হাইকোর্টের নুনু
এলাকার বড় ভাই হাসিব। তিনি সারাদিন জনসেবায় ব্যস্ত থাকেন। নিজের বাসাবাড়ির খবর নাই কিন্তু আরেকজনের বাসা পাহারা দেয়ার মত আরকি! জনসেবা যাকে বলে।
তার পরিচিত কারে জানি বউ পিটানোর অভিযোগে মামলা দিসে। তিনি এইটা নিয়া দৌড়াইতেসেন। একদিন আমারে নিয়া গেলেন হাইকোর্টে। আমি যেতে চাই নাই। জোর করে আমাকে নিয়ে গেলেন জরুরী কাজ আছে বলে।
পুরাটা দিন সেখানে গেলো কালা কোট ওয়ালাদের মাঝে। হাইকোর্ট একটা অদ্ভুত জায়গা। সেখানে কারো বসার নির্দিষ্ট চেয়ার নাই। কে যে কোনখানে বসতেছে কিছুই বুঝলাম না।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আপনের বন্ধু কি সত্যি সত্যি বউ পিটায়?
হাসিব ভাই বললেন, মনে হয়! শালার উপর বিশ্বাস নাই। এখন সাধু সাজতেসে।
- কেমনে বুঝলেন বউ পিটায়? সে কি আপনারে বলসে?
- না বললেও বোঝা যায়। এই শালার নুনু ছোট। কলেজে থাকতে দেখসিলাম। আমরা সবাই মাধবকুন্ড বেড়াইতে গেসিলাম। সেইখানে হালায় আন্ডারওয়ার পইরা ঝর্নার পানিতে গোসল করতে গেসে। তখনই দেখসি। যাদের নুনু ছোট হয়, তারা বউ পিটানোতে ওস্তাদ লোক।
এহেন হাইপোথিসিসের পরে কোন কথা চলেনা। আমি মাথা নেড়ে সায় জানালাম।
হাইকোর্টের ক্যান্টিনের গরুর ঝাল মাংস আর ডাল-ভাত খেলাম। অতীব সুখাদ্য। বিল দিতে গেলে হাসিব ভাই মানা করল। বলল আসামী বিল দেবে। তার কাজে আসছি।
আমি বললাম, আসামী নির্দোষ।
হাসিব ভাই জিজ্ঞেস করলেন, কেন?
- যে দুপুর বেলায় অভুক্ত লোককে গরুর মাংস আর ভাত খাওয়ায়, তার কোন দোষ আমি দেখি না।
হাসিব ভাই চরম বিরিক্ত হয়ে বললেন, তোরে নিয়ে আসাটাই ভুল হইসে। এক বোতল দিলেতো তুই এইটারে ফেরেস্তা বানায় দিবি।
- ভাই আসলে ব্যপার সেটা না। এইদেশে নতুন শরীয়া আইন চালু হইতেসে। বউ পিটাইলে সেই আইনে কোন দোষ নাই। ব্যাডা মানুষ বউ পিডাইবো না তো কি করবো? আমি ভবিষ্যতের পক্ষে।
- তুই কি পলিটিক্সে জয়েন করছিস নাকি?
- করতে পারি। আমি তো মাইয়া না। পলিটিক্স, ধর্ম সবই ব্যাডা মাইনষের কাম। আর আমার নুনু ছোট না। কাজেই আমি বউ পিডানোর পক্ষে।
হাসিব ভাই গম্ভীর মুখে আমার দিকে চেয়ে রইলেন। আমি জানি এই ব্যাডা বাসায় বউয়ের হাতে মাইর খায়। এই দুঃখে সে সারাদিন বাসার বাইরে বাইরে থাকে।
আমি কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা দেবার জন্য বললাম, আচ্ছা ভাই যারা বউ মারে তাগো নুনু ছোট হয়, আর যাদের বসায় বউ স্বামীরে মারে তাদের কি হয়?
হাসিব ভাই গম্ভীর মুখে বললেন, তাদের বউয়ের পেনিস থাকে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন