সদানন্দের পোলা
সদানন্দের পোলা হইসে। এইটা খুবই আনন্দের বিষয়। আনন্দের চোটে সে টাংগাইল গেছে ১০০ কেজি মিষ্টি কিনতে। তার কথা হচ্ছে ঢাকা থেকে মিষ্টি কিনলে লাখ টাকা চলে যাবে। টাংগাইলে দাম কম, অতএব সেখান থেকেই আনতে হবে।
আমি শুধু একবার মিহি সুরে বললাম লাগাইলি তুই, কষ্ট করলো তোর বউ, হাসপাতালের বিল দিলি তুই, আবার পাবলিকরে টাংগাইল থেকে মিষ্টি এনে খাওয়াতে হবে... এইডা কি ধরনের বিচার?
এই সকল যুক্তি দিয়ে অবশ্য সদানন্দের কোন বালটাও ছেড়া যাবে না। সে খুবই সামাজিক ছেলে। সমাজ যদি তাকে দুচেও দেয় সে হাসিমুখে প্যান্ট খুলে দেবে।
ভোমা অবশ্য টাঙ্গাইল যেতে আপত্তি করে নাই। দুইজন মিলা সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরসে, কেনাকাটা করসে আর রাতের বেলা ঢাকা ঘুইরা ঘুইরা সেগুলা বিলি করসে।
আমি অনেক চিন্তা করে দেখলাম সদানন্দের আসলে রাজনৈতিক নেতা হওয়া দরকার ছিল। এইভাবে জনসেবা আজ পর্যন্ত কোন মন্ত্রী-এমপিকে করতে দেখি নাই। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মিষ্টি বিলানো নিঃসন্দেহে একটা জনদরদী কাজ।
মানুষ আনন্দিত হলে সবাইকে জানাতে চাই। দুঃখের বিষয় হলে কি করে আমার জানা নেই। দুঃখ মনে হয় নিরবে যাপিত করার জিনিস। খুব কাছের মানুষ বাদে কাউকে জানাতে হয় না।
এবার অবশ্য সদানন্দ আমার উপর খেপছে। তারে অনেকক্ষন বয়ানবাজি করসিলাম। তার উপর সে রাজশাহী থেকে যেই আম আনছে স্পেশাল বইলা, সেটা আমার এলাকায় ৭০ টাকা কেজি দরে ফুটপাতে বিক্রি হয় - এইটা বলার পর সে পুরাই রাইগা ভোম।
স্পেশাল বললেই কি সব স্পেশাল হয়ে যায়? ঘরের কোনায় ভাল আম রাইখা রাজশাহী থেকে বেশি দাম দিয়া একই জিনিস কেনার কোন মাজেজা আমি বুঝি না।
বাই দ্যা রাস্তা, আমের টেস্ট খুব একটা ভাল না।
মিষ্টি জিনিস আমি খাই না। আমার অতি বড় শত্রুরেও আমি মিষ্টি উপহার দেই না। তবুও সদার পোলা হবার আনন্দে আমি দুইটা কালোজামের মত দেখতে জিনিস খাইলাম। অতীব সুখাদ্য। আরো খাইতে ইচ্ছা হইতেসিল। কিন্তু লোভ সংবরণ করলাম।
শাস্ত্রে আছে, মানুষ দুইটা কারনে ডোবে। একটা হইল পেট, আরেকটা চ্যাট।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন