আড়ং নাকি ভড়ং

আড়ং কে আমি বলি ভড়ং। এইটা মনে হয় উন্মাদ পত্রিকা থেকে আমার মাথায় ঢুকসে। বউয়ের সাথে অনেকবার গেসি। সায়েন্সল্যাব, বসুন্ধরা সিটি এই দুই ব্রাঞ্চেই বেশি যাওয়া হয়েছে। আমার কাছে সবসময়ই এই ব্র্যান্ডকে ওভাররেটেড মনে হইসে।

আমি আসলে ছয়-সাত হাজার টাকা দিয়ে পাঞ্জাবি কিনার পাবলিক না। এরা যে সকল জামাকাপড় বেচে সেগুলা খুবই বেসিক ডিজাইনের হয়, কিন্তু দাম থাকে চড়া। নিউমার্কেটে একটু খুঁজলেই এর থেকে কমে ভাল জিনিস পাওয়া যায়।

তবে নারীকুলের কাছে আড়ং অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেহেতু লম্বা সময় ধরে এরা বৃহৎ একটা নারীসমাজকে মুগ্ধ করে রাখতে পেরেছে তার মানে এদের ডিজাইন এবং কাপড় নারীদের ভালো লাগে। নাইলে এতদিন ধরে উচ্চমধ্যবিত্তদের এরা মুগ্ধ করে রাখতে পারত না। তবে উচ্চ মূল্যে এসির বাতাস খাইতে খাইতে শপিং আমার সহ্য হয় না।

বর্তমানে অনলাইনে এদের একটা নেগেটিভ মার্কেটিং চলতেসে। এরা শপিং করার পর আর কমলা কালারের ব্যগটা ফ্রিতে দিচ্ছে না। বাংলাদেশের স্বপ্ন, মিনাবাজার, ইউনিমার্ট এরাও এখন আর ফ্রিতে ব্যাগ দিচ্ছে না। আমি বেশিরভাগ সময়ে নিজের ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাই অথবা বাজারের ব্যাগ। ব্যাগ না দিলেও আমার কিছু যায় আসে না।

কিন্তু আড়ংয়ের এই ব্যাগ না দেয়াতে নারীসমাজ অনলাইনে মহা শোরগোল তুলেছে। কিন্তু তাদের খুব অল্পজনকেই বলতে দেখলাম আড়ং এ আর শপিং করতে যাব না। চার-পাঁচ হাজার টাকার ধরা খেয়ে এরা বিশ-পঞ্চাশ টাকার অধিকার আদায় করতে চায়।

কি সেলুকাস। দেশে কি আর কেউ কাপড় বিক্রি করে না? 

এই দেশে বেগম রোকেয়ার মুর‍্যালে কালি লেপে দেয় আরেকজন নারী। এই দেশে নারীদের একটা অংশই বাকিদেরকে নিজের মত করে চলতে বাধা দেয়।

নারী তুমি চিন্তায় আর মননে স্বাধীন হও। অতীতের দাসত্ব থেকে মুক্ত হও। খালি ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে বইলা একটা জায়গা থেকে শপিং করতে হবে এই ধারনা থেকে বের হও। দামী জামাকাপড় পরলেই তুমি অসাধারণ হতে পারবা না। মানুষের দাম নির্ধারন হয় কর্মে আর ঘিলুতে।

 

- সারকাজম বিবর্জিত লেখা
- জনৈক মুরুব্বী 

 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন