্যার বলবা বা ভাই বলে ডাকবা। 

- মাজহার ভাই ব্রি খাইতে আমন্ত্রন জানায় না। সে বালের বস। ঠিক আছে আপনারে আমি মিয়া-ভাই বলে ডাকব।

- যা খুশি বলে ডাকো। কিন্তু দয়া করে আবার মিয়া খলিফার ভাই বানায় দিয়ো না।

- ঐটা আবার কে?

আমি জুবায়েরের এই ইনোসেন্স পুরাই বেক্কল হয়ে গেলাম। "জুবায়ের তোমার গার্লফ্রেন্ড থাকবে না"

- এইটা কি বললেন মিয়া ভাই? আপনে তো অন্তর্যামী।

-  কেন কি হইসে? 

- গার্লফ্রেন্ড ব্রেকাপ করসে, গতকাল। মনটা খুব উদাস?

- ঘটনা কি? আমি বিরস বদনে বলি।

- সে বন্ধু দিবসে আমারে একটা সোনার চেইন উপহার দিসে। এইটা নাকি গলায় পরে। সেইখানে আবার লকেট তার ছবি আছে তাতে লেখা "লাভ"। আমি শুধু বলসিলাম - আমি কি কুত্তা যে চেইন পরব? ব্যাস লেগে গেল ঝগড়া।

- তারপর...?

- তারপর আর কি...! বলে গেসে আমি নাকি রোমান্টিক না। আমারে আবিয়াইত্তা হয়েই মরতে হবে।

- গুড লর্ড... এইরকম গার্লফ্রেন্ডের থেকে কুত্তা পালাও ভালো।

- মিয়া ভাই... এইটা মনের মত বলসেন। অফিসে বসের ঝাড়ি খাই আবার বাইরে গেলে গার্লফ্রেন্ডের। এর থেকে কুত্তার জীবনও ভালো। বেশি পেরেশানি ভাল লাগে না।

- তোমারে কুত্তা হইতে বলি নাই। বলসি এইরকম গার্লফ্রেন্ড পালনের থেকে কুত্তা পালা ভালো।

- আরে তারে কি আমি পালি নাকি! সে কোটিপতি বাপের মাইয়া। যেই চাকরি করি... এইটা দিয়া আমার সারা মাসের মালব্রোর খরচ ওঠে না।

- তাইলে চলো কি করে?

- গার্লফ্রেন্ডের টাকায়। সে প্রতিমাসে তার হাত খরচ থেকে আমারে ত্রিশ হাজার টাকা দেয়।

- ওহ... লর্ড। আমি এবার স্বভাবতই বিরক্ত হই। এই মাইয়া তোমারে চেইন দিসে আর তুমি সেইটা নাও নাই? তুমি আসলেই একটা "নির্বোধ"। যেই দুধের গাভি দুধ দেয়, তার লাত্থি সহ্য করতে হয়। সে তোমারে গু দিলেও সেটা আচার মনে করে খাইয়া ফেলবা।

- হইতে পারে। তবে সে আবার ফেরত আসবে। এইজন্য পেরেশানি নিতেসি না।  

- এরে পটাইলা কেমনে? তোমার মতন চোদুর এইরকম একটা মালদার গার্লফ্রেন্ড আছে ভাবতেই কষ্ট হয়।

- সে এক বিরাট ইতিহাস মিয়া ভাই। সবই উপরওয়ালার ইচ্ছা!

ব্রি-সেবনের ব্রেক শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ইতিহাস আর শোনা হল না। আমি শুধু উপরওয়ালাকে অভিযোগ জানালাম। জুবায়ের যে এতবড় ফাকবয় সেটা আমার জানা ছিল না। কেন যে এইসকল ভাদাইম্মার কপালে আইসা এইরকম মাইয়া জোটে!

মেয়েরা আসলে লম্পট, বাবাখোর আর হিরুঞ্চি ছেলেদেরকেই বেশি পছন্দ করে।

 

 -- মিয়া ভাই 

 

 

 

 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন