সেক্সুয়াল ফ্রাস্টেশন অথবা ভালোবাসার অভাব

সদানন্দের সাথে ঘুরতে বের হওয়ার সমস্যা হচ্ছে সে বেশি কথা বলে। তার কথার জবাব যদি "সম্মতিসূচক হ্যাঁ" না হয় তবে সে একই কথা বারবার বলতে থাকে।

নতুন বাচ্চা হবার আগ থেকে এখন পর্যন্ত সে বউয়ের সাথে ইণ্টিমেট হতে পারছে না। বিশাল স্যাক্সুয়াল ফ্রাস্টেশনে ভুগতেসে।বেশ কয়েকবার আমাকে বলার চেষ্টা করেছে আরেকটা বিয়া করা দরকার। আমি তাকে আড়ালে আবডালে বলার চেষ্টা করেছি সেক্স করার জন্য বিবাহ করার দরকার নাই। কিন্তু সে কথাটা কানে নেয় না। যা করবে হালাল ভাবেই করতে চায়।

যদিও আমি জানি সুযোগের অভাবে বাঙালী সৎ থাকে। 

গেলাম পূর্বাচল ঘুরতে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলে বসে সে কথার তুবড়ি ছোটাল। কিছুদূর যেতেই রাস্তার পাশে একটা মেয়ে গাড়ি থামিয়ে আরেকজনের সাথে তর্ক করছে দেখে সে গতি কমিয়ে ফেলল।

- দেখেছিস... মনে হয় রেটে বনিবনা হচ্ছে না।
- হু... মনেতো হচ্ছে এইটা ওই মেয়ের ড্রাইভার।
- আরে না... বয়ফ্রেন্ড হতে পারে। 

আমি বলি, এখন তুই কি করতে চাস? বয়ফ্রেন্ড হোক বা না হোক, তাতে আমাদের কি? তুই সোজা গাড়ি চালা।

সদনন্দ কিছুদূর গিয়ে আবার গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে আসে। আমাকে বলে জানালা খোল দেখি কি বলে। মনে হয় সাহায্য দরকার।

আমি বিরক্ত হলেও কিছু বলি না।  যদিও আগের জায়গায় গিয়ে সেই গাড়ি আর মেয়ে কাউওকেই পাওয়া গেলো না।

- মনে হয় সব ঠিক হয়ে গেছে।
- ঠিক না হলে কি করতি?
- আরে কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করতে হবে না?

ভোমা এতক্ষন পিছে বইসা সব শুনতেসে। সে এইধরনের সেক্সুয়াল আলাপে যোগ দেয়না। তবে পরে নিশ্চিত  আমার কাছে বিচিং করবে। 

তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে বের হইলে সবচেয়ে বেশি ডিস্টার্ব দেয় সদানন্দ। ভোমা আর আমি অনেকবার লালপানি খাওয়া মুলতবি করেছি সদার কারনে। ইদানিং তার মাইয়ার নেশা হইতেসে খুব। অবশ্য বয়স চল্লিশ পার হইলে সব ব্যাটা মাইনষেরই এই রোগটা হয়। বউ আগের মতন জোয়ান থাকে না, আবার বিবাহিত জীবনকে পানসে মনে হয়।

এরপর আমরা গেলাম গুলশানে। এইখানে নাকি গাড়িওয়ালা ভাবিরা দেশি চিপস কে আমেরিকান স্টাইলে চানাচুরের মত মশলা দিয়ে বানায়া দেয়। ভাবিরা নাকি দেখতে খুবি সুন্দরী!

সদার পিড়াপিড়িতে সেখানেও যাইতে হল। গিয়া দেখি এক বিগত যৌবনা মুটকি মহিলা এই রাতের বেলাতেও গাড়ি নিয়ে বসে আছে হকারের মত।

ছোটবেলায় আমাদের চকবাজারে শুক্রবারে একটা সাদা রঙের গাড়ি নিয়ে দুই লোক আসত। তারা নানা কিছু রাস্তায় বসিয়ে মজমা জমাত। তারপর সেখানে গোপন রোগের বর্ননা করে শান্ডার তেল বিক্রি করত। বাঙালী এমনিতেই গোপন রোগের জন্য ডাক্তারের কাছে সহজে যায় না। এরা এইসব বালছাল কিনে খায় আর আশায় থাকে তার গোপনাংগ লোহার মত শক্ত হবে।

আমি মাঝেমধ্যে হাতে কাজ না থাকলে রঙিন ছবি দেখার আশায় এই মজমা দাঁড়িয়ে দেখতাম। 

এই বালের আন্টিকে দেখার জন্য সদা নিয়ে আসছে বলে তারে কিঞ্চিত ভর্ৎসনা করলাম। সদা বলল আজকে আন্টিদের সংখ্যা কম।

- তুই তাইলে গিয়া মোড়ে দাঁড়ায়া থাক। আমি শুনেছি এইখানে অতৃপ্ত ভাবিরা ছেলেদের পিক করে। ওরা শুধু ছেলেদের দেহ চায়। 
সদা বিরস বদনে বল, ওরা ইয়াং পোলা চায়। আমারা বুড়া হইয়া গেছি।

ভোমা বলল, ঠিক আমরা বুড়া হয়ে গেছি। এখন আমাদের থাইল্যান্ডে গিয়ে থাই মাসাজ নিতে হবে।

আমি শুধু বললাম, ল্যাওড়া মাসাজ। সব খালি লাগানোর ধান্দা। এর থেকে  গ্লোরিয়া জিন্সে গিয়ে ধুম্রপান আর কফি খাইলেও সময়টা কাজে লাগত।

গ্লোরিয়া জিন্সে গিয়াও শান্তি নাই। সেখানে এক ইয়াং বয়সের দাড়িওয়ালা ছেলের সাথে দেখলাম এক বুকখোলা গেঞ্জি পরা মেয়ে বসে আছে। পোলাডারে দেখলে শিবিরকর্মী মনে হইলেও সে আসলে গুপ্ত দালাল। ইদানিং  শুনেছি দেশে গুপ্ত রাজনীতি খুব পপুলার। 

ভোমায় কইল এইটা বাবা খায়।

- তুই বুঝলি কেমনে?
- দেখস না পাছা আর দুদু কেমন চিমসা মারা।
- হইতে পারে ওরা ক্লাসের এসাইনমেন্ট নিয়ে আলোচনা করতেসে।
- হ... রাইতের বাজে একটা আর চিমসা দুদু নিয়া এই গেঞ্জি এসাইনমেন্ট করতে আসছে গ্লোরিয়া জিন্সে? এরা দিনের বেলাতেই পড়ে না আর এখন আসছে সোনা নিয়া থিসিস করতে!

আমি বিশেষ কিছু আর বলতে পারলাম না। দেশটা আসলে গোল্লায় গেছে। যে যেভাবে পারে যাকে তাকে লাগাচ্ছে। সবাই সেক্সুয়ালি ফ্রাস্টেটেড। 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন