মাসুদের ভোট

ভাবছিলাম নির্বাচন নিয়ে একটু রসিকতা করি। রসিকতা করার জন্য মাসুদকে খুঁজতেছি, কিন্তু গেইটে সে নাই। সে গেছে ভোট দিতে। তারে পই পই করে মানা করসি আমাকে না জানিয়ে ভোট দিতে যেতে না। কিন্তু সে নিষেধ অমান্য করসে।

আমি তার বসার চেয়ার আর লাঠিটা নিয়ে লিফটে করে উপরে চলে আসলাম। এইগুলার মিসিং রিপোর্ট করার জন্য হলেও তাকে আমার সামনে আসতে হবে। তখন তারে বানানো হবে।

এরপর গেলাম গণির চায়ের দোকানে। গণি আজকাল বেশ ভাব ধরে থাকে। কয়দিন মাথায় টুপি দিয়া ফেইক জামাতি সাজার চেষ্টা করছিল। এখন সদর্পে ঘোষনা দিয়ে বেড়ায় সে বিএনপি করে। কারন সে নিশ্চিত ভোটে তার দল ক্ষমতায় আসবে। তার মত শিওর কেইস অবশ্য আমাদের মাসুদও।

চায়ের দোকানে লোকজন কম। যারা আছে তারাও ভোট দিয়ে এসে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে একটু পর পর। রোজার সময় যেমন জিজ্ঞেস করে, ভাই রোজা আছেন নাকি? আজকে জিজ্ঞেস করতেসে, ভাই ভোট দিসেন নাকি?

এ এক মহা উৎসবের দিন। 

- গণি ভাই কি অবস্থা?

- অবস্থা ভালোনা ভাই। সিগারেট দিমু?

- দাও, আর একটা স্পেশাল মালাই চা। তা অবস্থা ভালো না ক্যান?

- এই যে জামাতিরা ট্যাকার বস্তা নিয়া নামসে ভোট কেনার জন্য।

-এইটাতে মন খারাপ করা কি আছে! নির্বাচন শেষে সবাই কামাইব। আগে থেকেই যদি কিছু হাদিয়া দিয়া দিতে চায় তবে সমস্যা কি?

- সমস্যা না? তাইলে ফেয়ার ইলেকশন হইল ক্যামনে?

- লাইফ ইজ নট ফেয়ার। - আমি আমার বিখ্যাত উক্তি দিলাম। 

- এইটা অবশ্য ঠিক বলসেন। তবে বিএনপি ক্ষমতায় না আসলে দেশে গৃহযুদ্ধ লাইগ্যা যাইব। জামাতিরা সব বেডি মানুষের কাম-কাইজ বন্ধ কইরা দিবো, স্কুল বন্ধ কইরা দিবো।

- কি বল! এইগুলা তোমারে কে বলসে?

- সবাই কয়, আমিওতো কিছু বুঝি নাকি?

- হুম... তুমি অবশ্য বেশি বুঝদার মানুষ। তা ভোট হ্যাঁ তে দিলা নাকি না'তে?

- ক্যান হ্যাঁ-তেই দিলাম।

- এইটা কি বুইঝা দিলা। তোমার দলতো এই গণভোটই চায় না। তাইলে তোমার না'তেই দেয়ার কথা না?

- এইটা কি বলেন?

গণি চিন্তায় পড়ে গেল। দলের সাথে বেইমানি হয়া গেল কিনা?

আমি চা শেষ করে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরা শুরু করলাম। কয়েকটা ভোট কেন্দ্রে গেলাম মানুষ দেখতে। তবে ভুলেও নিজের ভোট কেন্দ্রে গেলাম না। আমার ওস্তাদ নিষেধ করসে ভোট দিতে। সে বলসে গণতন্ত্র একটা ধোঁকার নাম। তোমরা শয়তানের ধোঁকায় পড়বা না। আমি ওস্তাদের কথা ফেলতে পারি না।

রাস্তায় উৎসাহী মানুষ দেখতে ভালো লাগতেসে। ভোট দিয়া কি সুন্দর হাইটা যাইতেসে, কুশল বিনিময় করতেসে একজন আরেকজনের সাথে, আঙুল উঁচাইয়া সেলফি তুলতেসে। মনে হইতেসে কুরবানির ঈদ।

বাসায় ফিরে একটা মুভি দেখব বলে ঠিক করলাম। ক্রিস্টফার নোলানের "ইনসেপশান"। জটিল একটা মুভি। স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে লোকজনের কাছ থেকে তথ্য চুরি করার নিঞ্জা কৌশল দেখায় কিছু লোক। এইরকম মুভি বানাইতে যেই ব্রেইন লাগে সেইটা সবার মধ্যে নাই। নোলানকে গুরু মানি এইজন্যই। মুভি শেষ হবার দশ মিনিটের মত বাকি এইসময় মাসুদ আসল। মেজাজ খারাপ করে উঠে গেলাম।

- কি চাস?

- বস, আমার চেয়ার আর লাঠি কে জানি নিয়ে গেছে।

- তুই কই আছিলি হারামজাদা?

- আমি ভোট দিতে গেসিলাম।

- শুয়োরের...আ। তোরে বলসিলাম ভোট দিতে যাবার আগে আমারে বলে যাবি?

- বস আসছিলাম বলতে, ম্যাডাম বলল আপনি ঘুমান। 

- ঘুমাইসি তো কি হইসে? তুই ওয়েট করলি না ক্যান?

- ভাবলাম সকাল সকাল যাই। পবিত্র কাজটা করে আসি।

- তোর পবিত্র কাজ এর গুল্লি মারি শালা। এখন ওইখানে কান ধরে দাঁড়ায়া থাক, নাইলে তোর খবর আছে। 

আমি গেলাম মুভি শেষ করে আসতে। মুভিটা আমার খুবই ভাল লাগসে। মুভি শেষ করে ফেইসবুকে একটা রিভিউ দিলাম। তারপর কয়েকটা রিলস দেখলাম। এরপর গেলাম আবার মাসুদের খবর নিতে।

মাসুদ কান ধরা অবস্থায় দেয়ালে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে। দিলাম একটা লাথি। হুড়মুড় করে পড়ে গিয়ে তার ঘুম ভাঙল।

- এই. শাওয়ার নাতি, তুই এই অবস্থায় ঘুমাইলি কেমনে? তুই তো গাধার অভ্যাস রপ্ত করে ফেলেছিস।

- কি যে কন বস, আপনারে গুরু মানি। 

তোর মত গুরু মারা শিষ্য আমার দরকার নাই। ভোট কারে দিসিস সেইটা বল? 

- বিম্পিরে... আমারে কালকে রাতে বিরানি খাওয়াসে।

- আচ্ছা ভালো। তাও কিছু পাইছিস। হ্যাঁ দিলি নাকি না?

- না'তে দিসি বস! আমি ইউনুসের বিপক্ষে।

- যা তোর আজকের শাস্তি মাফ করে দিলাম। ছাদে চেয়ার আর লাঠি আছে, গিয়া নিয়া আয়। গেইটের সামনে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেয়ারে বসে থাকবি।

মাসুদ ঠকাস করে একটা লম্বা স্যালুট দিয়ে চলে গেল।

 

-  কাপু
- একজন নির্বিবাদি লোক

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন