বিয়ার দাওয়াত
হাসিব ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। লোকটা একটু বেশি কথা বললেও সাদা মনের মানুষ। তারে সহ্য করা যায়। কথায় কথায় সে জানাল সন্ধ্যায় দাওয়াত আছে। পরিবার যাচ্ছে না, তাই চাইলে আমি সাথে যেতে পারি।
আমি দাওয়াতে যাই না, কারন হাই কোলেস্টেরল প্রোটিন খাওয়ার কোন মানে পাই না আজকাল। তার উপর একজনের ঘাড়ের উপর আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকে কখন সিট খালি হবে।
তবুও কি মনে করে যেন চলে গেলাম আজকে সন্ধ্যায়। আশা করছি এইখানে কেউ আমাকে চেনে না। কাউকে হাসিুখে সালাম আর কুশল দেয়ার কিছু নাই। খাবো আর চলে আসব। গিয়ে দেখে সে এক এলাহি কান্ড। কনের বাপ পুরান ঢাকার বড় ব্যবসায়ী। বিশাল আয়োজনে করসে মেয়ের বিদায় উপলক্ষে। পুরাই মুভি সেটের মত করে সাজিয়েছে কমিউনিটি সেন্টার। কাভি খুশি কাভি গাম এর মত করে সাজগোজ করে গরিব লোকজন বড়লোক সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
খানা-দানার এলাহি কারবার। বিবাহ পড়ানো হইসে আগেই তাও কিছু আনুষ্ঠানিকতা, লোকিকতা আছে। ঢাকাইয়া লোকজনের বিবাহ কয়দিন ধরে হয় সেটাও আমার মাথায় সহজে ঢোকে না। এইটা অনেকটা ধারাবাহিক নাটকের মত। আমি খেয়েই বিদায় হতে গিয়েও পারলাম না। মনে হচ্ছিলো লাইভ কোন শুটিং এর মধ্যে আছি। একটার পর একটা নাটকের পর্ব চলছে। জুতা চুরি, মারামারি, কাচ্চিতে আলু কম হওয়া, রোস্টের সাইজ ছোট ইত্যাদি নানা ধরনের উত্তেজনা দেখতে ভালো লাগতেসিলো।
একটু আগেই একজনের সাথে আলাপে জানতে পেরেছি - বর আসলে ঘরজামাই হতে যাচ্ছে। তাতে অবশ্য আমার আপত্তি নাই। এইরকম শ্বশুর পেলে ঘরজামাই না থাকার কোন মানে দেখি না।
খাওয়াদাওয়া শেষে কন্যা বিদায়ের সময় হইসে। মাইয়া দেখে বিপুল বিক্রমে কান্নাকাটি শুরু করসে। একজন ভিডিওগ্রাফার আবার বিভিন্ন এঙ্গেলে সেইটার ভিডিও করতেসে। আশেপাশের সাইড নায়িকাদের চোখেও পানি। আমার আক্কেলগুড়ুম অবস্থা। পোলা যদি ঘরজামাই হয়, তাইলে মাইয়ার কান্নার কি আছে? সেতো বিদায় নিচ্ছে না। কানবে পোলায়, সে বাপের ঘর ছাইড়া বউয়ের ঘরে যাইতেসে।
পোলারে অবশ্য কানতে দেখলাম না। সে মুচকি মুচকি হাসছে। তার বাসর রাতের উত্তেজনার কথা মনে পড়ছে মনে হয়। নির্লজ্জ কোথাকার, চোখে একটুও শরম নাই।
এই কারনেই বিয়াশাদীতে যেতে চাই না। বিয়া না মুভি সেটাই বুঝতে পারতেসি না।
অবশ্য কি যায় আসে? আমার খাওয়া-দাওয়া দিয়া দরকার ছিল, সেটা ভরপেট হইসে। তবে এরা খাবার শেষে পানের সাথে সিগারেটের ব্যবস্থা রাখে নাই।
- মুরুব্বি

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন